Printed on Sat Feb 27 2021 12:39:58 AM

‘শেখের বেটি আমাগো ঘর বানাই দিতেছে’

বি কে সিকদার সজল, ফরিদপুর
সারাদেশ
শেখের বেটি
শেখের বেটি
‘শেখ সাব (সাহেব) আমাগো দ্যাশটা স্বাধীন করছে। দ্যাশ স্বাধীনের পর শেখ সাব দ্যাশের জন্নি কাজ শুরু করছিলো; কিন্তুক আমরা শেখ সাবরে বাচাইব্যের পারি নাই। ম্যালাদিন শেখের বেটি দ্যাশে আসতে পারে নাই। এখন আল্লায় তারে সরকার বানানোর জন্নি ক্ষমতা দিছে। শেখের বেটি আমাগো জন্নি ঘর বানাই দিতেছে। শেখের বেটিরে আল্লায় বাঁচায়ে রাহুক।’ এভাবেই মনের আকুতি জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ফেলান নগরের বৃদ্ধা সাবিরন নেছা।

সাবিরন নেছার বয়স এখন ৭০ ছুঁই ছুঁই। স্বামী মারা গেছে দীর্ঘদিন আগে। ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জননী সে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। কামলা (জোন) দিয়ে দিনাতিপাত করে। ছেলে তার বউ নিয়ে আলাদা থাকে। সাবিরন নেছা থাকেন তার ভাই সাহেব আলীর বাড়িতে একটি ছাপড়া ঘরে। এই বয়সে এসেও মানুষের বাড়ি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে ‘উপহার’ হিসেবে দেশের গৃহ ও জমিহীন এক লাখ পরিবারকে জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন। সেই তালিকায় আছে সাবিরন নেছাও। অন্যের বাড়িতে কাজ করার ফাঁকে তিনি তার ঘর দেখতে আসেন।

ঘরজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষ ‘শেখ সাব’ নামেই ডাকেন। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন ‘শেখের বেটি’। ফেলানগর এলাকায় ঘর নির্মাণ কাজ দেখতে গেলে সাবিরন নেছার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়।

এদিকে কথা হয় জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার আরেক আরেক গৃহবধূ আসমার সঙ্গে। স্বামী ভ্যান চালিয়ে যা রোজগার করেন তা দিয়েই কোনোরকমে সংসার চলে যায়। নিজেদের কোনো ঘর নেই, জমিও নেই। দুটি ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকেন মামা শ্বশুড় আমিনদ্দিনের বাড়িতে। আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ২২০টি ঘরের তালিকায় তার নামও রয়েছে। সে প্রতিদিন সকালেই আসেন ঘরটি দেখতে। শুধু ঘর দেখাই নয়, মিস্ত্রিরা ঠিক মতো কাজ কছে কিনা তাও দেখেন।

আসমা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি আমাদের কথা মনে রাখছেন। তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘর ছাড়াও আগেও ঘর বানানো হইছে। সেখানেও অনেক লোক ঘর পাইছে। এবার আমরা পাইলাম। আল্লায় তারে মানুষের জন্য কাজ করার আরও শক্তি দিক। আমরা চাই, ম্যালা দিন বেইচ্যে থাহুক।’

চরভদ্রাসন উপজেলার শীলডাঙ্গী গ্রামের মালিহা বেগম (৫৫)। তিনিও পাচ্ছেন ঘর। কথা হয় মালিহা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার নিজের জমিও নেই, ঘরও নেই। থাকি চরের এক লোকের জমিতে একটি ছাপড়া বানিয়ে। স্বামী মারা গেছে বেশ কয়েক বছর আগে। কোনোমতে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে পরের বাড়িতে কাজ করে খাই। আমাকে ঘর দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ থাকব মৃত্যুর দিন পর্যন্ত।

তিনি বলেন, স্বপ্ন দেখতাম নিজের একটি ঘর থাকবে। সেই স্বপ্ন পূরন করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। খুব খুশি লাগছে আমার। আমি মারা গেলেও আমার ছেলে মেয়ের অন্যের বাড়িতে থাকতে হবে না।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় প্রথম দফায় সারাদেশের মতো ফরিদপুরেও ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পূনর্বাসনের জন্য নির্মিত হয়েছে ১ হাজার ৪৮০টি বসতঘর। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৫ কোটি ১৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। জেলাব্যাপী সম্পন্ন হয়েছে এক মহা কর্মযজ্ঞ। জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের নেতৃত্বে নয়টি উপজেলার ইউএনও ও এসিল্যান্ডদের তদারকিতে গড়ে উঠছে আশ্রয়হীন মানুষের স্বপ্নের ঠিকানা ‘স্বপ্ননীড়’। গৃহ নির্মাণের এই কাজে সমানতালে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের কর্মচারীরা।

সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত, এমনকি মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছে এই নির্মাণ কাজ। আগামী ২৩ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী স্বপ্ননীড়ের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সালথা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিরা মনি জানান, দাফতরিক অন্যান্য কাজে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য প্রায়শই ভোরে তিনি সরেজমিনে তদারকি করেছেন গৃহ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি।

এভাবে আলফাডাঙ্গা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, মধুখালী, ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন ও ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে এর কার্যক্রম।

সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম রেজা জানান, অফিসের কাজ শেষে কোনো কোনো দিন রাত ১২টা পর্যন্ত গৃহ নির্মাণ কাজের তদারকিতে থাকতে হয়েছে, কারণ এটা অন্য সব কাজের থেকে বেশি গুরুত্ব বহন করে। তিনি জানান, সুবিধামতো সময়ে তিনিসহ তার সহকর্মীরা এই কাজ মনিটরিং করেছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা এবং জেলা প্রশাসক নিজেও এই কাজ নিয়মিত দেখতে গিয়েছেন।

ঘর ‘আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ স্লোগানে জেলার প্রতিটি ভূমিহীন ও ঘরহীন পরিবারের জন্য থাকছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এ ঘর। প্রতিটি পরিবারের জন্য দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকা ঘর নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুধু ঘর নয়, ঘরের সাথে সাথে প্রতি পরিবারকে দেয়া হচ্ছে ২ শতাংশ করে জমি।

ঘর নির্মাণে সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। তিনি বললেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। মূলত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নানা নিরাপত্তা দেয়ার লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে এ প্রকল্প। দরিদ্র, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৮০টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। যেগুলোর কবুলিয়ত আমরা ২৩ জানুয়ারি উপকারভোগীদের হাতে দিয়ে দিব। আগামী এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফা গৃহ নির্মাণের গৃহহীন মধ্য দিয়ে আমরা ফরিদপুর জেলায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের মোট ২ হাজার ৩৫টি গৃহ ও ভূমি হস্তান্তরে সক্ষম হব।

আরও পড়ুন: নাটোরে ভূমিহীনদের দেয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার 

আরও পড়ুন: মুম্বাইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকের মহরত



ভয়েস টিভি/এসএফ



যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/32865
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ