Printed on Mon Jul 26 2021 4:59:09 AM

লকডাউনে খাদ্য সংকটে উলিপুরের শতাধিক বেদে

মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম
সারাদেশ
বেদে
বেদে
কুড়িগ্রামের উলিপুরে লকডাউনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৫০ বেদে পরিবারের শতাধিক মানুষ। লকডাউনে তাদের জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ। অন্যদিকে সরকারি সুবিধা থেকেও বঞ্চিত তারা। খাদ্য সংকটে জীবন-ঝুঁকিতে পড়েছে বেদে পরিবারগুলো।

জানা গেছে, বেশিরভাগ বেদে নারীরা সিঙগা লাগানো, দাঁতের পোকা উঠিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। আর কিছু নারী মেয়েদের চুড়ি, ফিতা বিক্রি করেন। আর বেদে পুরুষরা সাপের খেলা ও কড়ি বিক্রি করেন। এভাবেই বেদেরা কোনোরকমে দিন পার করছিলেন। লকডাউনের কারণে তাদের রোজগার এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়েই থাকতে হয় অনেক সময়। সরকারের দেয়া ত্রাণ সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত এ বেদে পরিবারগুলো।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে উলিপুর হেলিপ্যাডে বেদে পরিবারের আশ্রয়স্থলে গিয়ে দেখা গেছে, লকডাউনে তাদের রোজগারের সকল পথ বন্ধ থাকায় এখন খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে নারী ও শিশুসহ বেদে পরিবারগুলো।

বেদে শাহিন দোলেনা রহিম বলেন, ‘আমাগো ছবি তুইল্লা কি হবে, মোরা গেরামে যাইতে পারি না। কোনো কাজ কাম নাই। হাটবাজারে গেলে সবাই খেদাইয়া (তাড়াইয়া) দেয়। বালবাচ্চা লইয়া এহন কি খামু? করুনার (করোনা) ভয়ে মোগো সব রুটি রুজি বন্ধ। ছবি তুইল্লা নেন বালা কথা সরকারকে কইয়েন মোগো লইগা কিছু চাউল-ডাইল (ত্রাণ) ব্যবস্থা কইরা দিতে।’

বেদেরা জানান, জীবিকার তাগিদে বাপ-দাদার এ পেশায় যুক্ত হয়ে দেশের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ান খাবারের সন্ধানে। তাবিজ, ওষুধি গাছ-গাছড়া বিক্রি, সাপের খেলা, শিঙ্গালাগা, পরিমালা করে চলে আমাদের সংসার। এক সময় জীবন ছিল জলপথে নৌকায় নৌকায়। স্থল পথে গ্রামে গ্রামে ঘুরে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় আমাদের। ওইসব গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় আমাদের আহার জোটে। করোনাভাইরাসে লকডাউনের কারণে আমরা কোন গ্রামে ঢুকতে পারিনা। গ্রামে ঢুকলে মানুষ আমাদের তাড়িয়ে দেয়। ঘরে খাবার নেই। এখন আমরা কি করব বুঝতে পারছি না।

বেদে সম্প্রদায়ের সরদার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের থেকেও ভয়াবহ করোনাভাইরাস। লকডাউনে আমাদের তাবু বন্দি করে রেখেছে। লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে তাবুতে থাকতে হচ্ছে আমাদের। এখন কি খাব আমরা, সেটা নিয়েই চিন্তায় রয়েছি। এখন আমরা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। এ অবস্থায় সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি আমাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন।

এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, বেদে পরিবারগুলোর খোঁজ নিয়ে তাদের সহায়তা করা হবে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48420
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ