Printed on Sun May 09 2021 5:13:22 AM

বিশেষজ্ঞদের মতে দেশে যেসব কারণে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে
বিশেষজ্ঞদের মতে
ড. সমীর কুমার সাহা, অধ্যপক তাহমিনা ও ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
দেশে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছিল নিম্নমুখী। এরপর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয় মার্চ মাসে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ যেমন তীব্রতর, সেইসঙ্গে গুরুতর রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যাও প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় অনেক বেশি। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানেই তা দেখা যাচ্ছে। করোনার এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের পেছনের কারণ নিয়ে দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন বিভিন্ন তথ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় এই ঊধ্বমুখী সংক্রমণ। আর ভারতের ভ্যারিয়ান্ট ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

করোনা বিশেষজ্ঞ অণুজীববিজ্ঞানী ড. সমীর সাহা বলেন, ‘আমরা বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে সৈকত-সব জায়গায় গিয়েছি। এ কারণেই ভাইরাস এত বেশি হারে আমাদের মধ্যে এসেছে। ভাইরাস যখন শরীরে আসে, তখন সে সংখ্যাবৃদ্ধি করে এবং এর মধ্যে মিউটেশন হয়। একইভাবে বিস্তারও ঘটে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সব জায়গায় ঘুরে বেড়ানো বা জনসমাগম সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ।’

এ ছাড়া ড. সমীর সাহা জানিয়েছেন, গবেষণায় আরও কয়েকটি কারণ তারা পেয়েছেন।

‘আমাদের এখানে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট এসেছে। এগুলোর বিস্তার হয়েছে সব জায়গায়। সব কিছু মিলিয়েই এই অবস্থা হয়েছে’, বলেন ড. সমীর সাহা।

ড. সমীর সাহা বলেছেন, এর বাইরে আরও কারণ থাকতে পারে। সেগুলো চিহ্নিত করে বিশদ গবেষণা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এর কর্মকর্তারাও তাদের গবেষণায় একই ধরনের কারণ দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেছেন, গবেষণায় ঘাটতির কারণেও সংক্রমণ তীব্রতার কারণ বুঝতে বিলম্ব হয়েছে।

সানিয়া তাহমিনা বলেন, ‘গবেষণা করার মতো প্রতিষ্ঠানের অভাব আছে। এবং মুশকিল হয়েছে যে, গবেষণাগুলোর ওপরও সাধারণ মানুষ এবং নীতি-নির্ধারকেরাও অনেক সময় পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না। যার ফলে এই যে ভ্যারিয়ান্ট এসেছে-এটা কিন্তু আমরা দুই-তিন মাস পর জানতে পারলাম।’

এদিকে, ভারতে কোভিড পরিস্থিতি যে খারাপ হচ্ছে, সে ব্যাপারেও বাংলাদেশের নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বিশ্লেষকেরা।

ড. সমীর সাহা বলেছেন, ভারত, পাকিস্তানসহ এই উপমহাদেশে বড় আকারে করোনার ঢেউ এসেছে।

অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে যে ট্রিপল মিউটেটেড ভাইরাস এসেছে, সেটা বাংলাদেশে এলে পরিস্থিতি কী হবে-সেটা ভাবলে গা শিউরে ওঠে।’ তিনি মনে করেন, ভারতে সংক্রমণের ধরন নিয়ে বিশ্লেষণ করে এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশেষজ্ঞেরা ভারতে সংক্রমণের গতিবিধির দিকে নজর রাখছে।

সরকারের বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক মো. শহীদল্লাহ বলেছেন, ‘যখন আমাদের সংক্রমণ কমতে শুরু করল, তখনও আমরা বলেছি যে, আমাদের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

‘প্রতিরোধ ও হাসপাতালের সেবা-দুটি বিষয়েই প্রস্তুত থাকার কথা আমরা বলেছিলাম’, যোগ করেন অধ্যাপক মো. শহীদল্লাহ।

অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ আরও বলেন, ‘এটাও আমরা পরিষ্কার বলেছি যে, এই মহামারি বিশ্ব থেকে কবে যাবে-এটা কেউ বলতে পারছে না।’

‘এটা বুঝতে পারলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে যা যা করণীয়-তার সবই আমাদের করতে হবে’, বলেন অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর দুই সপ্তাহের লকডাউন দেয়া হয়।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/42694
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ