Printed on Sat Jul 31 2021 5:11:26 AM

মিয়ানমার থেকে আমদানি হচ্ছে কোরবানির পশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশ
মিয়ানমার
মিয়ানমার
শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে গবাধিপশু আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মিয়ানমারের গরুর বেশ চাহিদা রয়েছে। এছাড়া আসছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিষও।

টেকনাফ কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, গত মে ও জুন এ দু’মাসে মিয়ানমার থেকে ২৫ হাজার ৮৬৮টি গরু ও ৪ হাজার ২৫৮টি মহিষ আমদানি করা হয়েছে। আর আমদানি বাবদ এক কোটি ৫০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে শুল্ক বিভাগ। এর আগে মার্চ-এপ্রিল মাসেও ১১ হাজার ৮৮৬টি গরু ও দুই হাজার ৪২৪টি মহিষ আমদানি বাবদ ৭১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা শুল্ক আদায় করেছে কাস্টম্স।

টেকনাফ স্থল বন্দর শুল্ক কর্মকর্তা মো. আব্দুর নুর জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে মিয়ানমারে সেনা বাহিনীর ক্ষমতাগ্রহণ এবং জুন মাসে বর্ষা মৌসুমের মধ্যেও মে-জুন মাসে মিয়ানমার থেকে গবাধিপশু আমদানি মার্চ-এপ্রিল দু’মাসের চেয়ে ভালো হয়েছে।

আর ৩ সপ্তাহ পর কোরবানি ঈদ। এ সময়ে মিয়ানমার থেকে প্রচুর গবাধিপশু টেকনাফে প্রবেশ করছে। ইতোমধ্যে মিয়ানমার বাংলাদেশে রফতানির উদ্দেশে প্রচুর গরু-মহিষ মজুদ করেছে।

শাহপরীর দ্বীপ করিডোরের পশু ব্যবসায়ী সাবরাং ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শরীফ বলেন, মিয়ানমারে প্রচুর গরু-মহিষ জমা রয়েছে। শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়েও গবাধিপশু আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এখনো টেকনাফ বাজারের কোরবানির পশু বিক্রি জমে উঠেনি। তবে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ট্রাক যোগে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। করোনার প্রার্দুভাবের কারণে কড়াকড়ি ও সীমান্ত বন্ধ থাকায় ভারতীয় গরু আমদানি না হলেও দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত গরু মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া দেশিয় খামারিদেরও রয়েছে প্রচুর গরু।

এদিকে গরু ব্যবসায়ী আবু ছৈয়দ মেম্বার বলেন, মিয়ানমারের কয়েক হাজার গরু বিক্রির অপেক্ষায় খামারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া সাগরের ভাঙনের ফলে শাহপরীর দ্বীপ থেকে টেকনাফ সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে ৯ বছর ধরে। এতে পশু পরিবহনেও নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এ অবস্থায় পশু আমাদানিতে উৎসাহ হারাতে বসেছে ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সাল থেকে শাহপীর দ্বীপ করিডোর চালু করা হলেও এখনো অবকাঠামোগত কোন সুযোগ সুবিধা দিতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এখানে নেই পশু রাখার স্থান, নেই ব্যাংক সুবিধা। ফলে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হয় রাজস্ব প্রদানের ক্ষেত্রে।

টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি করতে পারে সে ব্যাপারে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা বিষয়েও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

পশু পরিবহন ও কোরবানির পশু হাটে যাতে নকল টাকার ব্যবহার, চাদাঁবাজিসহ সকল ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য একাধিক টিম গঠন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কোরবানির পশু পরিবহনের সঙ্গে একটি চক্র ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে যায়। এ ধরনের তৎপরতাসহ বাজার মনিটরিং কার্যক্রম তদারকির জন্য ইতিমধ্যে কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48162
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ