Printed on Sun Sep 19 2021 11:20:06 PM

সচিবের মায়ের সেবায় কোনো চিঠি ইস্যু হয়নি : প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিব রওনক মাহমুদের করোনা আক্রান্ত মাকে সহানুভূতি ও আবেগের জায়গা থেকে দেখতে গেছেন। অন্য কিছু নয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের মায়ের সেবায় মন্ত্রণালয় ও দফতরের ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ২৪ আগস্ট মঙ্গলবার তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, আমি ঢাকার বাইরে ছিলাম। গণমাধ্যমের সূত্র ধরে জানতে পেরেছি, আমাদের মন্ত্রণালয়ের সচিবের মায়ের চিকিৎসার জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ একনেক মিটিংয়ে আমি সচিব মহোদয়কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছেন, আমি কাউকে এ ধরনের কাজ করতে বলিনি। তিনি নিজেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, তার (সচিব) ৯৫ বছর বয়সী মা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি অসুস্থ মাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। হয়তো মন্ত্রণালয়-অধিদফতরের কেউ কেউ হাসপাতালে সহানুভূতি জানাতে যেতে পারেন, সেখানে তিনি কাউকে কোনো দায়িত্ব প্রদান করেননি।

করোনা আক্রান্ত হয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের মা। সচিবের অসুস্থ মায়ের সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে এক উপসচিবসহ ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী- এমন খবর সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

খবরে বলা হয়, মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি ইস্যু করে তিন দিনের জন্য চার শিফটে তাদের এ দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর এ দায়িত্ব সমন্বয় করছেন সচিবেরই একান্ত সচিব আজিজুল ইসলাম।

পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনা হয়।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, সচিবের মায়ের সার্বিক অবস্থা সার্বক্ষণিক সচিবের পিএসকে জানানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া চিকিৎসকের সাথে যথাযথভাবে যোগাযোগ করা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, দ্রুত পরীক্ষার রেজাল্ট সংগ্রহ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচিবের অসুস্থ মায়ের কাছে সার্বক্ষণিক তাদের থাকতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে দেখা গেছে, ২৩ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিস্টেম এনালিস্ট মো. ইলিয়াস হোসেন ও অফিস সহায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিএলআরআই ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আসলামুল আলাম, ট্রেইনি সহকারী মো. সানোয়ার হোসেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের এনিমেল প্রোডাকশন অফিসার আলী রেজা আহমেদ ও ল্যাব টেকনেশিয়ান বিভূ চন্দ, রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মৎস্য অধিদপ্তরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ও ট্রেইনি সহকারী সানোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। এভাবে বাকি দু'দিনের জন্য অন্য কর্মকর্তা কর্মচারীকে শিফটিং দায়িত্ব পালনে তালিকা তৈরি করে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে খবরে বলা হয়।

মন্ত্রী বলেন, আমি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, মন্ত্রণালয়ের সচিবের মায়ের দেখভাল করার জন্য কাউকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে যেসব চিঠি ইস্যু করা হয়, তার একটা দাফতরিক তারিখ থাকে, সময় থাকে এবং কর্মকর্তার সাক্ষর থাকে। মন্ত্রণালয় থেকে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কাউকে দায়িত্ব দিয়ে কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়নি।

উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকলে গণমাধ্যমের অনেকে সহানুভূতি জানাতে বা খবর নিতে যেতে পারেন। অন্যরাও যেতে পারেন। একইভাবে তাকে (সচিবের মাকে) দেখতে যেতে পারেন, সহানুভূতিও জানাতে পারেন।

আরও পড়ুন : বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক: শেখ কামাল চরিত্রে থাকছে না রওনক

ভয়েস টিভি/এএন
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/52167
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ