Printed on Thu Feb 25 2021 1:08:26 PM

ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ

জাতীয়
ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ
ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ
ভেয়জ ডেস্ক :
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আপাতত সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভা।

সেই সঙ্গে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করতে রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সশরীরে উপস্থিত না থেকে, ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে থেকেও ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বিচার পরিচালনা করাই হচ্ছে ভার্চুয়াল কোর্ট। বাংলাদেশে বিষয়টি নতুন হলেও, পার্শ্ববর্তী ভারত ও পাকিস্তানে এর মধ্যেই এ ধরণের আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে এ ধরণের আদালত চালু আছে।

সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট রুলস সংশোধন করতে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে এই প্রথমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফুল কোর্ট মিটিং অনুষ্ঠিত হলো।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মার্চ মাসের শেষ থেকেই বাংলাদেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালত পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এই বন্ধের সময় পাঁচই মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এজন্য সুপ্রিমকোর্টের রুলস কমিটি পুনরায় গঠন এবং ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রথমবারের ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে ফুলকোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগের ৮৮ জন বিচারপতি।

সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, সভায় আগামী ৫ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার পদক্ষেপ ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের রুলস কমিটি পুনরায় গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া সুপ্রিমকোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফমর্স ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বিচারক, আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং প্রধান বিচারপতিকে সময় সময় অগ্রগতি অবহিত করবেন বলে জানান সাইফুর রহমান।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি আদেশের সঙ্গে মিল রেখে আদালত অঙ্গনও বন্ধ রয়েছে। কেবল জরুরি প্রয়োজনে প্রত্যেক জেলায় একটি করে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট খোলা। এ অবস্থায় সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল স্বল্প পরিসরে কোর্ট চালু করতে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেন।

এরমধ্যে আবার সুপ্রিমকোর্টের ১৪ জন আইনজীবী সীমিত পরিসরে এক/দু’টি বেঞ্চ কিংবা অনলাইনে কোর্ট খোলার জন্য প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছেন। করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ চেয়ে একটি বেঞ্চ গঠনে অপর দুই আইনজীবীও চিঠি দিয়েছেন।

এছাড়া ঢাকা বারের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও প্রধান বিচারপতি বরাবরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আংশিক জজকোর্ট খোলার আবেদন করেন।

এরপর গত ২৩ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঠোর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অতীব জরুরি বিষয়গুলো শুনানির নিমিত্তে ছুটিকালীন সময়ে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে বসবেন।

তাছাড়া ছুটিকালীন হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সব অধিক ক্ষেত্রের অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির নিমিত্তে হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

অপর বিজ্ঞপ্তিতে সপ্তাহে দু’দিন জজ কোর্টও খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এ দুই বিজ্ঞপ্তি জারির পর আইনজীবীরা কোর্ট চালু না করতে আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

পাশাপাশি সপ্তাহে দু’দিন জজকোর্ট খোলার বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এছাড়া রোববার ফুলকোর্ট সভা আহ্বান করা হয়।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/3089
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ