Printed on Tue Aug 03 2021 10:19:08 AM

মাংস বেশি খাবেন, সাবধান!

লাইফস্টাইল ডেস্ক
ভিডিও সংবাদলাইফস্টাইল
মাংস বেশি
মাংস বেশি
পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। এবারের ঈদও উদ্‌যাপন হবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। একদিকে কোরবানি, অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। কাজেই গবাদিপশু কোরবানির আগ থেকে রান্না পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় কোরবানির আয়োজনও হয়ে উঠতে পারে করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর উৎস।

কোরবানির ঈদে গরু বা খাসির মাংস একটু বেশি খাওয়া পড়বে- এটাই স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলো, লাল মাংস। অর্থাৎ গরু বা খাসির মাংস বেশি খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ায় হৃদরোগের সমস্যা হতে পারে।

সবজির তুলনায় মাংস হজম করা কঠিন। কোরবানির ঈদে মানুষ বেশি মাংস খায়। বিশেষ করে লাল মাংস। এটি শরীরে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। মাংস বেশি পরিমাণে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এর সঙ্গে সাদা ভাত এবং সালাদ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।

অনেকে শাকসবজি এবং ফল উপেক্ষা করে উৎসবে শুধু মাংস খান। শাকসবজি ও ফলের গুরুত্ব সবারই জানা। হজমে সহায়তা করে এসব খাবার। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সুতরাং মাংসের পাশাপাশি এ ক’দিন খাদ্য তালিকায় রাখুন সবজি বা ফল।

ঈদে হাই প্রোটিন ডায়েট হজম করার জন্য মানুষ কোমল পানীয় বেশি পান করে। যার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। কোমল পানীয়তে বিদ্যমান উচ্চ মাত্রার চিনি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে থাকে।

ঈদে মুখরোচক মসলাদার খাবার মানুষ বেশি রান্না করে। খাবারে লবণ এবং অধিক মসলা রক্তচাপের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এজন্য কম মসলা দিয়ে মাংস রান্না করা উচিত। অনেকে আবার রান্নার তেল হিসেবে পশুর চর্বি ব্যবহার করেন। যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এটি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রান্না করার জন্য উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করা উচিত।

গরুর মাংসে প্রচুর কোলেস্টেরল থাকায় অনেকেই সেটি খাওয়া এড়িয়ে চলেন। অনেকেরই ধারণা গরুর মাংস খেলেই বুঝি স্বাস্থ্যের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। তবে গরুর মাংস নিয়ম মেনে খেলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, গরুর মাংসের ক্ষতিকর দিক যেমন আছে, তেমনি এই মাংস অনেক উপকারও করে থাকে। এবং গরুর মাংসে যতো পুষ্টিগুণ আছে সেগুলো অন্য কোন খাবার থেকে পাওয়া কঠিন। এখন এই মাংস আপনার জন্য ক্ষতিকর হবে নাকি উপকারী, সেটা নির্ভর করবে আপনি সেটা কতোটা নিয়ম মেনে, কি পরিমাণে খাচ্ছেন তার উপর।

পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, গরুর মাংসে রয়েছে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিনস, মিনারেলস বা খনিজ উপাদান যেমন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, আয়রন। আবার ভিটামিনের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি২ বি৩, বি৬, এবং বি১২। আর এই পুষ্টিকর উপাদানগুলো -

• শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
• পেশি, দাঁত ও হাড়ের গঠনে ভূমিকা রাখে।
• ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
• শরীরের বৃদ্ধি ও বুদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
• ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।
• দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।
• অতিরিক্ত আলসেমি, ক্লান্তি বা শরীরের অসাড়তা দূর করে কর্মোদ্যম রাখে।
• ডায়রিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে।
• রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে।
• খাবার থেকে দেহে শক্তি যোগান দেয়।
• স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
• অবসাদ, মানসিক বিভ্রান্তি, হতাশা দূর করে।

কোরবানির মৌসুমে গরুর মাংস বেশি খাওয়া হয়ে থাকে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। মগজ ও কলিজায়, প্রোটিন থাকলেও সেটার পরিমান কম, বরং এর বেশিরভাগ জুড়ে রয়েছে কোলেস্টেরল।

প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা নির্ভর করে মানুষের ওজনের ওপর। একজন মানুষের আদর্শ ওজন ৫০ কেজি হলে প্রতিদিন তার ৫০ গ্রামের মতো প্রোটিন প্রয়োজন। তবে এর রেশিও মানুষের সুস্থতার ওপর নর্ভর করে। আবার গর্ভাবস্থায় অবস্থায় এই পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তবে কারো প্রতিদিন ৭০ গ্রামের বেশি এবং সপ্তাহে ৫০০ গ্রামের বেশি প্রোটিন খাওয়া উচিত না বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে ২৬ গ্রাম প্রোটিন এবং ২ গ্রাম ফ্যাট থাকে। তবে দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা শুধু একটি খাবার নয় বরং বিভিন্ন খাবার ও পানীয় দিয়ে পূরণ হয়ে থাকে।

ভয়েস টিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/49098
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ