Printed on Sun Jun 20 2021 1:07:26 PM

‘পিঁপড়ার ডিম বেইচ্যো আমগোর সংসার চলে’

নাঈম ইসলাম, শেরপুর
সারাদেশ
পিঁপড়ার
পিঁপড়ার
‘আমরা তো পাহাড়ে থাহি। আমগোর বাপ-মা অনেক কষ্ট করে সংসার চালাইতো। এহন বাপের (বাবা) অসুখ হওয়ায় বিছানায় পইড়ে গেছে। আমগোর এলাকার ১০ থেকে ১৫ জন পাহাড়ের গাছ-গাছালি থেইক্যা পিঁপড়ার ডিম পাইর‌্যা (সংগ্রহ) বেইচ্যো টেহা (টাকা) কামাই (আয়) করে। তাই আমিও তাদের দেহা-দেহি পিঁপড়ার ডিম পাইর‌্যা দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টেহা কামাই করি। ওই টেহা দিয়েই সংসার চলে আমগোর।’

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ের বাসিন্দা টেমাল সাংমা (১৮) ভয়েস টেলিভিশনের এ প্রতিবেদকের কাছে এভাবেই বর্ণনা করেন তাদের দুঃখগাঁথা। শুধু টেমাল নয় এ রকম আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে সংসার চালান।

জানা গেছে, পিঁপড়ার ডিম বড়শি দিয়ে মাছ শিকারে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পিঁপড়ার ডিম মাছের লোভনীয় খাবার। তাই মাছ শিকারিদের কাছে এ ডিমের অনেক চাহিদা। বর্তমানে ১ কেজি ডিম ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পিঁপড়ার ডিম

ডিম সংগ্রহকারী বিজয় সাংমা, মজিদ, নিরঞ্জনের ভাষ্যমতে, পাহাড়ে সাধারণত মেহগনি, আম, লিচুসহ দেশীয় গাছগুলোতেও ডোল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়। লালা ব্যবহার করে গাছের ডালের আগার দিকের চার-পাঁচটা পাতা জোড়া লাগিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে পিঁপড়ার দল। পরে সেখানে তারা ডিম পারে। বড় বাসা থেকে একশ থেকে দেড়শ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়। আশ্বিন-কার্তিক মাসের দিকে এই ডিমের চাহিদা থাকে বেশি। তবে সব থেকে বেশি ডিম পাওয়া যায় শীতের শেষ দিকে ফাল্গুন মাসে। কিন্তু সেই সময় ডিমের চাহিদা তেমন একটা থাকে না।

বাকাকুড়া এলাকার পিঁপড়ার ডিম ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক জানান, বাকাকুড়া, রাংটিয়া, গজনী, নকশির কয়েকজনের কাছ থেকে পিঁপড়ার ডিম পাইকারি কিনে রাখেন। পরে মাছ শিকারি ও শেরপুরের বিভিন্ন দোকানেও পাইকারি বিক্রি করেন তিনি। অন্য ব্যবসার পাশাপাশি এ ব্যবসা থেকেও আয় হয় বেশ। দিনে ৫ থেকে ১০ কেজি ডিম বিক্রি করতে পারেন বলে জানান তিনি।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/25674
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ