Printed on Fri Aug 19 2022 1:35:18 PM

শত পাত্রের ‘বউ’ সেজে কোটিপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ
পাত্রের
পাত্রের
‘পাত্র চাই’, বিজ্ঞাপনে ধনাঢ্য পাত্রদের টার্গেট করে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করতেন সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৮)। যে পাত্রের জন্য যেমন পাত্রী দরকার, ঠিক তেমনরূপেই নিজেকে উপস্থাপন করতেন সাদিয়া। প্রায় ১০ বছর ধরে শতাধিক পাত্রের সঙ্গে এভাবেই প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতের মাধ্যমে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এসব তথ্য উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সাদিয়াকে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা জানান, দৈনিক পত্রিকায় পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দিয়ে সাদিয়ার প্রতারণার অনেক তথ্য মিলেছে। তার কাছে থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়েরি, মোবাইল ফোন ও সিমকার্ডেই মিলেছে শতাধিক পাত্রের তথ্য। ইতোমধ্যে তদন্তের প্রয়োজনে ওই সব ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে সিআইডি। পাশাপাশি সাদিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার প্রতারণার কৌশল ও প্রতারকচক্রের বাকি সদস্যদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিমের বিশেষ পুলিশ সুপার সামসুন্নাহার বলেন, ‘রিমান্ডের প্রথম দিনে ঠিকমতো কথা বলেননি সাদিয়া। অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেছেন তিনি। তারপরও তার কাছ থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। যেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘সাদিয়ার প্রতারণার অন্যতম সহযোগী তার দ্বিতীয় স্বামীসহ অন্তত আরও চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা বলেন, সাদিয়া খুবই ধূর্ত প্রকৃতির। দ্বিতীয় স্বামীর অবস্থানের যে ঠিকানা দেয়া হয়েছিল, সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মনে হয়েছে, তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, দৈনিক পত্রিকায় একাধিক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতেন এই চক্রের সদস্যরা। সেখানে থাকত যোগাযোগের একাধিক মোবাইল নম্বর। প্রকাশিত বিজ্ঞাপন অনুযায়ী যিনি যোগাযোগ করতেন তার সঙ্গে কথা বলে তার ইচ্ছে জেনে সেই অনুযায়ী প্রতারণার কৌশল ঠিক করতেন তারা। এভাবে প্রায় ১০ বছরে শত শত পাত্রের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিমের জিজ্ঞাসাবাদকারী আরেক কর্মকর্তা বলেন, সাদিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন আলামতের মাধ্যমে শতাধিক পাত্রের সন্ধান মিলেছে। যাদের কাছ থেকে সাদিয়া বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সাদিয়াকে যেদিন গ্রেফতার করা হয়, ওই দিনই তিনি চারটি ব্যাংকে প্রায় ৪০ লাখ টাকার এফডিআর করেছেন। এ ছাড়া টার্গেট করা পাত্রদের কাছ থেকে সব সময়ই নগদ টাকা নিতেন তিনি। ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা গ্রহণ করতেন না। এ ছাড়া তার বাসা থেকে যেসব জমির দলিল উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলোও যাছাই করা হচ্ছে।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, প্রতারণার ক্ষেত্রে খুবই কৌশলী ছিলেন সাদিয়া। একজন পাত্রের সঙ্গে কথা বলার জন্য পৃথক একটি সিমকার্ডই ব্যবহার করতেন তিনি। একটি নম্বর দিয়ে যার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন, সেই নম্বর দিয়ে অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতেন না। টার্গেট করা পাত্রের সঙ্গে কথা বলা ও প্রতারণা শেষ হওয়ার পর ওই সিমকার্ড ফেলে দিতেন। আবার কখনো কখনো মোবাইল ফোন সেটটাও ফেলে দিতেন।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/15232
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ