Printed on Mon Apr 12 2021 4:39:00 PM

আত্মহত্যা নয় বাবাই হত্যাকারী, মা’কে হত্যার বিবরণ দিল শিশু কন্যা

নীলফামারী প্রতিনিধি
সারাদেশ
শিশু কন্যা
শিশু কন্যা
নীলফামারীর সংগলশী ইউনিয়নের শিমুলতলীর গৃহবধূ রোজিনা আকতার (২৫) মারা যান চার মাস আগে। তখন বলা হয় ওই গৃহবধূ ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার এতাদিন পরে হলেও জানা গেল আসল রহস্য। ওই গৃহবধূ আসলে আত্মহত্যা করেননি তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে তারই স্বামী ইউনুস আলী(৩৮)। আর ঘটনাটি দেখে ফেলে তাদের পাঁচ বছরের শিশু কন্যা। সেই সন্তান মুখ খুললে রহস্য ফাঁস হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীকে গলা টিপে হত্যা করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করেছিলো স্বামী ইউনুস। যা পুলিশ এবং আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে ঘটনার সময় ঘরে থাকা পাঁচ বছর বয়সী শিশু কন্যা মারিয়া।

হত্যার শিকার রোজিনা সৈয়দপুর উপজেলা উপজেলা শহরের ঢেলাপীড় উত্তরা আবাসন এলাকার দুলাল হোসেনের মেয়ে।

ইউনুস দ্বিতীয় তাকে বিয়ে করেন ২০১৬সালে। তারা শিমুলতলী এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ইউনুস আলী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাদিখোল এলাকার মৃত নাজির উদ্দিনের ছেলে।

নীলফামারী থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মাহমুদ-উন-নবী জানান, ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর শিমুলতলীর ভাড়া বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘরে তাদের সন্তান দশ মাস বয়সী আয়েশা সিদ্দিকা ও পাঁচ বছর বয়সী মারিয়া অবস্থান করছিলো।

একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ইউনুসের শ্যালক রাকিবুল ও তার স্ত্রী সিমরান। ঘটনার দিন শ্যালক ও তার স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে গলাটিপে হত্যা করে মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখেন ইউনুস।

এ সময় পাঁচ বছর বয়সী মারিয়াকে ভয় ভীতি দেখিয়ে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় হত্যাকারী।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা হলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হত্যাকাণ্ড রিপোর্ট আসায় রোজিনার বাবা নীলফামারী থানায় মামলা করেন গত ২৩ মার্চ।

মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান বিপিএম, পিপিএম এর প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনায় নীলফামারী থানার চৌকস একটি টিম রহস্য উদঘাটন শুরু করে। এক পর্যায়ে ঘটনার সময় ঘরে থাকা পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মারিয়া পুলিশের কাছে সে দিনের ঘটনার খুলে বলে।

আরও পুড়ন: ব্যাংকের জাল চালানে আত্মসাৎ হাসপাতালের ৭০ লাখ টাকা



নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুর রউফ বলেন, ইউনুসের প্রথম স্ত্রী রয়েছেন। এরই মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন রোজিনাকে। পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো তাদের। ঘটনার দিন স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলো।




তিনি বলেন, স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরে শিশুদের রেখে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বাহিরে যায় সে। পরে বাড়িতে ফিরে ডাকাডাকি শুরু করে এবং ফ্যানের সঙ্গে তাদের বোন ঝুলছে বলে শ্যালককে জানায়।

এমন পরিস্থিতিতে ঘরে ঢুকে মরদেহ নামায় রোজিনার ভাই রাকিবুল। পরে সৈয়দপুর হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। সেখান থেকে সৈয়দপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

ওসি আব্দুর রউফ বলেন, তদন্তের এক পর্যায়ে ঘটনার সময় ঘরে থাকা পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মারিয়া পুলিশের কাছে মাকে হত্যার চিত্র তুলে ধরে এবং আদালতে জবানবন্দি দেয়।

এ ঘটনায় ইউনুসকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয় এবং আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দেয় সে। আদালতের নির্দেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন: খেলতে গিয়ে গলায় ফাঁস পড়ে শিশুর মৃত্যু

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/41279
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ