Printed on Fri May 14 2021 5:26:58 PM

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে হাজারো স্বপ্ন কুড়িগ্রামবাসীর

মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম
সারাদেশ
বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয়
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণায় হাজারো স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে পিছিয়ে পড়া উত্তরের সবশেষ জেলা কুড়িগ্রামবাসী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত সোমবার মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিরা বৈঠকে যোগ দেন। এই ঘোষণায় কুড়িগ্রামে চলছে আনন্দ উৎসবের জোয়ার। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রæতি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ তিস্তা দ্বিতীয় সেতুর উপর দিয়ে রেল সেতু স্থাপনের দাবি।

২০১৫ সালের ১৫অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রাম সফর করেন। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে দলীয় সমাবেশ বক্তব্য দেবার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,“ভবিষ্যতে কোনদিন এই এলাকায় মঙ্গা আর থাকবে না। এই শব্দ মানুষ ভুলে যাবে। এই কুড়িগ্রামে সরকারি অথবা বেসরকারিভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করে দেবো। কুড়িগ্রামে কৃষি উৎপাদনে আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছি। নদী গুলি আমরা ড্রেজিং করে দিবো। নাব্যতা ফিরিয়ে আনবো। সেই সাথে সাথে এখানে শিল্প-কলকারখানা যাতে গড়ে ওঠে তার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবো।” তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী সরকারিভাবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পেতে যাচ্ছে। এতে করে জেলাবাসী স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে অভাবী আর দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে মুক্তি পাওয়ার।

বেলগাছা ইউনিয়নের কেতার মোড় এলাকার বাসিন্দা মোজাফফর আলী বলেন,প্রধানমন্ত্রীর ২০১৫সালে কলেজ মাঠে ভাষণের পর প্রশাসনের লোকজন এখানে এসে এই জায়গাটি দেখে গেছেন। সেই সময় থেকে আমরা গুঞ্জন শুনতাম একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এরপর হঠাৎ করে শুনতে পাই গতবছর টগরাইহাট এলাকাতেও জায়গা দেখেছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা শোনার পর আমরা এই এলাকার বাসিন্দারা চাই এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি হোক। কেননা কেতার মোড় এলাকায় হলে কলাহল মুক্ত মনোরম পরিবেশ আর যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভালো। এখান থেকে ঢাকার সাথে প্রায় ১শ কিলোমিটার রাস্তা কমে যাবে। কেননা চিলমারী-গাইবান্ধায় ২য় তিস্তা সেতু নির্মিত হচ্ছে। ফলে কুড়িগ্রাম-ঢাকা ব্যয় ও সময় কমে আসবে। পক্ষান্তরে টগরাইহাটে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ভোগান্তি থেকেই যাবে। এখন যেমন কুড়িগ্রাম-রংপুর হয়ে ঢাকা যেতে হয়। তেমনি তখনও সেটাই থাকবে। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম শহরের উপর চাপ তৈরি হবে।

একই এলাকার বাসিন্দা জমশেদ মিয়া বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণায় এলাকার মানুষ খুবই খুশি। সরকার যে উদ্যোগটা নিছে তাতে করে কুড়িগ্রামের অভাব দূর হবে। মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে।

টগরাইহাট এলাকার বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন,প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করি। তিনি কুড়িগ্রামে এসে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন সেটি দেরি হলেও বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে। এই খুশির কথা ভাষায় বুঝানো যাবে না। শহর থেকে টগরাইহাটের কাছাকাছি হওয়ায় আমরা চাই এখানেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি হোক।

সমাজকর্মী ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদের বলেন, বরাবরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেক দৃষ্টি কুড়িগ্রামের জন্য ছিল। জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে একান্তই তার প্রচেষ্টা। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে দারিদ্রপীড়িত আর অভাবি এলাকার কলংক ঘুচিয়ে যাবে। এই জেলার মানুষের কর্মসংস্থানের সংকট দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটিও বাস্তবায়নের জন্য তিনি উদ্যোগ নেবেন। এছাড়াও মেডিকেল কলেজ এবং ঢাকার সাথে কম সময়ে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য চিলমারী-গাইবান্ধায় ২য় তিস্তা সেতুর উপর রেল সংযোগ স্থাপনের দাবি করছি।

আরও পড়ুন- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগে অনুমোদন নিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

৯ম শ্রেণির ছাত্রী মিষ্টি বলেন,বানভাসী আর অভাবি জেলা হিসেবে বর্তমানে কুড়িগ্রামকে রিপ্রেজেন্ট করে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে এই দুর্নাম চলে যাবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তখন এই জেলাকে রিপ্রেজেন্ট করবে। ভষ্যিতে আমরা নতুন প্রজন্ম এইবিশ্ববিদ্যালয় বাড়ি থেকেই পড়ার সুযোগ পাবো।

১০ম শ্রেণির ছাত্রী বুলবুলি খাতুন জানান,কুড়িগ্রাম দেশের বাল্যবিয়ের হারের দিক দিয়ে প্রথম। এই বিশ্ববিদ্যালয় হলে এই অঞ্চলের মেয়েদের পড়ালেখা সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে করে বাল্যবিয়ের হার বন্ধ হবে।

একই  শ্রেণির ছাত্র রাকিবুল ইসলাম জানান, পরিবারের অনেকের অস্বচ্ছলতার কারণে উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতো অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী। দ্রুত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ণ হলে আমরা নতুন প্রজন্মের জন্য কুড়িগ্রামকে সারাদেশের তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হলো।

অভিভাবক রেবেকা বেগম বলেন, সংসারের টানা পোড়েনের জন্য অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বাইরে পড়ানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এখন আমাদের এখানেই বিশ্ববিদ্যালয় হলে ঘরে থেকেই লেখাপড়ার সুযোগ পাবে।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি জাফর আলী জানান, বঙ্গবন্ধুর কন্যা যে প্রতিশ্রুতি দেন তার বাস্তবায়ন তিনি করেন তারই উদাহরণ দেখলো দেশবাসী। প্রধানমন্ত্রী কাছে তিনি জেলার কর্মসংস্থান সংকট দূর করতে অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগত অনুমোদনের কথা জানতে পেরেছি। তবে এই বিষয়ে এখনো কোন চিঠি আসেনি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশনা আসলেই সেই মোতাবেক আমরা কাজ করব।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি নির্ধারণ করার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে জায়গার বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে। জেলার আর্থসামিজক উন্নয়নে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি মাইলফলক ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

এদিকে কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণায় জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। শহরের শাপলা চত্বর সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় হতে আনন্দ মিছিলটি শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে মিষ্টি মুখ করা হয়।

এসময় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি জাফর আলী, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/29374
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ