Printed on Tue Sep 21 2021 8:17:23 AM

সাগরের মধ্যেই হবে রানওয়ে, নীল জলরাশি ছুঁয়ে নামবে বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
রানওয়ে
রানওয়ে
বিমান যখন রানওয়ে ছুঁয়ে আকাশে উড়বে বা অবতরণ করবে তখন দুধারে থাকবে সারগরের অথৈ জলরাশি। আরোহীরা মুগ্ধ নয়নে উপভোগ করবে এ দৃশ্য। এটি জলবেষ্টিত মালদ্বীপ বা অস্ট্রেলিয়ার বিমানবন্দরের রানওয়ে নয়, এটি বাংলাদেশের বিমানবন্দর।

ভাবতে অবাক লাগলেও কক্সবাজারে হতে যাচ্ছে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। যার রানওয়ের একটি অংশ থাকবে সমুদ্রের ভেতরে। আর এটিই হবে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রানওয়ে। যার দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৭০০ ফুট। এ রানওয়ের ১৩০০ ফুট থাকবে সমুদ্রের মধ্যে। এই বিমানবন্দরে বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিসর উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৪৭ এর মডেলের যাত্রী বোঝাই বিমানও এখান থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে।

সমুদ্রের মধ্যে কীভাবে রানওয়ে তৈরি হবে এনিয়ে হয়তো কৌতুহল তৈরি হয়েছে। তবে সে পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত। জানা গেছে, সম্প্রসারিত অংশ সমুদ্রের যেটুকু জুড়ে হবে সেখানে পানিতে ব্লক, জিওটিউব ইত্যাদি ব্যবহার করে শুরুতেই একটি বাঁধের মতো তৈরি করা হবে। পরে বাঁধের ভেতরকার পানি সেচ করে ফেলা হবে এবং গভীর সমুদ্র থেকে ড্রেজিং করে ভেতরে এনে ফেলা হবে বালি। বালি দিয়ে ভরাটের মাধ্যমে সমুদ্রের ওই অংশটি ভরাট হলে সেখানে 'স্যান্ড পাইলিং'-এর মাধ্যমে রানওয়ের ভিত তৈরি করা হবে। সবশেষে পাথরের স্তর বসিয়ে পুরো রানওয়ে সিল করে দেয়া হবে। তার ওপর হবে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। এরপর হবে রানওয়ের শোভাবর্ধন ও নির্দেশক বাতি স্থাপনের বাকি কাজ, বলছেন প্রকৌশলীরা। বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো এই প্রক্রিয়ায় কোন বিমানবন্দরের রানওয়ে তৈরি হচ্ছে।



কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করতে সেখানকার বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এজন্য এই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। তৈরি করা হচ্ছে নতুন টার্মিনাল ভবন। এছাড়া বসানো হচ্ছে গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম, সেন্ট্রাল লাইন লাইট, সমুদ্র বুকের ৯০০ মিটার পর্যন্ত প্রিসিশন এপ্রোচ লাইটিং, ইন্সট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম, নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ ও বাঁকখালী নদীর উপর সংযোগ সেতু। সব মিলিয়ে প্রায় পৌনে চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। তবে শুধু রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য খরচ করা হচ্ছে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯ আগস্ট রোববার এই সম্প্রসারণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

এরইমধ্যে মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ইউসুফ ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি ও চলতি বর্ষার অধিকাংশ সময়ই বৈরি আবহাওয়া সত্বেও রানওয়ের কাজ থেমে নেই। পুরো বিমানবন্দর এলাকার ময়লা আবর্জনা সরানো থেকে মাটি কাটা ও ঢালাইয়ের কাজ সমানে চলছে। মহেশখালী চ্যানেলে দিকে ভূমি অধিগ্রহণ করে মাধ্যমে রানওয়ে সম্প্রসারিত করা হবে। সোনাদিয়া দ্বীপের বুক চিরে মহেশখালী চ্যানেলের কিয়দংশ ভরাটের মাধ্যমে যখন কক্সবাজার বিমানবন্দরটির রানওয়ের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে তখন দেখা যাবে সৌন্দর্য্যের আরেক ভিন্ন জগৎ।’

আরও পড়ুন: চাঁদের মাটি নিয়ে পৃথিবীর পথে অ্যাসেন্ডার

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/52616
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ