Printed on Tue May 11 2021 7:46:51 AM

জমিদারদের জরাজীর্ণ রংমহল

নাঈম ইসলাম, শেরপুর
সারাদেশ
রংমহল
রংমহল
শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন গুলোর একটি তিনআনী জমিদারদের রংমহল । এ রংমহলের মালিক ছিলেন জমিদার সত্যেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরী। এর স্থাপত্যশৈলী অন্য জমিদার বাড়ি থেকে স্বতন্ত্র। বাহারি কারুকাজ আর অপরূপ নকশাঁ করা স্তম্ভগুলো যে কোন দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করবে।

জেলা সরকারি তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, জমিদার বাড়ির ঠিক দক্ষিণ পূর্ব কোণে রংমহলটি অবস্থিত। যা দেখে সহজেই ধারণা করা যায় জমিদাররা ছিল সংস্কৃতিমনা। নাচ গানসহ অন্যান্য সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এখানেই হত। এজন্য প্রায় সব জমিদার বাড়িতেই রংমহল ছিল।

রংমহল

উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বি এই স্থাপত্যটিতে রয়েছে অনেক গুলো কাঠের জানালা। জানালার উপরে দর্শানীয় ভেন্টিলেশনের ব্যবহারও রয়েছে, যা ইচ্ছা মত ব্যবহার করা যেত। এছাড়াও ছাদের নিচের অংশে কাঁচের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে পর্যাপ্ত আলো, বাতাস ভিতরে প্রবেশ করতে পারে।

সমস্ত ভবনটির গা জুড়ে বিভিন্ন রকমের নকশা করা ফুল, লতা-পাতা ও মটিভ ব্যবহার করা হয়েছে। কার্নিশ ও কার্নিশের নিচে রয়েছে অপরূপ নকশা। দক্ষিণ অংশটিতে ভারি কারু কাজের ছোঁয়া। এ দিকটাই ভবনটির সম্মুখ অংশ। ছয়টি গোলাকৃতি স্তম্ভ ও দুই কোণায় দুটি চার কোণা স্তম্ভের নিচ থেকে শেষ ভাগ পর্যন্ত নকশা করা।

রংমহল

দক্ষিণ দিকের অংশের সামনে রয়েছে ছয়টি গোলাকার স্তম্ভ। দুই কোণায় কোণাকৃতির স্তম্ভে ব্যবহার করা হয়েছে ব্লক। স্তম্ভগুলির নিচে থেকে শেষ পর্যন্ত অলংকৃত। ছাদ এবং কার্নিশের উপরের অংশে পাঁচটি প্রধান ও অনেকগুলো মিনারাকৃতি গম্বুজের আদলে নকশাঁ রয়েছে, যা স্থাপত্যটিকে অধিক আকর্ষণীয় করেছে। কার্নিশেও বিভিন্ন ফর্মের ব্যবহার দেখা যায়।

জানা যায়, শেরপুরের জমিদারদের মধ্যে তিনআনী জমিদার পরিবার শিক্ষিত এবং সংস্কৃতিমনা ছিলেন। তাদের ছিল জয় কিশোর লাইব্রেরি ভবন, ক’ল দেবতা অন্নপূর্ণা-গোপীনাথের অপরূপ সুন্দর মন্দির। যার মাঝে রয়েছে প্রাচ্য, পাশ্চাত্য ও মুসলিম স্থাপত্যরীতির অপূর্ব সমন্বয়। লাইব্রেরিতে ছিল পাঁচ হাজারেরও বেশি বই। আর বইগুলোর বেশিরভাগই ছিল বিজ্ঞান বিষয়ক।

রংমহল

পরে আধুনিক ইতিহাসে জমিদার বাড়িটিকে কৃষি প্রশিক্ষণালয়ে রূপান্তরিত করা হলে লাইব্রেরি ভবনটি ভেঙে সেখানে টিনশেডের শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ করা হয়। রংমহলটি এক সময় কৃষি প্রশিক্ষণালয়ের প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার হলেও এখন তা আর ব্যবহার হচ্ছে না।

কেননা জমিদারি বিলাসিতার রংমহলের দিন ফুরিয়ে গেছে। ভবনটি এতোই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে যে, সামান্য বৃষ্টিতেই এর ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। স্থানে স্থানে সুড়কির গাঁথুনি নড়বড়ে। দেয়ালের পলেস্তার খুলে পড়ে যখন তখন।

পর্যটকদের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান শেরপুর ট্যুরিজমের ইখতেখার পাপ্পু জানান, জমিদার আমলের ইতিহাস বহনকারি দৃষ্টিনন্দন রংমহলটি সরকারিভাবে সংস্কার করা জরুরি। এখান থেকে মানুষ প্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য জানতে পারবে।

পর্যটকদের কাছে এই প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর রংমহলটির প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করে আকর্ষণীয় করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন : রোমান স্থাপত্যের আদলে নির্মিত জমিদার বাড়ির বাঁধাঘাট

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/26456
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ