Printed on Wed May 05 2021 10:13:54 PM

দেশে ট্রায়াল ছাড়াই ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরিকল্পনা, বিশেষজ্ঞদের মানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
ভ্যাকসিন প্রয়োগের
ভ্যাকসিন প্রয়োগের
ভ্যাকসিন আমদানির জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছে সরকার। ভ্যাকসিন বিষয়ক জাতীয় পরিকল্পনা করে মন্ত্রণালয়ে তা জমাও দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফদর, পাঠানো হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায়।

বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ইতোমধ্যেই সেরাম ইন্সটিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন আনার জন্য অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু  কোনো প্রকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়াই এ ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রয়োগ কোনোভাবেই ঠিক হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট কোর কমিটির প্রধান ও অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, ‘আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছি, সেভাবে সব করতে পারলে ভ্যাকসিন আসার আগেই প্রস্তুত হয়ে যাব।’

ট্রায়াল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে  ফ্লোরা বলেন, ‘সে অর্থে ট্রায়াল হবে না। আমরাতো সরাসরি কিনছি। তবে আমরা ভাবছি প্রাথমিকভাবে অল্প কিছু দিয়ে দেখব। পুরো সিস্টেমের সব ঠিকমতো কাজ করছে কীনা। এটা বলতে পারি যে, প্রথম এক সপ্তাহে অল্প কিছু ভ্যাকসিন দেয়া হবে। তারপর পুরো প্রক্রিয়াতে যাব। তবে ট্রায়াল হবে না।’

ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হওয়া উচিত কী না প্রশ্নে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘অবশ্যই ট্রায়াল হওয়া উচিত। ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত হবে কি না তা প্রয়োগ শুরু হলে বলা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা কাজ করছি, তারা মনে করি ট্রায়াল হওয়া উচিত। ট্রায়াল হলে সফল হোক, ব্যর্থ হোক, তাতে একটা অভিজ্ঞতা পাবো। এটা মহামারি নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগবে। এমনকি আমাদের এখানে যারা ভ্যাকসিন তৈরি করছে, তাদের সক্ষমতাও বাড়বে।’

আরও পড়ুন : দেশে চীনা ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন

‘আমরা কেবল প্রস্তুতি বলতে কিছু কাগজপত্র দেখতে পাচ্ছি, এর বাইরে কিছু পাচ্ছি না’ এমন মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান   বলেন, ‘ভারতে পর্যন্ত ট্রায়াল হয়েছে। আমাদের দেশে সেটা হলেও বোঝা যেত। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতর কী প্রস্তুতি নিচ্ছে বোঝা যাচ্ছে না।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল  বলেন, ‘সেরাম ইন্সটিটিউটের ভ্যাকসিনের কোনও ট্রায়াল হচ্ছে না। অক্সফোর্ড নিজেরা ট্রায়াল দিয়েছে। আমাদের এখানে কোনও ট্রায়াল হচ্ছে না।’

কিন্তু অবশ্যই দেশে ট্রায়ালের দরকার ছিল মন্তব্য করে আবু জামিল ফয়সাল আরও বলেন, ‘আমরা এখনও জানি না, আমাদের দেশে ভ্যাকসিনের রিঅ্যাকশন কী হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, ট্রায়াল ছাড়াই আমরা অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশেই ট্রায়াল করে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। আমি বলবো, আমাদের দেশে এর ট্রায়াল অবশ্যই হওয়া উচিত ছিল।’

‘ট্রায়াল হলে অবশ্যই ভালো হতো’ এমনটা বলছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদও। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কী না, হলে কতটুকু কী হতে পারে, সবই জানা যেত। কারণ, মানুষভেদে টিকার কার্যকারিতা ভিন্ন হয়।’

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা বিষয়ক জাতীয় পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের নিবন্ধন হবে অনলাইনে। ভ্যাকসিন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ১৫ ধরনের প্রতিষ্ঠানও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রচলিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোও ব্যবহার হবে করোনার টিকা দেয়ার জন্য।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া- এ সাত দেশের কোনও একটি দেশে যদি ভ্যাকসিন অনুমোদন পায়, তবে তা দেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। কিন্তু এ তালিকায় কেবল যুক্তরাজ্যে টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/31288
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ