Printed on Mon May 17 2021 1:30:20 AM

বঙ্গবন্ধুর নামে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বমানের ফায়ার একাডেমি

শহিদুল ইসলাম সাহেদ
জাতীয়
ফায়ার একাডেমি
ফায়ার একাডেমি
ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের জন্যে দেশে আধুনিক সুুবিধা সম্পন্ন কোনো প্রশিক্ষণ একাডেমি নেই। রাজধানীর মিরপুরে ছোট পরিসরে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। যেখানে একসঙ্গে ১ শ থেকে ১৫০ এর বেশি জনবলকে প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব না। তবে এবার প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বমানের একটি ফায়ার একাডেমি তৈরি হচ্ছে দেশে। যেখানে ভবন রেস্কিউ থেকে শুরু করে প্লেন ফায়ার, প্লেন ক্র্যাশিং, বিল্ডিং কালাপ্স, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস এর মতো সব দুর্যোগ মোকাবিলায় বাস্তব প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামেই হচ্ছে এ ফায়ার একাডেমি।

ভয়েস টেলিভিশনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান এসব কথা জানান। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন ভয়েস টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক শহিদুল ইসলাম সাহেদ।

ফায়ার সার্ভিসের অন্যতম এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় শত একর জমিতে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বঙ্গবন্ধু ফায়ার একাডেমি। এ প্রকল্পে আড়াই শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রতিটা উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে স্টেশন তৈরির কাজ চলমান থাকায় এ বিভাগে জনবলও অনেক বাড়ছে। ২০২২ থেকে ২৪ সাল নাগাদ দেশের ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে অন্তত ৭শ। বর্তমানে ৪৪৮-এর মত ভবন নির্মাণ চলমান। সারাদেশে ৮০ টার মত স্টেশনে কাজ চলছে। এছাড়া বিভাগটিকে আধুনিক করতে বেশি কিছু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। এসব পরিচালনায় প্রশিক্ষণের চাহিদা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ হলো মূল বিষয়। প্রশিক্ষণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটির কাঠামো মজবুত হয়। এ জন্যে ফায়ার সার্ভিসেও প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সময়ের বাস্তবতা উপলব্ধি করে একটি বিশ্বমানের ফায়ার ট্রেনিং একাডেমি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সে জন্য মুন্সিগঞ্জ গজারিয়ায় ১ শ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এর জন্যে আড়াই শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

অধিগ্রহণ শেষ হলে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। সাংহাই, দুবাই , সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়াসহ উন্নত বিশ্বের মডেলে একটি বিশ্বমানের ফায়ার একাডেমি নির্মাণ হবে।

এখানে ফায়ার কর্মীদের লেভেল অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ করে এখানে থাকবে অত্যাধুনিক লেন্স লাইট, সিফট ফায়ার, প্লেন ফায়ার, প্লেন ক্রাশিং, বিল্ডিং কালাপ্স, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস এর মতো যত ধরনের দুর্যোগ আছে তা মোকাবিলা করার প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।

এছাড়াও রেল, বাস দুর্ঘটনাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকবে। সবমিলিয়ে পুরো একাডেমিতে থাকবে বিজ্ঞানভিত্তিক নানা স্থাপনা ও কারিকুলাম।

এ পরিচালক জানান, একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। আশা করি বঙ্গবন্ধু ফায়ার একাডেমি দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং আমরা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করতে পারবো।

অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে যেমন আনসার, বিজিবিসহ দেশের সব বাহিনীর নিজস্ব প্রশিক্ষণ একাডেমি রয়েছে। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের জন্য এমন নির্দিষ্ট কোনো একাডেমি এখনো তৈরি হয়নি। কাজ সম্পন্ন হলে এটিই হবে দেশের প্রথম ও বৃহৎ ফায়ার একাডেমি

আরও পড়ুন : চলতি মাসেই বিশ্বমানের আইসিইউ ইউনিট করছে গণস্বাস্থ্য

ডুবুরিদের যে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় সেই মানের প্রশিক্ষণ এখানে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মিরপুরের ফায়ারের প্যারেড গ্রাউন্ড ছোট থাকায় এখানে ফিজিকেল ইস্টেমিনা ( মানব দেহের স্বাভাবিক জীবনী শক্তি ) ওইভাবে নেয়ার মতো যায়গা থাকে না।

জিল্লুর রহমান জানান, মাঝে মাঝে ৪ শ থেকে ৫ শ ফায়ারম্যান একসঙ্গে নিয়োগ হলে ফায়ার সার্ভিসকে ট্রেনিং জটিলতায় পড়তে হয়। কারণ মিরপুর ট্রেনিং সেন্টারে ১০০ থেকে ১৫০ জনের বেশি জনবল একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেয়া যায় না। নেই ভালো কোনো প্যরেডের ব্যবস্থা। বাধ্য হয়ে নতুন নিয়োগ হওয়া জনবলকে রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের স্টেশনগুলোতে পাঠাতে হয়। সেখানে ডিজিসহ অন্যান্য প্রশিক্ষকবৃন্দকে বিভাগগুলো ঘুরে ঘুরে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। এতে ট্রেনিংয়ের মানেও পার্থক্য থাকত। কারণ, কেন্দ্রীয়ভাবে যেসব প্রশিক্ষক দিয়ে ট্রেনিং করানো হয় তাদের সবাইকে বিভাগীয় শহরে একযোগে পাঠানো সম্ভব হয় না।

তার দাবি, ফায়ারে ট্রেনিংয়ে সিমুলেটর প্রয়োজন। বিভিন্ন জায়গায় বিধ্বস্ত ভবনের ভিতর ঢুকে রিস্কিউ করা হয়। যেমন রানা প্লাজার ভিতরে ঢুকে রেস্কিউ করা হয়েছিলো। কিন্তু বাস্তবে ফায়ারে এ ধরনের সরাসরি ট্রেনিং নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাজ করতে হয়। তাই নতুন একাডেমিতে এই ধরনের সিমুলেটর বা ডামি থাকবে। যেখানে তিন তলা, চারতলা ভবন ভেঙে পড়লে যে অবস্থা হয় এরকম কাঠামো বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া এই একাডেমিতে একটা ফায়ার চেম্বার করা হবে চেম্বারের ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হবে। এ চেম্বারের ভিতর প্রশিক্ষণার্থীদের ঢুকিয়ে দেয়া হবে আগুনের প্রচণ্ড ধোঁয়ায় পুরা ছাদ ছেয়ে যাবে টেম্পারেচার বাড়তে থাকবে এই টেম্পারেচারে নিজেকে সহনশীল করতেই এই ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা হবে।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/31142
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ