Printed on Fri Aug 06 2021 3:06:40 AM

দুই নায়িকাসহ পাক নারীর প্রেমে রঙিন ছিল দিলীপের জীবন

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন
রঙিন
রঙিন
তিনি বলিউডের ‘ট্র্যাজেডি কিং’। তবে পর্দায় ট্র্যাজেডির নায়ক দিলীপ কুমারের ব্যাক্তিগত জীবন ছিল বরাবরই রঙিন। হতে চেয়েছিলেন ব্যবসায়ী । কিন্তু ঘটনাচক্রে হয়ে গেলেন নায়ক। তার পর তার অভিনয় জীবন প্রায় ছয় দশক বিস্তৃত হয়েছে বলিউডে। জীবনে বহু উত্থানপতন দেখেছেন। আবার নায়িকাদের প্রেমেও পড়েছেন একাধিক বার। ৭ জুলাই বুধবার তার মৃত্যুতে একটা যুগের অবসান হল।

বলিউডের প্রথম ‘খান’ দিলীপ। তার বয়স হয়েছিল ৯৮। দীর্ঘ দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ফুসফুসে ফ্লুইড জমছিল বারবার। গত এক বছর একরকম শয্যাশায়ীই হয়ে পড়েছিলেন দিলীপ। তবে স্ত্রী সায়রা বানু বরাবর পাশে থেকেছেন। এমনকি শেষ সময়েও দিল্পীপের পাশে ছিলেন সায়রা।

দিলীপের বাবা ছিলেন অবিভক্ত ভারতের পেশোয়ারের বিশিষ্ট শির্পপতি। তবে বাবার সঙ্গে একরোখা ছেলের সম্পর্ক কিছুতেই ভালো ছিল না। কথা কাটাকাটির জেরে এক দিন বাড়ি ছেড়েই বেরিয়ে পড়লেন কিশোর ইউসুফ।



বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্যবসা শুরু করলেও মাসানি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি গেলেন মুম্বাই টকিজে। প্রথম দিকে ইউসুফ ছবির গল্প বাছাই এবং চিত্রনাট্য লেখার কাজে সাহায্য করতেন। খুব ভাল জানতেন উর্দু। ফলে নিজের কাজে সুনাম অর্জন করতে সমস্যা হল না তার।

অভিনেত্রী দেবিকারানি তাকে প্রস্তাব দিলেন অভিনয়ের। ১৯৪৪ সালে মুক্তি পেল অমিয় চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘জোয়ার ভাটা’। দেবিকারানির পরামর্শে নাম পাল্টে ফেললেন ইউসুফ খান। ছবির জন্য তার নাম হলো দিলীপ কুমার। এর পর বাকিটা ইতিহাস।

প্রায় ছয় দশক ধরে বিস্তৃত কেরিয়ারে দিলীপ কুমার অভিনয় করেছেন ৬৫টির বেশি ছবিতে। ‘দেবদাস’, ‘কোহিনুর’, ‘মধুমতী’, ‘মুঘলে আজম’, ‘গঙ্গা যমুনা’, ‘রাম অউর শ্যাম’, ‘শক্তি’ , ‘মসান’, ‘ক্রান্তি’, ‘সওদাগর’-সহ অসংখ্য ছবির নায়ক হয়ে গেলেন বলিউডের ‘ট্র্যাজেডি কিং’।

ক্যারিয়ারের মতো বর্ণময় ইন্ডাস্ট্রির ‘প্রথম খান’এর ব্যক্তিগত জীবনও। ১৯৪৮ সালে মুক্তি পায় ‘শহিদ’। ছবিতে দিলীপ কুমারের নায়িকা ছিলেন কামিনী কৌশল। এই ছবিতে অভিনয় করার সময়ে তাদের প্রেম ছিল ইন্ডাস্ট্রিতে বহুচর্চিত বিষয়। দু’জনে বিয়ে করবেন বলেও ঠিক করেছিলেন। কিন্তু বাধা দিলেন কামিনীর দাদা। তিনি রাজি ছিলেন না এই সম্পর্কে।

এর পর দিলীপকুমার প্রেমে পড়েন মধুবালার। দীর্ঘ সাত বছর চলেছিল তাঁদের প্রেমপর্ব। এই সম্পর্ক ভেঙে যায় দুই তারকার ইগো সমস্যায়।



পরে ১৯৬৬ সালে দিলীপ বিয়ে করেন সায়রা বানুকে। সায়রা বানুকে বিয়ের সময় দিলীপকুমারের বয়স ছিল ৪৪ বছর। সায়রা বানু ছিলেন ঠিক অর্ধেক, মাত্র ২২ বছর। পরে সায়রা বানু একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি ১২ বছর বয়স থেকেই দিলীপ কুমারের অন্ধ ভক্ত ছিলেন। দিলীপ কুমারের ছবির ভক্ত সায়রা বানু নিজেই এক দিন পা রাখলেন ইন্ডাস্ট্রিতে।

তবে আশির দশকের গোড়ায় কিছুটা হলেও ঝড়ের মুখে পড়েছিল তাদের দাম্পত্য। পাকিস্তানের নাগরিক আসমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন দিলীপ কুমার। এমন গুঞ্জনও শোনা যায়, তিনি সায়রা বানুকে ডিভোর্স করে বিয়ে করেছিলেন আসমাকে।

কিন্তু দিলীপ কুমাররে দ্বিতীয় বিয়ে নাকি মাত্র দু’বছর স্থায়ী হয়েছিল। সেই সম্পর্ক ভেঙে তিনি ফিরে আসেন সায়রা বানুর কাছে। আবার বিয়ে করেন তাকে। এর পর সায়রা বানু অভিনয় পুরোপুরি ছেড়ে দেন। তাদের মতো দীর্ঘ বসন্তের দাম্পত্য বলিউডে বিরল।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48392
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ