Printed on Fri Sep 17 2021 12:04:49 AM

ভাঙা সাইকেল থেকে বিমান সংস্থার মালিক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব
ভাঙা সাইকেল থেকে বিমান সংস্থার মালিক
ভাঙা সাইকেল থেকে বিমান সংস্থার মালিক
ফাহিম হাশিমি ১৯৮০ সালে আফগানিস্তানের কাবুলে হাজারা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সংসারের অবস্থা ছিল দিন আনি দিন খাই। জন্ম থেকেই হিংসার পরিবেশে বড় হয়েছেন। তাই অস্থিরতার মধ্যেই কেটেছে শৈশব। কোনও রকমে পড়াশোনাটুকু করতে পেরেছিলেন। ঝরঝরে ইংরেজি বলা শিখেছিলেন। তাতেই স্কুলে পড়ানোর চাকরি জুটে গিয়েছিল। কিন্তু বেতন হিসেবে পেতেন নামমাত্র টাকা। একমাত্র সম্বল ছিল ভাঙাচোরা সাইকেল। সেটাতে চড়েই দূর দূরান্তে আলাদা করে ইংরেজি পড়াতে যেতেন।


পরবর্তীতে আফগানিস্তানের মন্ত্রীও হয়েছিলেন ফাহিম। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সে দেশের টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে হাশিমি গ্রুপের মালিক তিনি। একটি অন্তর্দেশীয় বিমান সংস্থা ‘ইস্ট হরাইজোন’ রয়েছে তার। আফগানিস্তানের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘১ টিভি’র মালিক ফাহিম। শুধুমাত্র টিভি চ্যানেলটির বাৎসরিক ব্যবসাই ২০ কোটি ডলারের বেশি।


কিভাবে পাল্টে গেল ফাহিম হাশিমির জীবন? বলা হয়, তার ভাগ্য পরিবর্তনে বড় অবদান রয়েছে ওসামা বিন লাদেনের। হবাক লাগলেও এটাই সত্যি। জানতে হলে একটু পেছনে যেতে হবে।


ফাহিম  যখন ২১ বছরের যুবক তখন আচমকাই আফগানিস্তান ছেয়ে যায় যুদ্ধবিমান এবং ভারী বুটের শব্দে। ২০০১ সালে আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা চালায় আল কায়দা। তার বদলা নিতে সৈন্যসামন্ত নিয়ে আফগানিস্তানে হাজির হয় আমেরিকা।


আফগানিস্তানে ওসামার নাগাল পেতে ইংরেজিতে দখল থাকা স্থানীয় দোভাষীর প্রয়োজন ছিল আমেরিকার। তাই আফগানিস্তানে পা রেখে প্রথমেই স্থানীয় দোভাষী খুঁজতে শুরু করে আমেরিকা। তালেবানকে হঠাতে আফগানিস্তানে প্রচুর লোক নিয়োগ করে তারা। ইংরেজি জানার দৌলতে আফগানিস্তানে আমেরিকার সেনার দোভাষী নিযুক্ত হন ফাহিম। তাতেই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়।


দোভাষী থেকে ধীরে ধীরে আমেরিকার বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন ফাহিম। আমেরিকা এবং আফগান সেনাকে রসদ এবং সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পান তিনি। ক্রমে অস্ত্রের ঠিকাদার হয়ে ওঠেন তিনি। আফগান সেনাকে জুতো, জ্বালানি এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানোর কাজ নেন। একেবারে শুরুতে আমেরিকার সেনাকে ৬০০ ডলারের বিছানার চাদর সরবরাহ করে যাত্রা শুরু করেন তিনি।


দীর্ঘ দিন আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ন্যাটো বাহিনীর সংস্পর্শে থেকে তাদের আদবকায়দা শিখে নিয়েছিলেন ফাহিম। পরবর্তীকালে বিদেশ থেকেও কাজেরস অর্ডার নিতে শুরু করেন তিনি। ব্যবসায়িক বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে পরবর্তীকালে কোটিপতি হয়ে ওঠেন ফাহিম।


অল্প বেতনের শিক্ষক থেকে শিল্পপতি হওয়ার পেছনে ৯/১১ এর ঘটনা বড় প্রভাবক বলে স্বীকার করেছেন ফাহিম। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সেই সময় খুব কম লোকই ইংরেজি জানতেন। সৌভাগ্যবশত আমি ছিলাম তাদের একজন। তাতেই জীবন পাল্টে গিয়েছে।


তবে নিজের ব্যবসায়িক বুদ্ধিকে এর শ্রেয় দিতে চান না ফাহিম। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের বাজারে সেভাবে কোনও প্রতিযোগিতা নেই। আবার ঝুঁকিও রয়েছে। যিনি ব্রিটেনে বিনিয়োগ করবেন, তিনি আফগানিস্তানে ঝুঁকি নিতে চান না। তাই নিশ্চিন্তে ব্যবসা করা যায়।


কোটিপতি আফগানদের অনেকেই বিদেশ বিভুঁইয়ে সম্পত্তি কিনে রাখেন। দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের দাবি, সেখানকার বিলাসবহুল সম্পত্তিগুলির সিকিভাগের মালিক আফগান ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিকরা।


তবে বহির্বিশ্বে বিনিয়োগের ঘোর বিরোধী ফহিম। তিনি বলেন, আমরা সমস্ত বিনিয়োগ দেশের অন্দরেই করেছি। তার জন্য গর্বিত আমরা। অনেকে দেশ থেকে টাকা নিয়ে গিয়ে বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন। এটাকে আমি সমর্থন করি না।


শুধু তাই নয়, তালেবান কাবুল দখলের পর আফগানরা দলে দলে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন। কিন্তু ফাহিম তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানকে নিয়ে কাবুলেই রয়েছেন। যদিও তার পরিবারের অনেকেই দুবাইয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।




ভয়েস টিভি/ এএন
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51850
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ