Printed on Mon Jan 18 2021 3:43:01 AM

শীতের আড্ডায় গরম পিঠা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
সারাদেশ
শীতের আড্ডায়
শীতের আড্ডায়
শীতের আড্ডায় নানা ধরনের পিঠা নিয়ে জমে উঠেছে লালমনিরহাটের ফুটপাতের পিঠার দোকানগুলো। ঠাণ্ডা হাতে ধোঁয়া উড়া গরম গরম পিঠা খেতে ভীড় করতে দেখা যায় স্থানীয়সহ পথচারীদের।

জানা গেছে, হিমালয়ের পাদদেশের লালমনিরহাট জেলায় শীত আসে অনেকটা আগেই। এর দাপট যেমন দীর্ঘ, তেমনি দীর্ঘস্থায়ী। শীতের আমেজে মানুষের দৈনন্দিন কার্যকর্মের মতই পরিবর্তন ঘটে রুচি আর পোশাকেও। শীতকালে গরম কাপড় ছাড়া বাহিরে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

‘ভোজন প্রিয় বাঙালি’ বৈশিষ্ঠ্য পুরোপুরি ধারণ করেছে এ জেলার মানুষ। শীতে তাদের ভোজনে আসে আমুল পরিবর্তন। শীতকালে হাট বাজার, গ্রাম-গঞ্জ, ফুটপাত ও মহাসড়কের পাশে জমে ওঠে পিঠাপুলির আড্ডা।

এসময় লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের দীর্ঘ ১ি০০ কিলোমিটার পথে অসংখ্য পিঠা-পুলির দোকান বসে। এবারও এর ব্যর্তয় ঘটেনি। যাত্রাপথে একটু দাঁড়িয়ে ক্লান্ত পথিকরাও যুক্ত হন শীতের পিঠার আড্ডায়। ঠান্ডা হাতে গরম গরম পিঠায় শরীর তাপিয়ে যাত্রা শুরু করে তারা। এভাবে নানান ধরনের গরম গরম পিঠা বিক্রি করে সংসারের চাকা সচল রাখে নিম্ন আয়ের অসংখ্য মানুষ। এরা সবাই মৌসুমী পিঠা ব্যবসায়ী।

লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের আদিতমারী স্বর্ণামতি সেতুপাড়েও জমে উঠেছে শীতের পিঠা-পুলির আড্ডা। সেতুপাড়ে বেশ কয়েকটি পিঠা-পুলির দোকান বসেছে। তবে আড্ডা জমে শফিকুলের পিঠায়।

ধোঁয়া উড়ানো ভাপা পিঠা, তেল পিঠা, চিতই, দুধ পিঠা, চিংড়ি মাছ চপ, ধনে পাতার চপ ও গরম গরম ভুনা খিঁচুরি। নানান ধরনের ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা পরিবেশন করা হয়। শীতের ঠাণ্ডায় পিঠার গন্ধে স্বর্ণামতি সেতুপাড়ের চেহারা হয়ে যায় একেবারে অন্যরকম। গরম গরম পিঠার স্বাদ নিতে অনেকেই ছুটে আসেন সেতুপাড়ে। শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রির আয়ে চলে শফিকুলের সংসার।

শীতের আড্ডায়

শফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের সকাল ও বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি। বাড়িতে স্ত্রী পিঠা তৈরির সরঞ্জাম প্রস্তুত করেন। আমি দিনভর বিভিন্ন ধরনের পিঠা বিক্রি করি। দৈনিক ৫-৭ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করে ৭০০-৮০০ টাকা আয় হয়। সন্ধ্যায় বিক্রি বেড়ে যায়। তখন দোকানে ভাই-ভাতিজারা সহযোগিতা করেন। দীর্ঘ ৫-৭ বছর ধরে শীতের সময় পিঠা বিক্রি করছি।

স্থানীয়রা জানায়, শীতের আড্ডায় পিঠা ছাড়া চলে না। ঠান্ডা হাতে গরম গরম পিঠা খেতে ভারি মজা। পিঠা ছাড়া শীতকাল ভাবাই যায় না। তাই কাজ শেষে সন্ধায় শফিকুলে পিঠা আড্ডায় ছুটে আসা। অনেক সময় ভোক্তাদের ভিরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পিঠা পাওয়া যায়। দাঁড়িয়ে থেকে পিঠা নিতে হলেও স্বাদ নেয়ার লোভ সামলানো অসম্ভব।

লালমনিরহাট শহরের প্রাণ কেন্দ্র মিশন মোড়েও জমে উঠেছে শীতের পিঠা-পুলির দোকান। সন্ধ্যা নামলে শীতের দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিঠা-পুলির দোকানেও ভিড় বেড়ে যায়। পিঠা বিক্রেতা সহিদুল ইসলাম বলেন, শীতে গরম গরম ভাপা ও চিতই পিঠার চাহিদা বেশি। চাহিদা বুঝে ভোক্তাদের হাতে গরম পিঠা তুলে দেয়া হয়।

ট্রাক চালক মমিন উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যা নামলে শীতের প্রকোপ বেড়ে যায়। হাতে স্টিয়ারিং রাখাও কষ্ট হয়ে উঠে। তাই মাঝে মাঝে পথে গাড়ি দাঁড় করিয়ে গরম গরম পিঠা খেয়ে শরীরটা গরম করে পুনরায় যাত্রা করি। সেতুপাড়ে মধ্যরাত পর্যন্ত পিঠা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন : নুনগড়া বা নোনতা পিঠা তৈরির পদ্ধতি

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/30052
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ