Printed on Fri Aug 06 2021 3:39:17 AM

সম্পদ যখন বিপদের কারণ

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
ধর্ম
সম্পদ
সম্পদ
ধন-সম্পদ পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য। স্বস্তিকর জীবনযাপনে সম্পদের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি পার্থিব জীবনের শোভা; এবং স্থায়ী সৎকর্ম তোমার প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য শ্রেষ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত হিসেবেও উত্কৃষ্ট।’ (সুরা কাহফ, আয়াত : ৪৬)

সম্পদ বিপদেরও কারণ : সম্পদ যদি সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা না হয়, তবে তা মানুষের জন্য বিপদেরও কারণ হতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি তো পরীক্ষাবিশেষ; আর আল্লাহ, তাঁরই কাছে আছে মহাপুরস্কার।’ (সুরা তাগাবুন, আয়াত : ১৫)

কল্যাণকর জিনিসেও বিপদ থাকে : অসতর্কতা ও অসদ্ব্যবহারের কারণে কখনো কখনো কল্যাণকর বিষয় বিপদের কারণ হয়। যেমন তরকারি কাটার বঁটিতে কখনো কখনো হাতও কেটে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা বিশেষভাবে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যানীত হবে।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৩৫)

সম্পদ যখন বিপদের কারণ হয় : পার্থিব জীবনের অতি প্রয়োজনীয় সম্পদ কখনো কখনো বিপদের কারণ হয়। যেমন—

১. মোহগ্রস্ত হওয়া : সম্পদের মোহ মানুষকে বিপদগ্রস্ত করে, তাকে অন্যায় কাজে উদ্বুদ্ব করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দুনিয়ার মোহ সব পাপের মূল।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ)

২. কৃপণতা করা : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা কৃপণতা করে, মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তা গোপন করে আর আমি আখিরাতে অবিশ্বাসীদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৭)

৩. সম্পদ পূঞ্জীভূত করে রাখা : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদের মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের অগ্নিতে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দ্বারা তাদের ললাটে, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেওয়া হবে। সেদিন বলা হবে, এটা হলো তা, যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। সুতরাং তোমরা যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তা আস্বাদন কোরো।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩৪-৩৫)

৪. সুদি লেনদেন করা : সুদ নিষিদ্ধ : ধ্বংস ও পোষণের হাতিয়ার সুদ নিষিদ্ধ। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৫)

৫. অবৈধ উপায়ে উপার্জন : ইসলামে অবৈধ ও অন্যায় উপার্জন নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কোরো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করতে তা বিচারকের কাছে পেশ কোরো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৮)

সম্পদের বিপদ থেকে বাঁচার উপায় : আল্লাহ তাআলা মানুষকে যেভাবে সম্পদের বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, তেমনি তা থেকে বাঁচার উপায়ও বলে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ দান করলে, আল্লাহভীরু হলে এবং যা উত্তম তা সত্য বলে গ্রহণ করলে আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে আর যা উত্তম তা অস্বীকার করলে আমি তার জন্য সুগম করে দেব কঠোর পথ। তার সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না, যখন সে ধ্বংস হবে।’ (সুরা লায়ল, আয়াত : ৫-১১)

আল্লাহ সবাইকে সম্পদের বিপদ থেকে রক্ষার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48787
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ