Printed on Fri Nov 27 2020 11:46:44 PM

পাবনায় উদ্বোধনের এক বছরেও চালু হয়নি সিটি স্ক্যান মেশিন

আরিফ আহমেদ সিদ্দিকী, পাবনা
সারাদেশ
সিটি স্ক্যান
সিটি স্ক্যান
প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সিটি স্ক্যান মেশিন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। অথচ এক বছর আগেই এই সিটি স্ক্যান মেশিনটি উদ্বোধন করা হয়েছে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্র থাকার পরও উচ্চ ব্যয়ে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দৌঁড়াতে হচ্ছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সহকারী রুহুল আমীন জানান, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রায় দুই কোটি টাকা দামের অত্যাধুনিক সিটি স্ক্যান মেশিন বরাদ্দ দিয়েছে। তোশিবা-১৬০ মডেলের এই মেশিনটি গত জানুয়ারি মাসে উদ্বোধন করা হয়। নিচতলায় এক্সরে বিভাগের পাশে একটি কক্ষে এটি স্থাপন করা হয়েছে। মেশিনটি চালানোর জন্য একজন টেকনিশিয়ানকেও পদায়ন করা হয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মেশিনটি পড়ে আছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে যে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে সেটি ২২০ ভোল্টের। কিন্তু সিটি স্ক্যান মেশিন চালানোর জন্য ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযোগ প্রয়োজন।

সরেজমিনে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, রোগিরা মেশিন থেকে কোন সেবা পাচ্ছেন না। কিন্তু মেশিনটি সচল রাখার জন্যেই প্রতিদিন ব্যাটারি চার্জ করে চালু করা হয়। এই ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রগুলোও সচল রাখতে হয়।

সিটি স্ক্যান মেশিন পরিচালনার কাজে নিয়জিত টেকনিশিয়ান শহিদুল ইসলাম বলেন, সচল রাখতেই প্রতিদিন মেশিনটি চালু করতে হয়। হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায়, হাই-ভোল্টেজ ব্যাটারি চার্জ করে প্রতিদিন মেশিনটি চালু করতে হয়। এছাড়া মেশিন রুমে সার্বক্ষণিক এসি চালাতে হচ্ছে। এতে করে হাসপাতালের অহেতুক খরচ বাড়ছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গড়িমসি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সাথে অনৈতিক সখ্যতার কারণেই সরকারি হাসপাতালের সিটিস্ক্যান মেশিন সচল রাখায় নানা টালবাহানা চলছে।

আরও পড়ুন- গালওয়ানে পাকা ঘাঁটি গড়েছে চীন, ধরা পড়েছে উপগ্রহচিত্রে

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারি পরিচালক আইয়ুব হোসেন জানান, হাসপাতালে মূল্যবান সিটি স্ক্যান মেশিন স্থাপন করা রয়েছে। অথচ রোগীদের সেবা দিতে না পারাটা দুুঃখজনক। বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে বার বার বলা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গণপূর্ত বিভাগ আর বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসীনতায় সিটি স্ক্যান মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না বলে দাবি হাসপাতালের এই কর্মকর্তার।

আর পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম বলছেন, ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের জন্য হাসপাতালে এরইমধ্যে পাওয়ার সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। সাব-স্টেশন নির্মাণের সব কাজ শেষ হয়েছে। এখন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানিকে (নেসকো) টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তারা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করলেই হাসপাতালে সংযোগ প্রদান করা হবে।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/24259
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2020 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ