Printed on Tue Aug 03 2021 10:07:40 AM

মেঘ ডাকলেই চলে যায় বিদ্যুৎ

নড়াইল প্রতিনিধি
সারাদেশ
মেঘ
মেঘ
আকাশে মেঘ দেখা দিলেই বন্ধ হয়ে যায় নড়াইলের পল্লী বিদ্যুৎ। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। বর্ষা মওশুম শুরু হওয়ার আগে থেকেই প্রায়ই আকাশের মেঘের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে আর এই অযুহাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অসংখ্য গ্রাহক। আর কর্তৃপক্ষ বলছে জেলায় কোন বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, কোন লোডশেডিংও হয় না, লাইন ত্রুটির কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়।

অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় তিন হাজার পাঁচ শত বিশ কিলোমিটার এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ এর লাইন রয়েছে। এর মোট মিটার রয়েছে এক লাখ নব্বই হাজার। যার মধ্যে আবাসিক মিটার নব্বই শতাংশ। বাকি দশ শতাংশের মধ্যে রয়েছে সেচ, বানিজ্যিক, ক্ষুদ্র শিল্প, দাতব্য প্রতিষ্ঠান। আবাসিক মিটারে প্রতি ইউনিট বিদুৎ এর দাম তিন টাকা পচাত্তর পয়সা থেকে ১১ টাকা ৪৬ পয়সা, সেচ কাজে প্রতি ইউনিটের দাম ৪ টাকা ১৬ পয়সা, ক্ষুদ্র শিল্প ৮ টাকা ৫৩ পয়সা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ৬ টাকা ০২ পয়সা, বানিজ্যিক ১০ টাকা ৩০ পয়সা হারে নেয়া হয়। বিদ্যুৎ অফিসের ভাষ্য অনুযায়ী নড়াইলে মোট বিদ্যুৎ এর চাহিদা আছে ৩০ থেকে ৪৭ মেগা ওয়াট আর চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনে এবং রাতে ৩-৪ বার বিদ্যুৎ যায়। মেঘ বৃষ্টি না হলে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ২-৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না আর আকাশে মেঘ দেখলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, বৃষ্টি হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের দেখা মেলে না। অনেক সময় ২/১ দিন বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে হয় এলাকাবাসীকে।

আউড়িয়া গ্রামের ব্যাবসায়ী আতিকুল ইসলাম প্রিন্স জানান, দিনের বেলা প্রতিদিন কম পক্ষে ২ বার বিদ্যুৎ যায় এবং সন্ধ্যার পর প্রায়ই নিয়মিত লোডশডিং হয়। তার অভিযোগ এই লোডশিডিং এর কারণে ছেলেমেয়েরা ঠিক মতো লেখাপড়া করতে পারে না। উপায় না পেয়ে ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করে বিদ্যুতের যন্ত্রনায় সম্প্রতি গ্রাম থেকে শহরে বাসা ভাড়া করে থাকেন তিনি।

আড়পাড়া গ্রামের কৃষক তজিবর শেখ জানান, প্রয়োজনের সময় ঠিকমতো বিদ্যুৎ পান না তারা। সে জন্য বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প ব্যাবহার না করে ডিজেল চালিত স্যালো মেশিন দিয়ে পানি তুলে বোরো আবাদ করেন তিনি।

মরিচপাশা গ্রামের ৮২ বছর বয়সী বৃদ্ধা সাহিদা বেগম জানান, রাতের বেলা মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চলে যায় তখন ঘুম ভেঙ্গে যায় আবার বিদ্যুৎ আসলে তখন ঘুমাই। তার দাবি দিনের বেলা বিদ্যুৎ গেলেও রাতে যেন বিদ্যুৎ না যায়।

নড়াইল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবু আনাস মো. নাসের জানান, ২ বছর হলো নড়াইলে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। এখন আর লোডশেডিং নেই তবে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় লাইন বন্ধ রেখে কাজ করতে হয় তখন সেই এলাকাতে বিদ্যুৎ থাকে না। ছোট একটি এলাকায় কাজ করলেও অনেক সময় ১৫-২০ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে পড়ে, এটাকে লোডশেডিং বলা যাবে না। নড়াইল জেলায় বর্তমানে ৫টি সাবস্টেশন এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। আরও ৫টি সাবস্টেশনের কাজ চলমান রয়েছে। এই সাবস্টেশনগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হলে ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।

১৪ জুন কত সময় লোডশেডিং ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিদুৎ কর্মকর্তা জানান, ১ মিনিটও লোডশেডিং ছিল না। যেসব এলাকায় কাজ করছিল শুধু সেই সব এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না এটাকে লোডশেডিং বলা যাবে না।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/46894
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ