Printed on Fri Feb 26 2021 7:13:00 AM

বাসন মেজে উপার্জন করা মান্য সুন্দরী প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন
প্রতিযোগিতায়
প্রতিযোগিতায়
কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে শত বাধা সত্ত্বেও স্বপ্ন পূরণ যে হবেই তা দেখিয়ে দিলেন মান্য সিংহ। এক জন অটোচালকের মেয়ে মান্য সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছেন।

মান্যর জন্ম উত্তরপ্রদেশে। ছোট থেকেই অভাবের সংসার তাদের। অটোচালক বাবার রোজগার তেমন ছিল না। ঠিকমতো দু’বেলা খাবার জুটত না। খিদের জ্বালায় রাতের পর রাত ঘুমতেও পারতেন না।

সংসারে অভাব থাকলেও মা-বাবা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে গিয়েছেন মান্যকে স্কুলে পড়াতে, যতটা সম্ভব মুখে খাবার তুলে দিতে। মেয়ের স্কুলের টাকা দিতে টুকিটাকি যা সোনার গয়না ছিল একে একে সবই বন্ধক রাখেন মান্যর মা।

কিন্তু এই ভাবে আর কত দিন? মান্যর পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হয়েই গিয়েছিল। তার ওপর স্কুলে তার সঙ্গে কেউ বন্ধুত্বও করতে চাইত না। অটোচালকের মেয়ে হওয়ায় সহপাঠীরা তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলত। সে সবও যেন তার পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ক্রমে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় তার। বাড়ির কাজকর্ম নিয়েই সে থাকত সারা দিন। বাসন পরিষ্কার, ঘর পরিষ্কার— এ সব যেন দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছিল মান্যর কাছে।

মান্য

১৪ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ছোট্ট মান্য। কোনও ভাবে রোজগার করে পড়াশোনার টাকা জমাতে শুরু করে সে। দিনে পড়াশোনা, সন্ধ্যায় বাসন মেজে উপার্জন করে এবং রাতে কল সেন্টারে কাজ করতেন। এ ভাবে পড়াশোনাও শেষ করেন। সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে গাড়িতে না উঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে যাতায়াত করতেন।

দ্বিতীয় সেরার মুকুট মাথায় পরে মান্য নিজেই এই কথাগুলো বলছিলেন। তবে কী ভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে এলেন, কোথায় গেলেন এবং কী ভাবে উপার্জনের রাস্তা খুঁজে পেলেন, সে সব কিছুই স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। তবে জানান, এই সম্মান পাওয়া তার কাছে স্বপ্নের মতো। এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি।

রাত জেগে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন প্রতিযোগিতার জন্য। প্রতিযোগিতা থেকে প্রাপ্ত টাকা তিনি মা-বাবা এবং ভাইকে দিতে চান। আর মান্য নিজে হতে চান এক জন সফল মডেল।

স্বপ্ন পূরণ হয়েছে মান্যর। তিনি চান, তার মতো আরও অনেকে যেন অভাবের জন্য নিজেদের স্বপ্ন ভুলে না যান। কঠোর পরিশ্রম করে স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনুক তারাও।

সুন্দরী প্রতিযোগিতার পর মান্য নিজের কাহিনি নেটমাধ্যমের পাতায়ও জানিয়েছেন। অনুপ্রেরণা হয়ে আরও অনেকের স্বপ্ন পূরণ করাই স্বপ্ন এখন মান্যর।

সূত্র: আনন্দবাজার।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/35658
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ