Printed on Fri May 07 2021 10:19:31 PM

পরিবারের সবার লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরল ছোট্ট মিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
মিম
মিম
দাদার মৃত্যুর খবরে মা-বাবা ও দুই বোনের সঙ্গে ৯ বছরের মীম যাচ্ছিলেন খুলনার তেরখাদার বারুখালি গ্রামে। পথে মর্মান্তিক স্পিডবোট দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মীমের বাবা মনির মিয়া (৩৮), মা হেনা বেগম (৩৬), ছোট দুই বোন সুমী আক্তার (৫) ও রুমি আক্তার (৩)। দুর্ঘটনার পর মীম ব্যাগ ধরে ভেসে থেকে কোনো রকমে প্রাণ বাঁচায়। মাথায় আঘাতের ক্ষত নিয়ে ঘটনার আকস্মিকতায় এখন নির্বাক মীম।

মা-বাবা ও দুই বোনের লাশ রাখা শিবচরের কাঁঠালবাড়ী দোতারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মীমকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ শনাক্তের জন্য নেয়া হলে তার কান্নায় চোখের কোণে জল জমেছে উপস্থিত সবার। পরিবারে আর কেউ না থাকায় এরপর লাশের গাড়ির সামনে বসে মিম তার মা-বাবা ও দুই বোনের লাশ নিয়ে রওনা দেয় তেরখাদার বারুখঅলি গ্রামে।

এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুজনকে দেয়া হয় মীমের সঙ্গে। লাশ বহনকারী গাড়ি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পৌঁছে নিজ বাড়িতে। শুধু মীমই নয়, দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ জনের স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ।

ঢাকা থেকে মা মনোয়ারা বেগমের মৃত্যুজনিত কারণে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পরিবার নিয়ে যাচ্ছিলেন গৃহবধূ আদুরী বেগম। কিন্তু ভয়াবহ দুর্ঘটনায় স্বামী আরজু শেখ (৪৫) এবং একমাত্র সন্তান ইয়ামিনকে (২) হারিয়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত আদুরী যেন পাগলপ্রায়। ক্ষণে ক্ষণে বিলাপ বকছেন। স্বামী ও সন্তানের লাশ নিয়ে মায়ের আহাজারিতে চারদিকে যেন নেমে আসে নিস্তব্ধতা।

মীমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাচাদের সঙ্গে ঝগড়ার কারণে তার বাবা মনির মিয়া ঢাকায় টিউশনি করে কোনো রকমে সংসার চালান। দাদার মৃত্যু সংবাদে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। পরিবারের কেউই এখন বাকি রইল না

আদুরীর এক স্বজন ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, স্পিডবোটচালক সম্ভবত নেশাগ্রস্ত ছিল। মাঝনদীতে একবার দুর্ঘটনার মতো হচ্ছিল। এরপর এপাড় থেকে এসে ঠিকই সব শেষ। লকডাউনের মধ্যে কিভাবে নিষেধাজ্ঞার মাঝে স্পিডবোট চলে। তাহলে বিআইডাব্লিউটিএ, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফাঁড়ি পুলিশ কী করে?

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/43704
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ