Printed on Mon Apr 12 2021 3:28:50 PM

মাদরাসা ছাত্র নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, অভিযোগ নেই অভিভাবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশ
মাদরাসা
মাদরাসা
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ইয়াসিন (৮) নামে এক মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ ইয়াহিয়াকে আটক করেন।

কিন্তু নির্যাতনকারী মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই শিশুটির বাবা মায়ের। আইনের হাত থেকে বাঁচিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যান তারা।

জানা গেছে, হাটহাজারী মারকাযুল কোরআন ইসলামিক একাডেমির ছাত্র ইয়াসিনের ৯ মার্চ মঙ্গলবার জন্মদিন ছিলো। এদিন বিকেলে তার মা তাকে দেখতে যান। আধাঘণ্টার মত ছেলের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মা যখন ফিরছেন, সে তখন মায়ের পিছু পিছু হাঁটতে শুরু করে। কিন্তু মাদ্রাসার এক শিক্ষক তার ঘাড় ধরে ফিরিয়ে আনেন এবং ঠেলতে ঠেলতে এক কক্ষে ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করেন।  ঘটে যাওয়া এই নির্যাতনের ঘটনাটি মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে।

খবর পেয়ে রাতেই চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিশুকে উদ্ধার ও নির্যাতনকারী শিক্ষককে আটক করেন। কিন্তু শিশুটির মা-বাবা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করতে রাজি না হওয়ায় প্রশাসন এক পর্যায়ে ওই শিক্ষককে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তবে ১০ মার্চ বুধবার তাকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বরখাস্ত করেছে বলে জানা গেছে।

নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির মা-বাবার কাছে মাফ চেয়েছেন জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বলেন, জন্মদিনে শিশুটির মা ছেলের জন্য মিষ্টি ও চকলেট নিয়ে এসেছিলেন। এমনকি তাকে (মোহাম্মদ ইয়াহিয়াকে) নাস্তা খাওয়ার জন্যে মা দুইশো টাকাও দিয়েছিলেন। এরপর মা যখন চলে যাচ্ছেন, সেসময় শিশুটি দৌড়ে মাদ্রাসার বাইরে বেরিয়ে রাঙ্গামাটি-হাটহাজারী চৌরাস্তায় চলে যায়। শিশুটিকে ফিরিয়ে আনতে আনতে তিনি (মোহাম্মদ ইয়াহিয়া) রেগে গিয়েছিলেন বলে জানান।

তিনি বলেন, আসলে যে রকম দেখা যাচ্ছে, অত জোরে মারিনি। ওটা হাফ বেত, বেশি জোরে লাগে না। কিন্তু আমার অন্যায় হইছে, ওইভাবে মারা উচিত হয় নাই।

মাদরাসা

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ জয়নাল জানান, তার সন্তানকে মারধরের ঘটনায় তিনি ও তার স্ত্রী অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে চান না তিনি।

তিনি বলেন, ছেলেকে হাফেজী পড়াতে চায় আমরা। সে তো ওখানে পড়বে, তাহলে মামলা করে কী হবে? উল্টা শিক্ষকের জীবনটা নষ্ট হবে।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, ভিডিওটি দেখে শিশুটিকে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে শনাক্ত করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে পুলিশ নিয়েওই মাদরাসায় যান। সেখান থেকে নির্যাতনের শিকার শিশু, অভিযুক্ত শিক্ষক এবং মাদ্রাসার পরিচালককে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এর পর শিশুটির মা-বাবাকে ডেকে আনা হয়।

তিনি বলেন, মা-বাবাকে ভিডিওটি দেখানোর পর মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোন অভিযোগ বা সাজা দিতে চান না। মামলা দায়ের করার জন্যে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শিশুটির মা-বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি আমরা। এমনকি আজ সকালেও (বুধবার) শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলাম আমি, তখনো তাদের বলেছি। কিন্তু তারা কিছুতেই মামলা করবে না শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

শিশুটির মা-বাবা মামলা করতে রাজি তো হনই নি, বরং তার মা-বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর রাতেই একটি চিঠি দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে রাত সাড়ে ৪টার দিকে মুচলেকা নিয়ে ওই শিক্ষককে ছেড়ে দেয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন : সাতক্ষীরায় হারিয়ে যাওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক বাবা-মা

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/38252
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ