Printed on Tue May 18 2021 1:31:23 AM

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ হেফাজতকর্মী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
সঙ্গে
সঙ্গে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের নন্দনপুর এলাকায় পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। ২৭ মার্চ শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া শহরের কান্দিরপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নিহতরা হলেন নন্দনপুর হারিয়া গ্রামের আবদুল লতিফ মিয়ার ছেলে ওয়ার্কশপের দোকানি জুরু আলম (৩৫), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাবিড় মিয়ার ছেলে শ্রমিক বাদল মিয়া (২৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়া বারিউড়া এলাকার মৈন্দ গ্রামের জুরু আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২২) ও বুধল ইউনিয়নের বুধল গ্রামের প্লাম্বার শ্রমিক মো. কাউওসার (২২)।

কান্দিরপাড়া এলাকায় সংঘর্ষে নিহত ছাত্রের নাম জুবায়ের (১৭)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রানা নুরুস শামস গুলিবিদ্ধ হয়ে এই পাঁচজনের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়ন থেকে বিকেল চারটার দিকে হেফাজতে ইসলামের নেতা–কর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের নন্দনপুর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজনও হেফাজতের মিছিলে যোগ দেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। পরে বিজিবি ও পুলিশ গুলি ছোড়ে।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তিন জন মারা যান। তারা তিনজনই গুলিবিদ্ধ ছিলেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আলী আহমেদের ছেলে শ্রমিক কাউসার মিয়া, নুরুল আমিন (৩৫), বাছির মিয়া (২৮) ও ছাদেক মিয়াকে (৩৫) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে সন্ধ্যার পর কাউসারের মৃত্যু হয়।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগ ও কওমি মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শহরের টিএ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংবাদকর্মীসহ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জেলার শহরের সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনের সামনে থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা ‘জঙ্গিবিরোধী’ একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা শহরের ঘোড়াপট্টি সেতু ও টিএ রোড এলাকা অতিক্রম করে। টিএ রোড এলাকায় মিছিল থেকে মাদ্রাসাছাত্রদের উদ্দেশ্য করে ঢিল ছোড়া হয়। পরে মাদ্রাসার ছাত্ররাও তাদের মিছিলকে ধাওয়া দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মিছিল থেকে কান্দিপাড়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার দিকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকেন। এতে মাদ্রাসাছাত্ররা মসজিদের ভেতরে অবরুদ্ধ থাকেন। ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা ককটেল, ছুরি, দা, লাটিসোঁটা, রামদা নিয়ে দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণ করতে শুরু করেন।

একপর্যায়ে মাদ্রাসাছাত্ররা ছাত্রলীগকে ধাওয়া দিয়ে ঘোড়াপট্টি সেতুর উত্তর দিকে নিয়ে যান। পরে মাদ্রাসাছাত্র ও ছাত্রলীগের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।

এই সংঘর্ষে আহত জুবায়েরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যার পর সে মারা যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর থেকে তার লোকজন (পুলিশ) কোনোমতে প্রাণে বেঁচে এসেছেন। পুলিশের অনেকে আহত হয়েছেন। নিহতের ঘটনায় বিষয়টি তার জানা নেই।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/40106
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ