Printed on Tue Sep 21 2021 4:36:34 PM

যে কারণে তিমির বমির দাম কোটি টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বভিডিও সংবাদ
তিমির
তিমির
শিরোনাম দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠতে পারে। সমুদ্রের বিশাল এই প্রাণীর বমি, তার দাম আবার এত টাকা! অনেকেরই খটকা লাগতে পারে বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু খটকা লাগার কিছু নেই। স্পার্ম হোয়েল নামে এক প্রজাতির তিমি মাছের বমি বা অ্যাম্বারগ্রিসের এক কেজির দামই এক কোটি রুপি বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরের অপরাধ বিভাগ পাঁচ ব্যক্তিকে এই অ্যাম্বারগ্রিস চোরাচালানের দায়ে আটক করেছে। তাদের কাছে প্রায় ৮০ কোটি রুপি মূল্যের অ্যাম্বারগ্রিস ছিল বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে কেন এত দাম এই তিমির বমির? ফরাসি শব্দ অ্যাম্বার আর গ্রিস মিলে ইংরেজি অ্যাম্বারগ্রিস শব্দটি এসেছে। অবশ্য 'ফ্লোটিং গোল্ড: এ ন্যাচারাল অ্যান্ড (আনন্যাচারাল) হিস্ট্রি অব অ্যাম্বারগ্রিস' বইয়ের লেখক ক্রিস্টোফার কেমপ অ্যাম্বারগ্রিসকে তিমির বমি বলতে নারাজ। কারণ কোনো খাবার খাওয়ার পর হজম না হলে সাথে সাথে মুখ দিয়ে কোনো কিছু বের হলে তাকে বমি বলা হয়।

কিন্তু স্পার্ম তিমির পাকস্থলিতে অ্যাম্বারগ্রিস তৈরি হতে বছরের বেশি সময় লেগে যায়। স্পার্ম তিমি হাজার হাজার স্কুইড খায়। মাঝে মাঝে সেই স্কুইড পাকস্থলি ও অন্ত্রের মাঝখানে জায়গায় গিয়ে জমা হয়। আর সেটাই দীর্ঘদিন পর অ্যাম্বারগ্রিসে পরিণত হয়। পরে এক সময় স্পার্ম তিমি তা মুখ দিয়ে বের করে দেয়। অ্যাম্বারগ্রিস খানিকটা মোমের মতো পিচ্ছিল হয়।

তবে প্রথমে যখন তিমির মুখ থেকে বের হয় তখন সেটাতে কিছুটা বাজে গন্ধ থাকে। কিন্তু যখন তীরে আসার পর এটা আস্তে আস্তে শক্ত হয়, তখন এর দারুণ গন্ধ হয়। এজন্য সুগদ্ধি তৈরিতে ব্যাপক চাহিদা এই অ্যাম্বারগ্রিসের। বিশ্বের বিভিন্ন দামি সুগন্ধি ছাড়াও বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় এই অ্যাম্বারগ্রিস।

সুগন্ধি তৈরিতে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় আর সহজলভ্য না হওয়ার বাজারে অ্যাম্বারগ্রিসের এতো দাম বলে জানা গেছে। এতো দামের কারণে একে ফ্লোটিং গোল্ড বা ভাসমান সোনাও বলা হয়।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51577
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ