Printed on Wed May 05 2021 9:17:45 PM

ফসলি জমিতে পুকুর, মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

ফরিদপুর প্রতিনিধি
সারাদেশ
ফসলি জমিতে
ফসলি জমিতে
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ফসলি জমিতে পুকুর কাটা হচ্ছে। সেই মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। এমনই অভিযোগ উঠেছে উপজেলার চালিনগর গ্রামের আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, চালিনগর মাঠে তার এক দাগে ১৮০ শতক ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে পুকুর কাটাচ্ছেন তিনি। আর ছোলনা গ্রামের ব্যবসায়ী সাহেব আলী এ জমির মাটি ক্রয় করে স্থানীয় ইট ভাটাসহ বিভিন্ন যায়গায় বিক্রি করছেন। একটি এসকেবিউটর (বেকু) দিয়ে একপাশ থেকে মাটি কেটে পাড় বাঁধা শুরু করেছে।

মাটি কাটা তদারকি করতে থাকা সাহেব আলীর ছেলে হাসান বলেন, মাসিক এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় বেকু ঠিক করা হয়েছে। বেকুর তেলও তাদের দিতে হয়। কিছু পরিমাণ টাকা জমির মালিককে দিতে হবে। তবে টাকার নির্দিষ্ট পরিমান কেউ বলতে রাজি হননি।

এ সময় জমির মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, চার পাশে পাড় বেঁধে দিয়ে মাটি নিয়ে যাবে। টাকা পয়সার কোন ব্যাপার নেই।

অপরদিকে সাতৈর ইউনিয়নের জয়নগর মাঠে (কার্বন ফ্যাক্টরীর উত্তর পাশে) জমি থেকে বেকু দিয়ে মাটি কেটে পাঠানো হচ্ছে পাশের একটি ইট ভাটায়। দুটি ড্রেজার বসিয়ে একই যায়গার পুকুর থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে মাটি। এ জমির মালিক হিরু মুন্সী প্রথমে স্বীকার করতে চাননি।

পরে অবশ্য হিরু মুন্সী বলেন, ওই জমি থেকে কিছু মাটি তাঁর কার্বন ফ্যাক্টরীর ভিতর নিয়েছেন। আর কিছু মাটি লেলিনের ভাটায় বিক্রি করা হয়েছে। শুধু চালিনগর বা জয়নগর মাঠ নয়, উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে ফসলি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় নেয়া হচ্ছে।

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা কৃষি জমির মটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। কখনও কখনও ভাটা মালিক ও ব্যবসায়ীরা প্রলোভন দেখিয়ে কৃষি জমির মাটি বিক্রি করতে উৎসাহিত করছে জমির মালিকদের। বিশেষ করে উপজেলার দুটি অটো ভাটা শেখর ইউনিয়নের ভাটপাড়ার আল আলী অটো ব্রিক ও সাতৈরের ন্যশনাল অটো ব্রিকসে মাটির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

শেখর গ্রামের কৃষক শাহজাহান বলেন, অটোভাটা যেভাবে ফসলি জমির মাটি নিয়ে যাচ্ছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মাঠ সব পুকুর হয়ে যাবে। হিরু মুন্সীও বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এভাবে মাটি কাটা হলে ফসলি জমি আর থাকবে না।

ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার ফলে উপজেলায় কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার আশংকা রয়েছে। ইট ভাটা স্থাপন ও কৃষি জমি রক্ষার জন্যে আইন থাকলেও তা কেউ মানছে না।

উপজেলায় দুটি অটো ব্রিকসহ ১৭টি ইট ভাটা রয়েছে। এ ১৭টি ভাটায় ইট তৈরিতে প্রতিদিন কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট মাটি। আর এই মাটির সবটুকু যোগান দিচ্ছে ফসলি জমি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভাটা মালিক বলেন, অধিকাংশ ভাটা মালিকই এখন কৃষি জমি থেকে মাটি নিচ্ছে। এর বাইরে মাটির কোনো উৎস তাদের এখানে নেই।

ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শ্যামল কুমার সাহা বলেন, কৃষি জমি থেকে মাটি নেয়া বেআইনি। মরা খাল, মজা পুকুর থেকে নেয়া যেতে পারে। এবারে প্রকৃতি খুবই বিরুপ। বৃষ্টি, কুয়াশা, করোনা, তার ওপর সরকার ইট কাটার লাইসেন্স দিছে। কিন্তু মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে ভাটা মালিক সমিতি জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছেন। সরকার অনুমতি দিলে নিয়ম-নীতি মেনে নদী থেকে মাটি কাটলে সবারই লাভ। সরকারের টাকা খরচ করে নদী কাটা লাগবে না। বরং রাজস্ব পাবে। ভাটা মালিকদের লাভ তারা মাটি পাবে। জনগণের লাভ মাছ আর নদী পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, জমির উপরিভাগ চাষবাস করার জন্যে জনগণ ব্যবহার করতে পারবে। সরকারকে ভূমি কর দেয়ার মাধ্যমে জমির মালিক এ অধিকার অর্জন করে। কিন্তু নিচের অংশ সরকারের। ইট প্রস্থত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন অনুযায়ী ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করা যাবে না।

তিনি জানান, ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এজন্যে কোথাও মাটি কাটার খবর পেলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাটি কাটা বন্ধ করে দেন। ইতোমধ্যে দুটি ইট ভাটাকে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দিয়েছেন। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ভাটা মালিকরা মাটি কাটতে পারবে।

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/30272
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ