Printed on Mon May 17 2021 7:15:59 PM

হারিয়ে যেতে বসেছে সোনাগাজীর ঐতিহ্যবাহী পান

জহিরুল হক মিলন, ফেনী
সারাদেশ
সোনাগাজীর
সোনাগাজীর
বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কমবেশি পান চাষ হয়। ফেনীর সোনাগাজীর চরদরবেশ ও বগাদানায় এক দশক পূর্বেও ব্যাপকহারে পান চাষ হত। কিন্তু বিগত তিন বছরে ১৭ হেক্টর থেকে কমে চাষ হচ্ছে মাত্র ১০ হেক্টর জমিতে। খরচ বেশি হওয়ায় এবং প্রশিক্ষণ ও সহায়তার অভাবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে পানচাষিরা। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে সোনাগাজীর এই ঐতিহ্য। কৃষি অফিস বলছে, সরকারিভাবে কোনো প্রশিক্ষণ বা প্রণোদনার সুযোগ নেই। তবে চাষিরা পরামর্শ চাইলে সব বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়।

পান চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় এখানকার উৎপাদিত পান ফেনী জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হত নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। উপজেলার সোনাগাজী বাজার, দাসের হাট, কারামতিয়া ও কাজিরহাটে সপ্তাহে দুই দিন বসত পানের হাট। এসব হাট পাইকার ও চাষিদের সমাগমে কোলাহলপূর্ণ হয়ে উঠত। বিকিকিনি শেষে জল ও স্থল পথে এসব পান চলে যেত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

বর্তমানে উৎপাদন বাড়ানো, রোগ নির্মূল, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা না থাকায় নতুন করে পান চাষে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। একই সঙ্গে পান চাষে খরচ বেশি হওয়ায় আগের চাষিরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পান চাষ থেকে। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে সোনাগাজীর এই পান শিল্প।

চরসাহাভিকারী গ্রামের পানচাষি যজ্ঞেশ্বর মজুমদার জানান, তার সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই পানের বরজ। তিনি ৬০ শতক জমিতে পান চাষ করে বছরে অন্তত ২ লাখ টাকা আয় করতেন। কিন্তু বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় পান চাষ কমিয়ে সেই জমিগুলোতে অন্যান্য সবজি চাষ করেন। পাশাপাশি গরু পালন করে পরিবারের যাবতীয় খরচ মেটান।

আরেক চাষী সমর মজুমদার জানান, তিনিও একসময় পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন তিনি মাত্র ৪ কাঠা জমিতে পান চাষ করেন। পাশাপাশি গরুপালন ও কৃষিকাজ করেন। প্রায় একই কথা বলেছেন পানচাষি শেখ আহমদ, শ্রীনাথ মজুমদার, অনাথ মজুমদার, মুরালী মজুমদার ও বিমল মজুমদার। তারা আরও বলেন কৃষি অফিস থেকে যদি আধুনিক পদ্ধতিতে পান চাষের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতা পায় তাহলে পান চাষে আবারও সুদিন ফিরে আসবে।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র নাথ জানান, সোনাগাজীর চরদরবেশ ও বগাদানায় এখন ১০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। যা বিগত তিন বছরে কমেছে ৭ হেক্টর। এক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো প্রশিক্ষণ বা প্রণোদনার সুবিধা নেই। তবে চাষিরা যদি কোনো পরামর্শ চায় তখন আমরা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করি। পানচাষিরা যদি প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করে তাহলে কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

পানচাষিরা চাইলে যেকোনো সহযোগিতার আশ্বাস দেন উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ।

আরও পড়ুন: বিলুপ্তির পথে সোনাগাজীর মৎস্য উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/41393
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ