Printed on Wed Jul 28 2021 4:12:28 PM

ভুয়া টিকা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তুলকালাম : অসুস্থ হয়ে পড়লেন মিমি

নিজস্ব প্রতিবেদক
পশ্চিমবঙ্গ
পশ্চিমবঙ্গে তুলকালাম
পশ্চিমবঙ্গে তুলকালাম
করোনার ভুয়া টিকা দেয়ার ঘটনা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। ভুয়া টিকা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীসহ কয়েকজন রাজনীতিক।

রাজ্য বিজেপির দাবি, এ ঘটনার মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে হবে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে তদন্তের ভার দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে।

ভুয়া টিকা দেওয়ার ঘটনা প্রকাশের পরে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশও। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা সৈকত ঘোষের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আটক দেবাঞ্জন দেবকে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্রকে এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। তাঁর নির্দেশ, এ ঘটনায় পুলিশ যেন কোনো আপস না করে, সহানুভূতি না দেখায়।

মমতার এমন কড়া নির্দেশনার পরও রাজ্য বিজেপির নেতারা ভুয়া টিকাকাণ্ড নিয়ে সরব হয়েছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কলকাতায় ভুয়া টিকা দেওয়ার ক্যাম্প চলছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, একজন সাংসদও এই ভুয়া টিকা নিয়েছেন। আমার মনে হয়, এর পেছনে বহু প্রভাবশালী যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ গিনিপিগ নয়।’

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তাই সিবিআইকে দিয়ে এ ঘটনার তদন্ত করাতে হবে। তাহলেই বেরিয়ে পড়বে আসল দোষী ব্যক্তিদের নাম।

অনেকটা একই সুরে কথা বলেছেন বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পৌর করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অতীন ঘোষ ও তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে। তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা হবে না?

ভুয়া টিকাকাণ্ডের বিষয়ে সিবিআইয়ের তদন্ত চেয়ে গতকাল শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী আইনজীবী সন্দীপন দাস। আগামী সপ্তাহে মামলাটির শুনানি হতে পারে।

গত মঙ্গলবার কলকাতার কসবায় একটি কেন্দ্রে গিয়ে করোনার টিকা নেন তৃণমূলের সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। এ সময় তাঁকে দেওয়া হয়নি কোনো সনদ। জানানো হয়, মোবাইলে পাঠানো হবে টিকার সনদ। কিন্তু সেই সনদ না আসায় সন্দেহ হয় মিমির। পুলিশ ডাকেন তিনি। আটক করা হয় ওই কেন্দ্রের পরিচালক দেবাঞ্জন দেবকে। এরপরই কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, নিজেকে একজন আইএএস কর্মকর্তা ও কলকাতা করপোরেশনের যুগ্ম কমিশনার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুয়া টিকার কেন্দ্র চালাতেন দেবাঞ্জন। সরকারি স্টিকার বসানো গাড়িতে চড়তেন। ছিল সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীও। দেবাঞ্জন ১৩ জনের একটি দল তৈরি করে তাদের দিয়ে ভুয়া টিকা দেওয়ার কেন্দ্র পরিচালনা করতেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ১১ জনকে চিহ্নিত করেছে। দেবাঞ্জনের কসবার দপ্তরে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু ভুয়া করোনার টিকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/47512
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ