Printed on Mon Jul 26 2021 5:42:44 AM

ক্লাবে মাতাল অবস্থায় অবস্থায় যা করেছিলেন পরীমণি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিনোদন
পরীমণি
পরীমণি
গ্রেফতারের আগে পরীমণির বিষয়ে এবার মুখ খুললেন আবাসন ব্যবসায়ী নাছির ইউ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বোট ক্লাব থেকে দামি ড্রিংস (মদ) জোর করে নেয়ার চেষ্টা করেছিলো পরীমণি ও তার সহযোগীরা। তারা তো আমাদের ক্লাবের মেম্বার না। তাই আমি তাদের নিতে দেইনি। এ কারণে তাকে আমি বাধা দিয়েছি এবং বলেছি যে- এটা নেয়া যাবে না। নিতে হলে অবশ্যই তোমাদেরকে মেম্বার হতে হবে।

ক্লাবের মেম্বার ছাড়া ওই মদ যে কারো কাছে বিক্রয়যোগ্য নয় উল্লেখ করে নাছির বলেন, ‘আমি তাকে (পরীমণিকে) বলেছি- এটা বিক্রয়যোগ্য না। তাছাড়া এতো রাতে আমাদের বার ক্লোজড্। তাই কোনোভাবেই সম্ভব না। তবে তার আগেই কোথা থেকে যেনো পরীমণি মদ পান করে এসেছিলো। ওই অবস্থাতেই আমাদের কাছে দামি মদ না পেয়ে সে উত্তেজিত হয়ে যায়, আমার উপর চড়াও হয় এবং বারের মধ্যেই একটার পর একটা কাঁচের গ্লাস ভাঙচুর করে। ওই সময়ে আমাকে সে গালিগালাজ করে। তখন আমাদের স্টাফরা তাকে থামানো চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে পরীমণির সঙ্গে থাকা ছেলেটা আমাকে চড়-থাপ্পর দেয়। এরমধ্যে পরীমণি আমার দিকে গ্লাস ছুঁড়ে মারলে তা আমার ঘাড়ে এসে লাগে। এমন পরিস্থিতিতে আমি সিকিউরিটিদের নির্দেশ দেই- তাকে সরিয়ে নিতে। তখন সিকিউরিটিরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। তখন পরীমণি অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলো, যে কারণে সে ঠিকমতো গাড়িতে উঠতে পারছিলো না। এ ঘটনার রেকর্ডও আমাদের সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ব্যবসায়ী নাছির আরও বলেন, ‘ঘটনার পরের দিনই আমাদের ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে একটি জাজম্যান্ট রিপোর্ট জমা হয়। যেখানে ক্লাবের স্টাফরা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। মূলত আমার সাথে তার (পরীমণির) কিছুই হয়নি। ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে আমি তার (পরীমণির) উশৃঙ্খল আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি মাত্র। তাছাড়া এই ঘটনার আগে আমি তাকে চিনতাম না।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া জানান, ‘৯ জুন বুধবার মধ্যরাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে পরীমণি বনানী থানায় এসেছিলেন। ওই সময় তিনি বেসামাল ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় কারও অভিযোগ নেওয়া যায় না।’

ওসি আরও বলেন, সেদিন মধ্যরাতে থানার দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার আমাকে জানান, ‘পরীমণি মদ্যপ অবস্থায় বলেছিল যে তাকে জোর করে মদ খাওয়ানো হয়েছে। তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছে। তবে পরীমণির কথায় নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাই ডিউটি অফিসার পরীমণিকে প্রথমে চিকিৎসা নিতে বলেন। চিকিৎসার পর অভিযোগ শোনার আশ্বাস দিয়েছিলেন।’

ওসি জানান, ‘এরপর পুলিশের একটি দল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে (অ্যাপোলো হাসপাতাল) নিয়ে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে পরীমণি আর অভিযোগ করেননি।’ তিনি বলেন, ‘বেসামাল অবস্থায় অভিযোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা রবিবার রাত পর্যন্ত তাকে বেশ কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তিনি মধ্যরাত পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেননি।’

আরও পড়ুন : ভয়াবহ রাতের বর্ণনা দিয়ে নির্যাতনকারীর নাম প্রকাশ করলেন পরীমণি

এদিকে, পরীমণির বনানীর বাসায় বনানী থানা পুলিশের সঙ্গে সাভার থানা পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাব হওয়ায় সাভার থানা পুলিশ বিষয়টি দেখভাল করবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা ঘটনার বিষয়ে অবগত। পরীমণির বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার তদন্ত স্থানীয় থানা (সাভার) পুলিশ করবে। আমরা কোনো তদন্ত করব না।’

এদিকে পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি নাছির ইউ মাহমুদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সাভার থানায় ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার করেন পরীমণি।

মামলার পরেই দুপুরের দিকে রাজধানীর উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডে নাছির উদ্দিনের বাসা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এতে নাছির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে আরও ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর আগে সকালে রূপনগর থানার মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করেন পরীমণি।

ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, পরীমণি নিজে বাদী হয়ে মোট ৬ জনের নামে এ মামলা করেছেন। মামলা নম্বর- ৩৮। এর আগে ১৩ জুন রোববার প্রথমে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে অভিযোগ তোলার পর রাতে সাংবাদিকদের বনানীর বাসায় ডেকে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন : পরীমণিকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যবসায়ী নাসিরসহ গ্রেফতার ৫
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/46811
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ