Printed on Fri Oct 23 2020 6:07:45 AM

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যা ঘটেছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট
ঢাকা: ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় ছিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে। অনেক লোকজনের আনাগোণাও ছিল সেদিন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর যাওয়ার কথা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। তার প্রস্তুতিও চলছিল। রাত গড়াতে থাকলে একে একে প্রায় সবাই বিদায় নেন।

বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী প্রয়াত মুহিতুল ইসলামের করা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর তাকে ডেকে তোলেন ৩২ নম্বর বাড়িতে কর্মরত টেলিফোন মিস্ত্রি।

ডেকে তুলে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ডাকছেন। তখন সময় ভোর সাড়ে চারটা কী পাঁচটা। বঙ্গবন্ধু বলেন, সেরনিয়াতের বাসায় দুষ্কৃতিকারীরা আক্রমণ করেছে। অনেক চেষ্টার পরও পুলিশ কন্ট্রোল রুমে টেলিফোন লাইন পাচ্ছিলেন না তিনি। গণভবন এক্সচেঞ্জে লাইনেও চেষ্টা করেন।

এরপর বঙ্গবন্ধু ওপর থেকে নিচে নেমে এসে জানতে চান, পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে কেউ ফোন ধরছে না কেন। এসময় মোহিতুল ফোন ধরে হ্যালো হ্যালো বলে চিৎকার করছিলেন। তখন বঙ্গবন্ধু তার হাত থেকে রিসিভার নিতেই দক্ষিণ দিকের জানালা দিয়ে একঝাঁক গুলি এসে ওই কক্ষের দেয়ালে লাগলো।

তখন অন্য ফোনে চিফ সিকিউরিটি মহিউদ্দিন কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। গুলির তাণ্ডবে কাঁচের আঘাতে আমার ডান হাত দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। এসময় জানালা দিয়ে অনর্গল গুলি আসা শুরু হলে প্রাণবাঁচাতে বঙ্গবন্ধুসহ তারা মেঝেতে শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর সাময়িকভাবে গুলিবর্ষণ বন্ধ হয়। ওই সময় ওপর থেকে কাজের ছেলে সেলিম ওরফে আবদুল বঙ্গবন্ধুর পাঞ্জাবি ও চশমা এনে দেয়। পাঞ্জাবি ও চশমা পড়ে বঙ্গবন্ধু বারান্দায় এসে দাঁড়ান এবং আর্মি সেন্ট্রি এবং পুলিশ সেন্ট্রির উদ্দেশ্যে জানতে চান- এতো গুলি চলছে তারা কী করছে?

এসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল নিচে নেমে আর্মি ও পুলিশদের ডাকেন। তখনই কালো পোশাক পরা একদল লোক এসে শেখ কামালের সামনে দাঁড়ায়।

মুহিতুল ও ডিএসপি নূরুল ইসলাম খান শেখ কামালের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নূরুল ইসলাম পেছন দিক থেকে টান দিয়ে মুহিতুলকে তার অফিস কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলির শব্দ। এসময় শেখ কামাল চিৎকার করে ওদের বলতে বলেন তিনি শেখ মুজিবের ছেলে। সে সময় নুরুল ইসলামকেও গুলি করে তারা।

মুহিতুল ইসলাম এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, নূরুল ইসলাম যখন তাদের রুম থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন; তখন মেজর বজলুল হুদা এসে মোহিতুলের চুল টেনে ধরে। সবাইকে নিচে নিয়ে গিয়ে লাইনে দাঁড় করায়। কিছুক্ষণ পর নিচে থেকে তারা বঙ্গবন্ধুর উচ্চকণ্ঠ শুনতে পান। এরপর গুলির বিকট শব্দ। মেয়েদের আর্তচিৎকার আর আহাজারি শুনতে পান তারা।

এরইমধ্যে শেখ রাসেল ও কাজের মেয়ে রুমাকে নিচে নিয়ে আসা হয়। রাসেল মোহিতুলকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করে- তাকে মারবে নাতো।

কিছুক্ষণ পর রাসেলকে তার মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রুমের মধ্যে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মেজর বজলুল হুদা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা মেজর ফারুককে জানায়, ‘অল আর ফিনিশড।’

সেদিন ঘাতকদের হাতে শহীদ হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

এছাড়াও ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পাননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ ও মেয়ে বেবি, সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধুর দু'কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে জান তারা।

ভয়েস টিভি/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ টিআর
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/9975
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2020 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ