Printed on Fri Feb 26 2021 2:00:03 AM

বিশ্বের যতো বৈচিত্র্যময় খাবার

অনলাইন ডেস্ক
লাইফস্টাইল
বৈচিত্র্যময়
বৈচিত্র্যময়
উৎপাদন ও চাহিদা অনুযায়ী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের খাবার তৈরির রয়েছে ভিন্নতা। এক দেশে চালের চাহিদা বেশি থাকলেও অন্য দেশে সবজির চাহিদা বেশি। আবার কোথাও মাংস বা মাছ। এই পার্থক্যটা তৈরি হয় মূলত খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, ভৌগলিক অবস্থান ও আমদানি-রপ্তানির ওপর নির্ভর করে। এসব খাবারে বিভিন্ন ধরনের মসলার ব্যবহারসহ আছে স্বাদ ও রংয়ের পার্থক্যও। বিভিন্ন দেশের মুখরোচক খাবার ও খাদ্যাভাসও বিভিন্ন।

চীন

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের খাবারের বর্ণনা করতে গেলে প্রথমেই আসে চীনের খাবারের কথা। বলা হয়- যা নড়াচড়া করে, তাই খেয়ে নিতে পারে চীনারা। মুরগি, হাঁস, গরু, ভেড়া থেকে শুরু করে সাপ-ব্যাঙ-ইঁদুর, সবই তাদের খাবার। চীনারা নুডলসের ভক্ত। খাবারের সঙ্গে তাদের নুডলস না হলে চলেই না। চীনের উত্তরাঞ্চলের ঠান্ডা আর শুষ্ক আবহাওয়ায় গমের নুডলস, স্টেম করা বান বা কেক পাওয়া যায় সহজেই।

চীনারা সবচেয়ে বেশি খায় সবুজ সবজি। তাজা ফল ও ফলের জুস তাদের দারুণ পছন্দ। সতেজ সবজি হিসেবে আলু, বেগুন, পালং, লেটুস, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলির পাশাপাশি ডায়েটারি ফাইবার যেসব সবজিতে বেশি থাকে, সেগুলো বেশি খায় তারা। চীনারা হাড়-মাংস একেবারে চিবিয়ে খায়। তারা অপচয় পছন্দ করে না। তাই যেসব মাছের কাঁটা বা হাড় নরম, এসব চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। তারা মনে করে, মজ্জার স্বাদ ও পুষ্টি বেশি। চীনারা কাঁটাচামচ বা চামচ দিয়ে খেতে অভ্যস্ত নয়। তাই ব্যবহার করে দুটি কাঠি।

চীনে পাড়া-মহল্লায় খাবারের দোকানে ভোর সাড়ে ৫টায় পিক আওয়ার শুরু হয়ে যায়। হকাররাও রকমারি নাস্তা নিয়ে রাস্তায় বসে পড়ে। চাইনিজদের সকালের মেন্যু হিসেবে ‘ডাম্পলিং’ বা ‘চিয়াওজি’ সবচেয়ে প্রিয়, এর সঙ্গে ‘চৌ’। চৌ হচ্ছে বাংলাদেশে যার নাম জাউ। তবে চৌ জাউ এর তুলনায় অনেক পাতলা। এছাড়াও আছে ম্যান থৌ, পাওজি। ম্যান থৌ অনেকটা মুঠো পিঠার মত। তবে অনেক নরম। ভেতরে অন্য কিছু থাকে না। চাইনিজরা খাবার গরম গরম খেতে পছন্দ করে। আর তাদের সবকিছু তরতাজা চাই। চীনে সিচুয়ান প্রদেশের লোকজন ঝাল খাবার পছন্দ করে। চীনের দক্ষিণাঞ্চলের লোকজনের চা পানের অভ্যাস আছে। এই অঞ্চলেই প্রথম চা আবাদ শুরু হয়েছে- সেখান থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে। চীনের উত্তরাঞ্চলের লোকজনের চা পানের অভ্যাস খুবই কম। এরা এতটাই বিয়ার পছন্দ করে। পানির পরিবর্তে খায় বিয়ার পান করে তারা।

সৌদি আরব

সৌদি আরবে প্রায় সব দেশের খাবারই পাওয়া যায়। ভাত, মাছ, মাংস, সবজি, ডালসহ এরকম হরেক পদের খাবার সৌদিতে পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে খবুজও পাওয়া যায়। যা একধরনের রুটি। দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের তন্দুর রুটির মতো। মাত্র এক রিয়ালে ছয়টি খবুজ পাওয়া যায়। ডাল অথবা মুরগির মাংসের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে। তামিয়া মিক্সড স্যান্ডউইচের মতো। অর্ধেক খবুজের ভেতর ডিমের ফালি, শসা, টমেটো, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পেঁয়াজু, সস ও মেয়োনেজ দিয়ে পরিবেশন করা হয়। তামিয়া মোশাক্কেল সকাল-বিকেলের নাশতা হিসেবে ভালো। আল-ফাহাম বড় থালায় বিশেষ ধরনের রান্না করা লাল-ভাতের মাঝখানে কয়লায় পোড়ানো মুরগি। সৌদিরা বিশাল থালার চারপাশ ঘিরে মজা করে পাঁচ-ছয়টি আল-ফাহাম খায়। তমিজ আরেক ধরণের রুটি। বাংলাদেশের কয়েকটা তন্দুর রুটির সমান এর একটি রুটি। একটার দাম তিন রিয়াল। সঙ্গে একবাটি ঘন মসুর ডাল আর একবাটি ‘ফুল’ মেলে মাত্র দুই রিয়ালে। এই ফুল হচ্ছে এক ধরনের সিমের বিচি পিষে বানানো তরকারি। তমিজ খেতে হয় গরম গরম।

খেপসা বা খেবসা খুব জনপ্রিয় খাবার। কারও বাসায় দাওয়াত থাকলে খেবসা থাকবেই। এটি মূলত ইয়েমেনি খাবার। তবে আরব দেশগুলোতে সবাই এটা পছন্দ করে। খেবসা হচ্ছে বাসমতি চাল ও বিশেষভাবে তৈরি মাংসের মিশ্রণ। মুরগি, গরু বা ভেড়ার মাংস, এমনকি মাছ দিয়েও খেবসা তৈরি করা হয়। হালকা মসলায় কম তেলে রান্না করা বিরিয়ানির মতো। মেন্দি ইয়েমেন ও সৌদি আরবের একটা ঐতিহ্যবাহী খাবার। মাটির নিচে বিশেষভাবে রান্না করা ভাত ও মাংসের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় মেন্দি। গাওয়া গরম পানিতে বিভিন্ন ধরনের মসলা দিয়ে তৈরি বহুল প্রচলিত একটি পানীয়। গাওয়া খেলে নাকি শরীর চাঙা হয়, কর্মস্পৃহা বাড়ে, খুসখুসে কাশি সেরে যায়। অনেকে খেজুর দিয়ে পান করে এটি। সৌদিরা বেশ চা, কফি পান করে। বেশি চিনি দেয়া দুধ ছাড়া চা। অল্প চা পাতার সঙ্গে এলাচি ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে তৈরি সুগন্ধি চা-কে আরবিতে বলে শাহি।

বর্তমানে বিশ্বে খাদ্য অপব্যয়কারী রাষ্ট্র তালিকার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। প্রতিবছর প্রায় ৮৩ লাখ টন খাবার নষ্ট হয় দেশটিতে। সম্প্রতি সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন মারফত তথ্যটি জানা গেছে। প্রতিবছর গড়ে একজন সৌদি ২৫০ কেজি খাবার নষ্ট করেন, যেখানে বৈশ্বিক খাবার অপব্যয়ের বার্ষিক গড় ১১৫ কেজি।

ভারত

বাংলাদেশের খাবারের সঙ্গে ভারতের খাবারের অনেকাংশেই মিল পাওয়া যায়। বাসমতি চালের ব্যবহার ভারতীয় খাবারের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। বাসমতি চাল, সঙ্গে মুরগি ও খাসির মাংস। মোরগ নূরমহল বিরিয়ানি, কাচ্চি গোশত কি বিরিয়ানি এবং মটর পোলাও বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের প্রাতরাশও ভিন্ন। যেমন- উত্তর ভারতে আলু পরোটা, দক্ষিণ ভারতে ইডলি, ধোসা। তেমনি পূর্ব ভারতে লুচি আলুরদম বা রুটি খেয়ে থাকে। নিরামিষ পদগুলো যে কত সুস্বাদু ও অসাধারণ হতে পারে খাজানায় সেটা ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। সালাদের মধ্যে আছে থ্রি চিলি পটেটো সালাদ, কাবুলি চানা চাট এবং গার্ডেন ফ্রেশ গ্রিন সালাদ। নিরামিষ জাতীয় অন্য পদগুলোর মধ্যে আছে শোরবা-ই-গুলজার, ভেজিটেরিয়ান মিক্স গ্রিল, কোপ্তা কারি, পনির টিক্কা কাসুরি, আলু নাজাকা, পনির মাখানি, পনির রেশমি, মেথি চামান, কাজু খুম্ব কারি, জিরা আলু, দহি গুজিয়া, তাওয়া মিঠাই চাট ইত্যাদি।

ভারতে নিরামিষভোজিদের জন্য খাজানা রেখেছে বিরিয়ানি গুল-ই-গুলজার বা নিরামিষ দম বিরিয়ানি। এছাড়া ভারতীয়রাও নানা রকম শরবত আর মিষ্টি খেতে ভালবাসে। ভারতের বিখ্যাত ও মোটামুটি সব জায়গায় প্রচলিত কয়েকটি খাবার হলো ছোলা ভাটোরা, চাট, মাক্কি রুটি সরষে শাক, বাটার চিকেন, আওয়াধি কাবাব, কাশ্মিরি রিস্তা ও গুশতাবা, লাল মাংস, খান্ডভি ও ধোকলা, মাছের পাতুরি, হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি, ইডলি ও শামবার অন্যতম।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/36186
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ