Printed on Wed Jul 28 2021 5:31:10 PM

ইজারার জন্যে প্রস্তুত ২ হাজার ৪শ পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
পশুর হাট
পশুর হাট
রাজধানীতে ২২টিসহ দেশে ২৪০০টি কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ইজারা প্রক্রিয়া চলছে। ফলে হাট বসবে এটা নিশ্চিত।

হাটে গরুবোঝাই গাড়ি যাতে নির্বিঘ্নে আসতে পারে সে জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় খামার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে।

তবে চলমান লকডাউন বাড়বে কি না, এ নিয়েই এখন বড় দুশ্চিন্তায় আছেন  খামারীরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এবার যথাযথভাবে গবাদি পশু জবাই দিতে ১২ হাজার ৩৪০ জন নিয়মিত কসাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মৌসুমি কসাইদের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ১৪০ জনকে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, এবার ঢাকার গোপীবাগ-কমলাপুর, গোলাপবাগ, আফতাবনগর, যাত্রাবাড়ীসহ মোট ২০টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে। গাবতলী স্থায়ী হাটসহ মোট ২১টি স্থানে শুরুর হাট বসবে। এর মধ্যে দক্ষিণে রয়েছে ১৩টি এবং উত্তরে রয়েছে সাতটি। গত বছর হাটের সংখ্যা ছিল ২৪টি।

হাটের সংখ্যা কম হওয়ায় করোনার ঝুঁকিও বেশি বলে মনে করছেন অনেক খামারি। তাঁরা বলছেন, হাটের সংখ্যা কম হলে গরু ও মানুষের ঘনত্ব বেশি হবে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। হাটের সংখ্যা বেশি হলে নির্ধারিত দূরত্ব বাজায় রেখে বিক্রি করা যাবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে কোরবানির প্রস্তুতি কার্যক্রম নিয়ে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার ঈদুল আজহায় কোরবানির যোগ্য এক কোটি ১৯ লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল ও ভেড়া এবং চার হাজার ৭৬৫টি উট-দুম্বা বিক্রির উপযুক্ত। গত বছর গরু-মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছিল ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশে ৯৫ লাখের মতো পশু কোরবানি হয়েছিল, যদিও প্রাক্কলন ছিল এক কোটি ১০ লাখ। বিপরীতে বাজারে আনার মতো পশুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ১৮ লাখের কিছু বেশি। সরকারি হিসাব অনুসারে এ বছরও যদি দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা এক কোটি ১০ লাখ ধরা হয়, তার পরও ৯ লাখ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘গত বছরের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এবার আরো বেশি গবাদি পশু প্রস্তুত করার পাশাপাশি তা পরিবহনে বিশেষ ব্যবস্থাপনা তৈরি করছি। আশা করি এবার দেশের গরু দিয়ে চাহিদা মিটবে।’

বিক্রেতারা আশাবাদী হলেও দুশ্চিন্তা রয়েছে ক্রেতার জন্য। এবার পশুর দাম গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। তাঁরা বলছেন, গোখাদ্যের উপকরণের আন্তর্জাতিক বাজার ছিল ব্যাপক চড়া। ফলে দেশে গোখাদ্য কিনতে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ দামে। গরু মোটাতাজাকরণে ৫০ শতাংশের বেশি লাগে এসব খাদ্য। তাই খামারিদের খরচও এবার বেশি। গরুপ্রতি এবার ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেশি হবে। অর্থাৎ গত বছর যে গরু এক লাখ টাকায় কেনা গেছে এবার তা কিনতে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি লাগবে।

ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে দেশে ১০টির বেশি গরু রয়েছে এমন খামারের সংখ্যা ১৪ লাখ। এর মধ্যে কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করে সাড়ে তিন লাখ খামারি। এর বাইরে ১০টির কম কোরবানির জন্য পশু মোটাতাজা করে এমন খামারের সংখ্যা সাত লাখের বেশি। দেশে যত গরু মোটাতাজা হয় তার ৯৫ শতাংশই ছোট আকৃতির, যার দাম ৬০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে। আর এসব গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এবার করোনায় মানুষের আয় কমে যাওয়ায় এ ধরনের গরুর চাহিদা আরো বাড়বে।

ভয়েস টিভি/ডি
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48065
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ