Printed on Fri May 14 2021 4:21:04 PM

আওয়ামী লীগ সবসময়ই দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
মানুষের কল্যাণে
মানুষের কল্যাণে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সবসময়ই দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করে। জাতির পিতার দেখানো পথ অনুসরণ করে অনগ্রসর মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

২ জানুয়ারি জাতীয় সমাজসেবা দিবস-২০২১ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে একথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য, ‘ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে, সেবা ও সুযোগ প্রান্তজনে’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের শুরুতেই অসহায়, অনগ্রসর মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পল্লী এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ১৯৭৪ সালে তিনি পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম গ্রহণ করেন, সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু করেন এবং শিশুসুরক্ষা ও উন্নয়নে শিশু আইন প্রণয়ন করেন। তিনি শিশুদের জন্য ‘কেয়ার অ্যাণ্ড প্রটেকশন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে সরকারি শিশু পরিবার নামে পরিচিত।'

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অন্যান্য ভাতার প্রচলন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অধিক্ষেত্র, বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। আমরা শিশু (সংশোধন) আইন ২০১৮, মানসিক স্বাস্থ্য আইন ২০১৮, বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮, প্রণয়ন করেছি।

আরও পড়ুন : ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জীবন ও আদর্শ আমাদের প্রেরণা জোগায়’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সরাসরি অর্থ প্রেরণের লক্ষ্যে আমরা ৪৯ লাখ বয়স্ক, ২০.৫ লাখ বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা ও দুঃস্থ নারী এবং ১৮ লাখ অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, শিক্ষা উপবৃত্তির আওতায় ১ লাখ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর নামে ব্যাংক হিসাব খুলে দিয়েছি। আমরা ভাতা ভোগীদের তথ্য ডাটাবেইজ সফটওয়ারে সন্নিবেশ করেছি এবং ই-পেমেন্টের মাধ্যমে ১১.৬৫ লাখ ভাতাভোগীকে অর্থ প্রেরণ করেছি। আমরা ক্ষুদ্রঋণ ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে দরিদ্র ও বিপন্ন ব্যক্তিদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি, এতিম শিশুদের প্রতিপালনের ব্যবস্থা করেছি এবং আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও ব্যক্তিদের সমাজে পুনঃ একত্রিত করেছি। শিশুদের জন্য ২৪ ঘণ্টা চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ টোল-ফ্রি সেবা চালু করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোটার অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করছি। সমাজকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। দেশের ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা-থেরাপি এবং প্রায় ২৪ হাজার লোককে সহায়ক উপকরণ দিয়েছি। অটিজম রিসোর্স সেন্টারের মাধ্যমে কাউন্সেলিং প্রদান করছি। ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর জাতীয় প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেছি এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, তার সরকার ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) বিধিমালা ২০১৫, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট বিধিমালা ২০১৫, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিধিমালা ২০১৫ এবং প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা ২০১৯ প্রণয়ন করেছে। তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে ‘হিজড়ালিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার নীতিমালা ২০১৯, প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯ এবং শহর সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০১৯ প্রণয়ন করেছে।

চলমান করোনা মহামারিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গরীব, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও খাদ্যপ্রদান অব্যাহত রাখায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/30576
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ