Printed on Sat Jul 31 2021 5:57:25 AM

অনন্তপুরে ধুকছে শীতলপাটি বুননের পেশা

ফেনী প্রতিনিধি
সারাদেশ
শীতলপাটি
শীতলপাটি
শীতলপাটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এখনো গ্রাম গঞ্জে শীতল পাটিতে বসিয়ে মিষ্টি খাওয়ানো ছাড়া নববধূকে ঘরে তোলা হয় না। কনের সঙ্গে বিভিন্ন উপঢৌকনের সঙ্গে একটি শীতল পাটি দেয়ার নিয়ম এখনো অহরহ চোখে পড়ে। কিন্তু কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে শীতল পাটি ও এ পেশা বিলুপ্তির পথে।

এখনো শীতল পাটি বোনার ঐতিহ্যবাহী পেশা ধরে রেখেছে ফেনীর সোনাগাজী, ফেনী সদর লেমুয়া ও পরশুরামের কয়েকটি গ্রামের মানুষ। এইসব গ্রামে প্রতিটি পরিবারই পাটি বানানোর পেশায় জড়িত। তবে এখন বয়স্করা শীতল পাটি বানালেও কম বয়সীরা সাধারণ পাটি তৈরি করছে।

পরশুরামের অনন্তপুর গ্রাম শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য এখনও ধরে রেখেছে। এই গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে একই দৃশ্য চোখে পড়ে স্কুল পড়ুয়া কিশোরী থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধা সকলেই পাটি বানানোর কাজে ব্যাস্ত। তাদের সঙ্গে পরিবারের পুরুষ সদস্যরাও সমনতালে পাটি বানানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। এটা অনন্তপুর গ্রামের প্রায় সবকটি পরিবারের প্রধান পেশা। পাটি বিক্রি করে তাদের যা আয় হয় তা দিয়ে চলে সংসার ও ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ।

পরশুরামের কয়েকটি গ্রামে ঘুরে জানা গেছে, এক সময় দূর-দূরান্ত থেকে ফেনীর পরশুরামে ব্যবসায়ী আসত শিতল পাটি কিনেতে। এখানকার লোকজনের অন্যতম পেশা ছিল পাটি বানানো। বর্তমানে পরশুরামের অনন্তপুর গ্রাম ব্যতিত অন্য কোন গ্রামে পাটি বানানোর মতো লোক নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র পার্শ্ববর্তী কোলাপাড়া গ্রামের কিছু অংশে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার পাটি বানানোর পেশায় রয়েছে। পর্যাপ্ত মোর্তাক গাছের উৎপাদন ও সরবরাহ না থাকায় এবং পাটির উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় হারাতে বসেছে এ ঐতিঞ্য। একই সঙ্গে পাটির বিকল্প রেক্সিনের সহজলভ্যতার কারণে পাটির চাহিদা কমেছে।

এছাড়া ও সরকারি ও বেসরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা না থাকায় পাটি শিল্প অনেকটা বিলুপ্তির পথে। একসময় পরশুরাম বাজারে বিশাল একটি এলাকা জুড়ে শুধু পাটির বাজার বসত।

পেশা

৪-৫ হাতের একটি সাধারণ পাটি ৫ থেকে ৬ শ টাকা দরে বিক্রি করে। একই মাপের একটি শীতল পাটি ৮ শ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। সাড়ে তিন হাত থেকে সাড়ে চার হাতের একটি পাটি ৪ শ থেকে ৫ শ টাকায় এবং একই শীতল পাটির দাম প্রায় ৭ শ-৮ শ টাকা।

অনন্তপুর গ্রামের রমেশ চন্দ্র নাথের ছেলে স্বপন নাথ (৫০) জানান, তিনি ও তার স্ত্রী দুজনে পাটি বানান। তাদের একমাত্র পেশাই এটি।

তিনি জানান, আগে পরশুরামের অনেক গ্রামের লোকজন পাটি বানাতো কিন্তু এখন পরশুরাম উপজেলার মধ্যে অনন্তপুর গ্রাম ছাড়া আর কোন গ্রামে তেমন কেউ পাটি বানায় না। পর্যাপ্ত মোর্তাক গাছের উৎপাদন না থাকায় পাটি পেশা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এই পাটি শিল্পকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যাবে হয়ত।

আরও পড়ুন: করোনায় পেশা আর ঢাকা ছাড়ছে মধ্যবিত্তরা

আরও পড়ুন: ভাঙ্গা যেন দুবাই!

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/46940
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ