Printed on Wed Jul 28 2021 5:41:25 PM

বিশ্বে ধূর্ত শেয়ালের যতো প্রজাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভিডিও সংবাদ
শেয়ালের
শেয়ালের
শেয়ালকে চেনে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। শেয়াল চতুর এবং তীক্ষ্ণ প্রাণী । ঝোপঝাড়ের থাকতেই পছন্দ লেজযুক্ত প্রাণী শেয়ালের। শিয়ালকে নিশাচর প্রাণী হিসেবেই আমরা জানি। দুর্দান্ত দৃষ্টিশক্তির পাশাপাশি চমৎকার শ্রবণশক্তি এবং গন্ধ অনুভূতি রয়েছে শেয়ালের ।

অনেকটা নেকড়েদের মতো দেখতে এই প্রাণীটিও পৃথিবীর অনেক দেশ থেকেই বিলুপ্তি হওয়ার পথে । দক্ষিণ এশিয়া, ইউরেশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় শেয়াল দেখতে পাওয়া যায়। শিয়ালের ৩০ টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে পৃথিবীতে। এর মধ্যে ১২টি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী শিয়াল শিকার করা নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে দুই প্রজাতির শেয়ালের মধ্যে পাতি শেয়াল অনেক কষ্টে টিকে থাকলেও খেঁকশিয়াল বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

শেয়াল সাধারণত মাংসাশী প্রাণী। এদের প্রধান খাবার মৃত প্রাণীর মাংস, খরগোশ, ইঁদুর, টিকটিকি, মুরগি, হাঁস, কবুতর, বনো ছাগল, পাখি, পোকা মাকর ইত্যাদি। তবে নদীর ধারে এরা রাতে গর্ত থেকে কাঁকড়া ধরে খায় । গর্তে লেজ ঢুকিয়ে দেয় । লেজে কাঁকড়া কামড় দিলে সেই কাঁকড়া গুলোকে ধরে ফেলে এবং মজা করে খায় । পরিবেশে ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র রক্ষায় শেয়াল অগ্রণি ভুমিকা রাখে ।

শেয়াল গড়ে চার-পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১১টি বাচ্চা প্রসব করে থাকে। লোককথা বচন রয়েছে শিয়ালের মতো একশ বছর বেঁচে না থেকে সিংহরে মতো বাচঁবো বলা হলেও শিয়ালের গড় আয়ু দুই থেকে পাঁচ বছর। তবে বন্য পরিবেশে শিয়াল সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। প্রজননের সময় স্ত্রী শিয়ালের ডাকার মাত্রাটা বেশ তীক্ষ্ম হয়।

নিশাচর বন্য এই প্রাণীটি একদমই হিংস্র নয়। লোকালয় থেকে সবসময় খানিকটা দূরেই থাকে এরা। শুধুমাত্র খাবারের অভাব দেখা দিলেই সন্ধ্যা বা রাতের বেলা লোকালয়ে এদের বিচরণ করতে দেখা যায়। বনে খাবার না পেলে লোকালয়ে হানা দিয়ে হাঁস-মুরগি ধরে নেয়। আত্মরক্ষা ছাড়া শেয়াল কোনো মানুষের ওপর হামলা চালায় না। অবশ্য জলাতঙ্ক রোগ হলে এদের আচরণ কিছুটা বেপরোয়া থাকে।

আর্কটিক শিয়াল, বড় কানের, মাইকং, ফেনেক, তিব্বতি, কর্সাক, বাংলা শেয়াল সবচেয়ে বেশি দেখা মিলে। কর্সক প্রজাতির শিয়াল দক্ষিণ সাইবেরিয়ান স্টেপেসে বাস করছে, দীর্ঘ পা এবং কানে স্বাভাবিক থেকে আলাদা হয় কসক।

সুমেরু শেয়াল আমেরিকান এবং এশিয়ান অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। নীল এবং সাদা রং এর এই শেয়ালকে আর্টিক শিয়ালও বলা হয়। বেঙ্গল শিয়াল ভারতীয় উপমহাদেশে বাস করে। এটি বন, চারণভূমি এমনকি পাহাড়ি অঞ্চলেও পাওয়া যায়। এরা প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসে আর মানুষের হাতে মারা পড়ে।

ফেনেক শেয়াল দেখতে ছোট, লালচে সাদা রং এর হয় । এশীয় এবং উত্তর আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে খোঁজ মেলে এই শিয়াল গুলির। এই শিয়াল গুলির কান একটু বেশি লম্বা হয়। শিয়াল প্রজাতির মধ্যে এই শিয়াল গুলি সব থেকে ছোট কিন্তু কানের দিক সব থেকে বড় হয়।

ধূসর শিয়াল। পৃথিবীতে যত শেয়াল পাওয়া যায় তার মধ্যে এই প্রজাতী সবচেয়ে চতুর হয়। ধূসর শিয়ালের সাথী মারা গেলে আর কখনো অন্য শেয়ালের সাথে মিলন করে না ।

ডারউইন শিয়াল ও দ্বীপ শিয়াল একবারেই বিরল প্রজাতীর । আফ্রিকান অঞ্চল আর ক্যালিফোর্নিয়া দ্বীপে দেখা যেত । এর মধ্যে দ্বীপ শিয়াল এতোই ছোট যে প্রায়শই শিকারী পাখির শিকারে পরিণত হয়। তিব্বতি শিয়াল ভলপস ফেরিলতা এটি তিব্বত এবং নেপালের উঁচুভূমির স্টেপ্প অঞ্চলে বাস করে ।

ভয়েস টিভি/ডি
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48572
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ