Printed on Tue May 11 2021 8:11:25 AM

মামুনুলের সঙ্গে থাকা নারীর প্রথম বিয়ে হয় ৯ বছরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
মামুনুল হকের
মামুনুল হকের
নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে । ওই নারীর নাম জান্নাত আরা ঝর্না। মাত্র ৯ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়েছিল হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তাদের সংসারে দুটি সন্তার হয়েছে । যাদের নাম ও বয়স আব্দুর রহন (১৭) ও তামীম (১২) ।

ত্রিশ বছর বয়সী ঝর্না ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউপির কামার গ্রামের মো. ওলিয়ার রহমান ওরফে ওলি মিয়ার মেজো মেয়ে। মুক্তিযোদ্ধা ওলিয়ার রহমান গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতিও।

৪ এপ্রিল রোববার সকালে ঝর্নার গ্রামের বাড়িতে বাবা ওলিয়ার রহমান ও মা শিরীনা বেগমের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলেন।

এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের ওলিয়ার রহমান বলেন, ‘জান্নাত আরা ঝর্নার নয় বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল হাফেজর সাথে। তার বাড়ি চিতলমারীর চর-কচুড়িয়া গ্রামে।  ‘পারিবারিক কলহের জেরে আড়াই বছর আগে শহীদুল্লাহ ও ঝর্নার ডিভোর্স হয়ে যায়। দুই বছর আগে পরিবার থেকে পাত্র দেখে আবারো মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে মেয়ে  নিজেই বিয়ে করেছে । তবে কাকে বিয়ে করেছে তা আমাদের জানায়নি।’



শহীদুল্লাহর সঙ্গে আপনাদের যোগাযোগ আছে কি না জানতে চাইলে ওলিয়ার রহমান বলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে ডিভোর্সের পর শহীদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি।

গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোনায়েম খান বলেন, ‘ঝর্নার বাবা ওলিয়ার রহমান সহজ-সরল মানুষ। কামারগ্রাম চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি। তার মেয়ের আগে বিয়ে হয়েছে। সেই ঘরে দুই ছেলে আছে। পরে বিয়ে হয়েছে কি না তা আমাদের জানা নেই। গ্রামের কেউ দ্বিতীয় বিয়ের কথা জানেন না।’

শনিবার সোনারগাঁর রয়েল রিসোর্টে মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে একের পর এক প্রশ্ন করার বিষয়টি ফেসবুকে লাইভ হয়। এ সময় তিনি বারবার বলতে থাকেন, ‘ওই নারী আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। শরিয়ত মেনে তাকে বিয়ে করেছি। এর প্রমাণ আছে।

এরই মধ্যে ফেসবুকে প্রকাশ হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী জানান তার নাম জান্নাত আরা ঝর্না। গ্রামের বাড়ি আলফাডাঙ্গায়।

সোনারগাঁর রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা।

মামুনুল হক অবরুদ্ধ এমন খবর শুনে সেখানে সন্ধ্যার পর জড়ো হতে থাকেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে রয়েল রিসোর্টে হামলা চালান তারা। এতে রিসোর্টের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম, এসিল্যান্ড গোলাম মোস্তফা মুন্না, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশাররফ হোসেন, সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) তবিদুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা। একপর্যায়ে মাওলানা মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান বিক্ষুব্ধ হেফাজতের কর্মীরা।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোশাররফ হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামুনুল হককে থানায় নেওয়ার পথে রিসোর্টে হামলা চালান হেফাজতের কর্মীরা। পরে মামুনুল হককে নিরাপদে স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান হেফাজতের কর্মীরা।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক বলেছেন, অবকাশকালীন সময় কাটাতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছেন। ওই নারীকে দুই বছর আগে বিয়ে করেছেন তিনি। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাকে তর্কবিতর্ক করতে দেখা যায়।

এদিকে মামুনুল হকের ওপর হামলার অভিযোগে থানায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতার নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। ৪ এপ্রিল রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় এ অভিযোগ দেওয়া হয়। হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের ১০ নম্বর অঞ্চলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি ফয়সাল মাহমুদ বাদী হয়ে এই অভিযোগ দেন।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/40898
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ