Printed on Wed Jan 20 2021 1:21:49 AM

পঞ্চগড়ে মাদরাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর তিনমাস পর মামলা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
সারাদেশ
মাদরাসা
মাদরাসা
পঞ্চগড় সদর উপজেলার জাহিদ হাসান (৯) নামের এক মাদরাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর তিনমাস পর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহত শিশু জাহিদ সদরের পাহাড়বাড়ি এলাকার আল-আমিনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি কওমী মাদ্রাসার ছাত্র ছিলো।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১১ জানুয়ারি সোমবার শিশুটির মা লভলী বেগম সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলা দায়েরের পর পুলিশ দুজনকে গ্রেফতারও করেছে।

গ্রেফতাররা হলেন, নিহত জাহিদের বাবা আল-আমিন (৩৬) এবং দাদা আমিরুল ইসলাম (৫৫)। পলাতক রয়েছেন মামলার আরেক আসামি নিহতের চাচা আব্দুস সামাদ (৩০)।

জানা যায়, গত বছরের ৭ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে জাহিদের চিৎকার শুনে তার দাদা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সুতার সঙ্গে গলা ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তিনি দ্রুত জাহিদকে নামানোর পর তার মৃত্যু হয়। ওই দিন রাতেই সদর থানার পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে হাসপাতালে পাঠান। একই সঙ্গে শিশুটির বাবা একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেন।

এদিকে ঘটনার প্রায় তিনমাস পর গত ৬ জানুয়ারি ময়না তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন জাহিদ মাদরাসা থেকে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি আসে। এমন সময় তার বাবা তাকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের আলোকে প্রশ্ন করতে থাকেন। প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় জাহিদকে মারধর করে বাবা আল-আমিন। এক পর্যায়ে হাত-পায়ে ধরে টেনে হিচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়।

মামলার বাদী লাভলী বেগম জানান, জাহিদকে বেধরক মারপিট করলে সে কান্না করে। কান্না থামাতে আমি তাকে ভাত খেতে দেই এবং বাড়ির পূর্ব দিকে গরুকে ঘাস দিতে যাই। প্রায় ঘণ্টা খানেক পরে এসে দেখি ছোট ছেলে জিহাদ (৪) ছাড়া বাড়িতে আর কেউ নেই।

জিহাদের কাছে জানতে পারি জাহিদকে তার বাবা মারপিট করে টেনে হিচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে গেছে। পরে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে দেখি বাড়ির পূর্ব দিকে পানের বরজের কাছে একটি মেহগনি গাছের উপর থেকে জাহিদের বাবা আল-আমিন নিচে নামতেছে।

আর গাছের ডালে রশির সাথে ফাঁসিতে ঝুলতেছে জাহিদ। নিচে দাঁড়িয়ে ছিলো জাহিদের চাচা আব্দুস সামাদ এবং দাদা আমিরুল ইসলাম। আমি ময়না তদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় ছিলাম। এছাড়া সব সময় আতঙ্কে থাকতাম।

জাহিদের স্মৃতিচারণ করে বিলাপ করলে তার বাবা আমাকে এসব ভুলে যেতে বলতো। আর বলতো সংসার করার ইচ্ছা থাকলে যেন এসব কাউকে না বলি।

পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা সরকার জানান, ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়েছি শিশুটিকে কেউ মেরে ফেলেছে। প্রাথমিক ভাবে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এখনও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন : কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/32134
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ