Printed on Sun May 09 2021 5:06:42 AM

ময়মনসিংহে রমজানের আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে ময়দা, কমেছে মুরগির দাম

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ
সারাদেশ
ময়দা
ময়দা
রমজানের আগ মুহূর্তে ময়মনসিংহে ময়দা, আদা, হলুদ, শুকনো মরিচের পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছসহ বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। বিপরীতে সরু চাল, খোলা সয়াবিন, পাম অয়েল, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, ছোলা, আলু, রসুন, ব্রয়লার মুরগি ও খেজুরের দাম কমেছে।

২ এপ্রিল শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাড়পাড় সংলগ্ন কাঁচাবাজার, মেছুয়া বাজার ঘুরে ও মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারদরের এসব তথ্য পাওয়া যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, খোলা ময়দার দাম ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা, প্যাকেট ময়দা ৪২ থেকে ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শুকনো মরিচের গুঁড়া গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, হলুদের গুঁড়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি আদা ৭০-৮০ টাকা, খেজুর ১২০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বোতলের পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৬২০ থেকে ৬৪০ টাকা। তবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, কোয়ালিটি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে লাফিয়ে বাড়ছে মাছের দাম। ছোট মাছগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতের নাগালে নেই সাধারণ ক্রেতাদের। মলা প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, চাষের গুলশা ৩০০ টাকা, শিং ৩০০-৩৫০ টাকা, বড় টেংরা ৩৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪০০ টাকা, বাতাই ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশি মাগুর ৪০০ টাকা, দুই কেজি ওজনের রুই প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চার কেজি ওজনের কাতল প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০০ টাকা ও পাঙ্গাস প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা। কিছুদিন আগে ইলিশের দাম সামান্য কমলেও এখন কেজিতে দুই শ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে, গলদা চিংড়ি প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমে ৫০০ টাকা ও তিন কেজি ওজনের সিলভার কার্প প্রতি কেজিতে ২০ টাকা কমে ১৫০ টাকা।

মাছ ছাড়াও বেশিরভাগ সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বেগুন গত সপ্তাহে ১৫ টাকা থাকলেও এখন ২০-২৫ টাকা, গাজর কেজিতে পাঁচ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫-২০ টাকা, টমেটোর দাম ৭-১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ টাকা, গত সপ্তাহে বরবটি ৫০-৬০ টাকা থাকলেও এখন ৭০-৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫-৪০ টাকা, কাঁচা পেপে ১০ টাকা কেজি, লেবু ২০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। কমেছে ঢেড়স, সজনে, করলা, পটলের দাম। ঢেড়স গত সপ্তাহে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৫০ টাকা, শসার দাম ১০ টাকা কমে ২০ টাকা, সাজনার দাম অর্ধেক কমে ৫০ টাকা কেজি, করলা ৪০ টাকা থেকে এখন ২০-২৫ টাকা, পটল ৮০ টাকা থেকে এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় আলু ১৮-২০ টাকা, ছোট আলু ২০ টাকা, দেশি আদা ৭০-৮০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩২ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ টাকা, দেশি রসুন ৬০ টাকা ও ভারতীয় রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে দেশি মুরগি কেজি প্রতি ৪২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা, পাকিস্তানি ২৮০ টাকা, সোনালি ২৯০ টাকা, গরুর মাংস ৫৬০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছেে।

গাঙ্গিনাড়পাড়ের মুদি দোকানদার মোহাম্মদ আলী জানান, মোটা মসুর ডাল পাঁচ টাকা কমে ৬৫ টাকা কেজি, চিকন ডাল ১২০ টাকা, খোলা আটা ৩০ টাকা, প্যাকেট আটা ৩২ টাকা, আতপ চাউল ৮০ টাকা কেজি, ছোলা পাঁচ টাকা কমে ৬৫ টাকা, ৬ কেজি ওজনের মুড়ির বস্তা ৩৮০-৪১০ টাকা, প্রতি কেজি খুচরা মুড়ি ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ চাউল প্রতি কেজি ৫২-৫৫ টাকা, পালকি ৬০-৬৫ টাকা ও ইন্ডিয়ান নাজির ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি করছেন।

মেছুয়া বাজারের শফিকুল ইসলাম ও কামরুল নামের দুই মাছ ব্যবসায়ী জানান, অন্যান্য পণ্যের তুলনায় মাছের দাম সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উঠানামা করে। গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে বেশিরভাগ মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজারে ছোট মাছের ঘাটতি থাকায় দাম বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আড়তে মাছের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন।

এই বাজারের মুরগি বিক্রি করেন মো. সুমন মিয়া৷ তিনি জানান, দেশি মুরগীর দাম কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানি মুরগির দাম ৩০ টাকা কমেছে ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমে এখন ৩২০ টাকা ও ব্রয়লার ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন।

বাজার করতে আসা বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, প্রতিবছর রমজান আসলেই একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কারণ এর আগে থেকেই গুদামে মজুদ করে রাখা হয়। রমজান মাসে বাজারদর স্বাভাবিক করতে পারলে সকলের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে। এর জন্য সংশ্লিষ্টদের উচিত কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করা।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ময়মনসিংহে ছোলা, মশুর ডাল ও চিনি ৫৫ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ২০ টাকা কেজি এবং সয়াবিন তেল ১০০ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি করছে। টিসিবির পণ্য বাজারের তুলনায় কম দাম হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এসব পণ্য কিনেছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া রমজানের দুইদিন আগে ৮০ টাকা কেজি দরে খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি। সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/40706
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ