Printed on Tue May 11 2021 7:32:39 AM

মামুনুলের বিরুদ্ধে ঝর্ণার ধর্ষণ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
বিরুদ্ধে
বিরুদ্ধে
হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন তার কথিত ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ জান্নাত আরা ঝর্ণা।

৩০ এপ্রিল শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে জেলার পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান।

এজাহারে বলা হয়েছে, শহীদুল ইসলামের সঙ্গে ঝর্ণার দাম্পত্য জীবন ‘সুখে শান্তিতে’ অতিবাহিত হচ্ছিল। তাদের ১৭ ও ১৩ বছর বয়সী দুই সন্তান আছে। স্বামীর ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে ২০০৫ সালে মামুনুল হকের সঙ্গে ঝর্ণার পরিচয় হয়।

বাদীর অভিযোগ, তাদের বাসায় অবাধ যাতায়াত থাকার সুবাধে ছোটখাটো সাংসারিক মতানৈক্যের মধ্যে মামুনুল ‘সুকৌশলে’ প্রবেশ করে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। সাংসারিক টানাপড়েনের এক পর্যায়ে মামুনুলের ‘কুপরামর্শে’ ২০১৮ সালের ১০ অগাস্ট শহীদুলের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়।

এই নারী অভিযোগ করেছেন, বিচ্ছেদের পর ‘তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে’ মামুনুল তাকে ঢাকায় আসার জন্য ‘প্ররোচিত’ করেন। ঢাকায় আসার পর তার পরিচিত বিভিন্ন অনুসারীর বাসায় রেখে মামুনুল নানাভাবে তাকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় মামুনুলের পরামর্শে কলাবাগানে এক বাসায় সাবলেট থাকতে শুরু করেন জানিয়ে বাদী অভিযোগ করেছেন, ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে এবং ‘অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে’ মামুনুল হক তার সঙ্গে ‘শারীরিক সর্ম্পকও’ করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল ‘করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ’ করতে থাকেন।

এজাহারে বলা হয়, ঘোরাঘুরির কথা বলে ২০১৮ সাল থেকে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে বাদীকে নিয়ে যেতেন। ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে ঘুরতে নিয়ে গিয়েও মামুনুল তাকে ‘ধর্ষণ করেন’।

সেদিন সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টের একটি কক্ষে ওই নারীসহ মামুনুলকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় খবর পেয়ে হেফাজত ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে ঝর্ণাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন মামুনুল। পরে তাকে তাদের বাসায় উঠতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় আটকে রাখেন; কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেননি। পরে তার বাবার আবেদনের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই দিনের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভাঙচুর করেছে। পুলিশ গিয়ে তাদেরকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে হেফাজতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

রিসোর্টে মামুনুল হককে অবরুদ্ধ ও সহিংস ঘটনার উদ্ভূদ পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশাররফ হোসেনকে বদলি করা হয়।

এর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।

পুলিশ তখন জানায়, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) জান্নাত আরা ঝর্ণা শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমার সাথে অন্যায় করেছে ও প্রতারণা করেছে। আমি রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাই।”

আরও পড়ুন: মামুনুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/43305
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ