Printed on Tue Aug 03 2021 10:44:58 AM

রয়েল বেঙ্গল টাইগারই বিশ্বসেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়ভিডিও সংবাদ
বেঙ্গল
বেঙ্গল
বাঘকে বলা হয় ‘জঙ্গলের শাসক’। বাঘই হচ্ছে এমন বন্যপ্রাণী, যাকে নিয়ে বিশ্বের প্রায় সব জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা করা হয়, যাকে নিয়ে বিস্ময়ের ও প্রশংসারও শেষ নেই। বাঘ এমন একটি প্রাণী, যাকে ভালোও বাসা হয়, আবার যমের মতো ভয়ও পাওয়া হয়। তবে মূলত বাঘ তাদের বন্য ও হিংস্র রূপের জন্যই বেশি পরিচিত। বিশ্বে প্রায় বিভিন্ন ধরনের বাঘ দেখতে পাওয়া যায়।

সবচেয়ে বিখ্যাত হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার; আরো রয়েছে সাইবেরিয়ান টাইগার, মালায়ান টাইগার ইত্যাদি। পাশাপাশি এই ভয়ংকর-সুন্দর প্রাণীটি কিন্তু একটি-দুটি দেশের জাতীয় পশু নয়; মোট ৬টি দেশের জাতীয় পশু হিসেবে বাঘ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মায়ানমার এবং সাইবেরিয়া। চলুন আজ বাঘ সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যাক, যেগুলো হয়তো অনেকেরই অজানা।

বন্যা-জলোচ্ছ্বাসের সময় উপকূলের অতন্ত্র প্রহরী হয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দরব বুক পেতে রক্ষা করে প্রিয় বাংলাদেশকে। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের পাহারাদার রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বাংলাদেশের অহংকার ও জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাঘের প্রজাতি হিসেবে বিশ্বসেরা। শুধু তাই নয় বিশ্বে যত বাঘ রয়েছে তার অর্ধেকেরও বেশি এই বেঙ্গল টাইগার।

বেঙ্গল টাইগারের মতো সুন্দর ও ক্ষীপ্রগতির বাঘ পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। হলদে ডোরাকাটা রং এই বাঘকে অন্যসব প্রজাতির বাঘ থেকে করেছে আলাদা ও অনন্য। বনজীবীদের কাছে বাঘ মামা নামে পরিচিত ও পূজনীয় হলো বাঘ সতর্কতা,বুদ্ধি মত্তা,শক্তিও ধৈর্য্যের জন্যেও সেরা। পৃথিবীর ভয়ংকর সুন্দর এই প্রাণীটি দিনদিন আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে।

প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা বলছেন বিশ্বে বেঙ্গল টাইগারসহ ৯ প্রজাতির বাঘ দেখা যায়। এছাড়া বর্ণ ভেদে সাদা, কালো, সোনালী ও মাল্টিজ এই চার প্রজাতির বাঘ দেখা যায় বিশ্বে। দিন দিন বাঘ বিলুপ্ত হচ্ছে। ১৯৮৭ সালে অতি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে বাঘ কিংবা বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়।

বিশ্বে বাঘ টিকে থাকা ১৩টি দেশ হচ্ছে- বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম ও রাশিয়া।

আকারের দিক থেকে সবচেয়ে বড় হচ্ছে সাইবেরিয়ান বাঘ। সাইবেরিয়ান বাঘ আকারে প্রায় ১১ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। এদের ওজন প্রায় ৩০০ কেজির মতো। অপরদিকে বেঙ্গল টাইগার আকারে প্রায় ৭ থেকে ৯ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। এদের ওজন হয় প্রায় ১৫০-২২৭ কেজি।

বাঘ একসাথে ২-৬টি বাচ্চা প্রসব করে এবং তাদের গর্ভকালীন সময় ১০৫ দিন । বন্য পরিবেশে একটি একটি বাঘ সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ১৮ মাস বয়সের আগে সাধারণত বাঘ ভালো শিকারী হতে পারে না ।

বাঘের জিহ্বা এতোটাই রুক্ষ বা অমসৃণ হয় যে তারা খুব সহজেই যেকোনো হাড়ে লেগে থাকা মাংস চেটে তুলে আনতে পারে। বাঘের গর্জন প্রায় বজ্রধ্বনির সমতুল্য। শিকারকে সাময়িক অসাড় এবং নিষ্ফল করে দিতে বাঘের কয়েকটি গর্জনই যথেষ্ট। গর্জনেই শিকার মাঝেমাঝে প্যারালাইজড হয়ে যায় । বাঘের গর্জন প্রায় ৩ কিলোমিটার দূর থেকেও শুনতে পাওয়া যায়। ঘণ্টায় প্রায় ৪০ মাইল বেগে দৌঁড়াতে পারে বাঘ।

মজার বিষয় কি জানেন,বাঘকে আমনরা মাংশাসী প্রাণী হিসেবেই জানি। তবে ইন্দোনেশিয়া ও চীনের কিছু নিরামিষভোজী বাঘ আছে। আবার সব বাঘ কিন্তু মানুষখেকো প্রাণী না । এর মধ্যে অল্প কয়েক প্রজাতী রয়েছে মানুষখেকো হিসেব। বাঘ দৈনিক ৫-১৫ কেজি মাংস খায়, তবে সুযোগ পেলে বড় পুরুষ বাঘ ৩০ কেজি মাংসও খেতে পারে। পুরুষ বাঘ উদার হয়, তারা শিকারের পর স্ত্রী বাঘকে এবং শাবকদের আগে খেতে দেয়।

বাঘের গায়ের পশমে স্বতন্ত্র ও শোভামণ্ডিত ডোরাকাটা দাগ থাকে। তাই প্রবাদ আছে ডোরাকাটা দাগ দেখে বাঘ জেনা যায় । মানুষের আঙ্গুলের ছাপের মত বাঘের ডোরা গুলো ইউনিক হয়। প্রতিটা বাঘের স্ট্রাইপ বা ডোরাগুলো অনন্য হয়। অর্থাৎ একটি বাঘের ডোরার সাথে অন্য বাঘের ডোরার কোন মিল নেই।

বাঘ মোটেই সামাজিক জীব নয়। বাঘ একাকিত্ব পছন্দ করে। অরণ্যে একা একা থাকে । এজন্যেই বলা হয় নির্জনতাপ্রিয় হওয়ার কারণেই সিংহের কাছে বাঘ ‘বনের রাজা’ উপাধিটা হারিয়েছে।

বাঘ খাবার হিসেবে হরিণ, বন মহিষ, বন গরু , বুনো শূকর, শিয়াল বানর বাঘের খাদ্য। তবে খিদে পেলে বাঘ চিতাবাঘ,কুমির, ভাল্লুক বা অজগরকেও ছাড়ে না।

অধিকাংশ প্রাণীরই রাতে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। কিস্তু বাঘের রয়েছে অনেক শক্তিশালী নাইট-ভিশন। যার কারণে বাঘ রাতে মানুষের তুলনায় ৬ গুণ বেশি স্পষ্ট দেখে । আবার দিনে কম দেখে ।

বিগত শতকে বিশ্বে ১ লাখের বেশি বাঘ ছিল। ২০১০ সালের বিশ্বব্যাপী শুমারি অনুযায়ী বাঘ ছিল ৩ হাজার ২০০টি। এর মধ্যে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে ৪৫০টি বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। সচচেয়ে মজার বিষয় হলো পৃথিবীতে বন্য বাঘের চেয়ে এখন পোষা বাঘ বেশি রয়েছে।

বসবাস ও অবস্থানগত ভাবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবনে দেখা যায়। এ ছাড়াও নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও দক্ষিণ তিব্বতের কোনো কোনো অঞ্চলে এই বাঘের দেখা মেলে। বাঘের উপপ্রজাতির মধ্যে বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যাই সর্বাধিক

মালয় বাঘ মালয় উপদ্বীপ অঞ্চলে পাওয়া যায়। মালয় বাঘ মালয়েশিয়ার জাতীয় পশু। এটিকে ২০০৮ সালে আইইউসিএন মহাবিপন্ন ঘোষণা করেছে।

সাইবেরিয়ান বাঘ রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে দেখা মেলে। এ জন্য এই বাঘের নাম সাইবেরীয় বাঘ বা আমুর বাঘ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই বাঘ অন্যান্য বাঘের মতো মহাবিপন্ন। উসুরি এলাকায় দেখা যায় বলে এই বাঘের অন্য নাম উসুরি বাঘ।

ইন্দোচীন বাঘ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোচীন অঞ্চল বিশেষ করে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীন ও কম্বোডিয়ায় এই বাঘের দেখা পাওয়া যায়। এই বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম বিখ্যাত শিকারি জিম করবেটের নামে নামকরণ করা হয়েছে। এ জাতের বাঘ সাধারণত রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে ছোট হয় এবং এরা নিরামিষাসী প্রাণী।

সুমাত্রীয় বাঘ একটি দুর্লভ বাঘের উপপ্রজাতি। এর আবাস ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে। এই বাঘ সবচেয়ে ছোট প্রজাতির বাঘ। এটিকেও ২০০৮ সালে আইইউসিএন মহাবিপন্ন হিসেবে ঘোষণা করেছে। কারণ, এ বাঘের সংখ্যা বর্তমানে ৪৪১ থেকে ৬৭৯টি রয়েছে।

দক্ষিণ চীনা বাঘ। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফুজিয়ান, গুয়াংডং, হুনান, জিয়াংসি প্রদেশে পাওয়া যায় এই প্রজাতির বাঘ। এটিকে ১৯৯৬ সালে আইইউসিএন মহাবিপন্ন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই বাঘ এখন বন্য পরিবেশে বিলুপ্তই বলা যায়।

এছাড়া তিন প্রজাতির বাঘ অতিসম্প্রতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এর একটি বালি বাঘ। এ বাঘ ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে দেখা যেত এবং ১৯৩৭ সালের পর আর দেখা যায়নি। ইন্দোনেশিয়া থেকেই হারিয়ে গেছে জাভা বাঘ। অন্যদিকে ১৯৫০ সালের দিকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে কাস্পিয়ান বাঘ।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48481
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ