Printed on Mon Jul 26 2021 5:24:02 AM

সুলতান ও কালো মানিকের দাম হাঁকছেন ৫৫ লাখ

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
সারাদেশ
সুলতান
সুলতান
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সুলতান ও ত্রিশালের কালো মানিক নামে ফ্রিজিয়ান জাতের দুইটি ষাঁড় আলোচনায় এসেছে। দৈহিক গঠন আর গায়ের রং আকর্ষণীয় হওয়ায় দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে দামাদামি করছেন। ‌‘সুলতান’ ষাঁড়ের মালিক দাম হাঁকছেন ২৫ লাখ টাকা, আর ‘কালো মানিক’ ষাঁড়ের মালিক দাম হাঁকছেন ৩০ লাখ টাকা। তবে, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে যিনি সর্বোচ্চ দাম দিবেন তার কাছেই বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন মালিকরা।

হালুয়াঘাট উপজেলার ১১ নম্বর আমতৈল ইউনিয়নের নাগলা বাজার এলাকায় নিজের বাড়িতে এই ‘বাহাদুর’ ষাড়টি চার বছর ধরে পালন পালন করছেন এবাদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির খাবার বাবদ প্রতিদিন ৫০০ টাকার বেশি খরচ হয়। গতবছরও কুরবানির ঈদে বিক্রি করার জন্যে হাটে তোলা হয়েছিল। তখন দাম উঠেছিলো ১৫ লাখ টাকা। দাম কম হওয়ায় তখন বিক্রি করিনি। গত এক বছরে ষাঁড় লালন পালনে খাবার বাবদ খরচ বাড়ার পাশাপাশি ষাঁড়টি আরও মাংসালি ও আকর্ষণীয় হয়েছে। সেজন্য দাম চাইছি ২৫ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত ১৭ লাখ টাকা দাম করেছেন বেশ কয়েকজন ক্রেতা। ঢাকা থেকে কয়েকজন এসে ষাঁড়টিকে পছন্দ করেছেন। তারা পরিবারের সাথে পরামর্শ করে চূড়ান্ত দাম জানাবে। এছাড়া ষাঁড়টিকে দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন এসে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন।

ষাঁড়টিকে নিয়মিত চিকিৎসা দেন স্থানীয় পশু চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, বাহাদুর ষাঁড়টির উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট, লম্বা ৭ ফুট, দাত ৮টি, ওজন ৩৬ মন (১৪৪০ কেজি) ও গায়ের রং সাদা কালো। ষাঁড়টিকে নিয়মিত খড়, কলা, ভুসি, খুদি ও ভুট্টা খাওয়ানো হয় এবং আমার জানামতে শরীরে কোনো ধরনের রোগ নেই।

এছাড়া ক্রেতাদের আকর্ষণ করেছে ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের জাকির হোসেন সুমনের ‘কালো মানিক’ ষাঁড়টি। তিনিও চার বছর ধরে ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টি লালন-পালন করছেন। আকর্ষণীয় এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন সুমনের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন নানা বয়সের মানুষ।

ষাঁড়ের মালিক সুমন বলেন, গায়ের রং কালো হওয়ায় গত বছর কোরবানির ঈদের আগে ষাঁড়টির নাম দিয়েছিলাম ‘কালো মানিক’। তখন আশানুরূপ দাম না হওয়ায় বিক্রি করিনি। ষাঁড়টির খাবার বাবদ প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হয়। তাই দাম চাচ্ছি ৩০ লাখ টাকা। আশা করছি এবার ন্যয্য দামে বিক্রি করতে পারবো।

স্থানীয় পশু চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম জানান, আমি নিয়মিত ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টিকে চিকিৎসাসহ পরামর্শ দিয়ে আসছি।মোটাতাজাকরণে ব্যবহার করেননি কোনো রকমের হরমোন বা ওষুধ। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করা হয়েছে। শরীরে কোনো ধরনের রোগ নেই। ষাঁড়টির উচ্চতা ৬ ফুট, লম্বা ১০ ফুটেরও বেশি। ওজন ৩৭ মনের বেশী (১৫০০ কেজি)।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জেলায় অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনা করতে (www.qurbanihatmym.com) নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। ওয়েবসাইটটি প্রশাসনের নির্ধারিত কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রণ করবেন।

তিনি আরও বলেন, ক্রেতাদের সুবিধার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এসব কর্মকর্তা পশুর খামার মালিক ও পশু বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পশুর বিস্তারিত তথ্য ওই সাইটে তুলে ধরবেন। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একজন ক্রেতা কোরবানির পশুর ছবি, ওজন, উচ্চতা, পশুর মালিকের নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর জেনে নিতে পারবেন। এরপর আলোচনা সাপেক্ষে পছন্দসই পশুটি চলে যাবে ক্রেতার ঠিকানায়। এই অনলাইনে পশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতারণার কোনো সুযোগ নেই।

সরকারি হিসেবে, জেলায় কোরবানির গরুর চাহিদা রয়েছে এক লাখ ১০ হাজারের মতো। মজুত আছে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48665
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ