Printed on Fri May 14 2021 4:40:42 PM

নুসরাত হত্যার ২ বছর, ছোট ভাইয়ের আকুতি ‘খুনিদের ফাঁসি কার্যকর’

ফেনী প্রতিনিধি
সারাদেশ
বছর
বছর
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার দুই বছর আজ। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৬ আসামির সবাইকে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। নুসরাতকে হারিয়ে তার পরিবার আজও ডুকরে কাঁদে। তার পরিবারের সবার একটাই চাওয়া দোষীদের রায় কার্যকর।

নুসরাত জাহান রাফির ছোটভাই রাশেদুল হাসান রায়হান তার ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্টাটাস দেন। বোন হারানোর বেদনা তার লেখার ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে। স্টাটাসটি পাঠকের উদ্দেশে হুবহু তুলে ধরা হলো।

আজ ১০ এপ্রিল। আমার প্রিয় বোন হারানোর দুই বছর। ঝড়ের বেগে যে উল্কাপিণ্ডের মতো আঘাত আমাদের পরিবারকে ক্ষতবিক্ষত করেছিল, সেই ক্ষত, সেই আঘাত এতোটুকুও শুকাইনি। এখনো দগদগে। বোনের স্মৃতি, আর্তচিৎকার আজও আমার কানে বেগে বেজে উঠে। শিউরে উঠে দেহের শিরা উপশিরা।

কাজের মাঝেও চলে আসে ক্লান্তি। চারদিক যেন নিরব-নিস্তব্ধ ও অন্ধকার হয়ে আসে। অশ্রুহীন চোখে কান্নার শক্তিও যেন আজ আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

অসহায়ের মতো সেদিন কেবলই চেয়েছিলাম পারওয়ারদিগারের ফায়সালার দিকে। দুনিয়ার সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে আজকের দিনটিতে আপু না ফেরার দেশে চলে গেলেন। সেই যাওয়ার আজ দুই বছর পার করেছি। কিন্তু আমাদের পরিবার বোনের উপস্থিতি ক্ষণিকের জন্যও ভুলে থাকতে পারেনি। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে আমাদের প্রতিনিয়ত।
হারানোর এই ব্যথা স্রষ্টা বিনে বুঝার সাধ্যও কারও নেই। অনুভূতিহীন সব ব্যথার নাম আমাদের কান্না, হৃদেয়ের রক্ষক্ষরণ।

ভাই বোনের সম্পর্ক বোধহয় এমনি! যেদিন আপু আগুনে পুড়ে হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছিলো, সেদিন মনে হয়েছিলো তার কষ্টের সবটুকু আমি ধারণ করি। নিজের সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে বলেছিলাম কেঁদো না, তোমার ভাইতো পাশেই আছে। হুম! পাশেই থাকবো। যতদিন না সেসব নরপিশাচ কুলাঙ্গারেরা আপন পাপের হিসেব শেষে ফাঁসির মঞ্চে দাড়াঁবেন, ততোদিন ভাই হিসেবে আমি-আমরা পাশেই থাকবই।

২০১৯ সালের ১০এপ্রিল। ঘটনার পরপর বাংলাদেশসহ বিশ্ববিবেককে চরম ভাবে আহত করেছিলো এই নৃশংস ঘটনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একান্তভাবে কাছ থেকে আমাদের ও পরিবারের খোঁজ রাখছেন। পাশেই আছেন আমাদের। যার জন্যে আমরা কৃতজ্ঞ।

সাথে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠন শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন। যাতে আমাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা-প্রত্যাশা আরও অনেক বেড়েছে। আমার পরিবার কোনদিন আপনাদের এই ঋণ ভুলবে। আপনাদের এই ঋণ শোধ করবারও নয়।

আরও পড়ুন: হারিয়ে যেতে বসেছে সোনাগাজীর ঐতিহ্যবাহী পান

আমরা আহ্বান করব, মহামান্য আদালত খুনিদেরকে যে সর্বোচ্চ রায় দিয়েছে আশা করি উচ্চ আদালতও খুনিদের সর্বোচ্চ রায় বহাল রাখবে এবং অনতিবিলম্বে আমার বোনের হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি দৃষ্টান্তমুলক উদাহরণ সৃষ্টি করবেন। যাতে করে আমার বোনের মতো আর কোন নুসরাতকে এমন নৃশংস খুনের শিকার হতে না হয়। এটাই আমাদের এবং সকলের একমাত্র চাওয়া, একমাত্র দাবিও।

সবশেষে মহান আল্লাহর নিকট আকুল আবেদন, হে আল্লাহ আমার বোনকে পরপারে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে তোমার জান্নাতের মেহমান করে নিও। আমাদের পরিবারকে র্দৈয্য ধরার তাওফিক দিন।

আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যা: ফাঁসির আসামির মুক্তির জন্য আওয়ামী লীগের দোয়া

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/41451
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ