Printed on Mon May 17 2021 1:28:57 AM

স্বাধীনতার স্বীকৃতি স্মরণীয় রাখতে বাংলাদেশ-ভুটান বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
বাংলাদেশ-ভুটান
বাংলাদেশ-ভুটান
স্বাধীনতার স্বীকৃতি স্মরণীয় রাখতে বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকারমূলক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি-পিটিএ স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে আগামি ৬ ডিসেম্বর। রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশের ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে (সাবেক রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন-সুগন্ধা) এই চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ-ভুটান  পিটিএ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বর্তমান ১০০টি পণ্যের সঙ্গে নতুন আরও ১০টিসহ মোট ১১০টি কোডভুক্ত পণ্য ভুটানে শুল্কমুক্ত সুবিধায় রফতানির সুবিধা পাবে। একইভাবে বর্তমানে ১৮টি পণ্যের সঙ্গে নতুন আরও ১৬টিসহ মোট ৩৪টি কোডভুক্ত পণ্য ভুটান থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় বাংলাদেশে রফতানির সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে টি শিরিং ভার্চুয়ালি এতে উপস্থিতি থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং ভুটানের অর্থনীতি-বিষয়ক মন্ত্রী লোকনাথ শর্মা নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালে এলডিসি (স্বল্প উন্নত দেশ) থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হবে বাংলাদেশ। এর ফলে সারা বিশ্বেই এলডিসি হিসেবে পাওয়া সব বাণিজ্যিক সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। এতে বাংলাদেশকে বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সেই নেতিবাচক পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পিটিএ বা এফটিএ স্বাক্ষর করা জরুরি। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ বা পিটিও করার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভুটানের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে পিটিএ স্বাক্ষরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষরের জন্য প্রথম রাষ্ট্র ভুটান।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী রাষ্ট্র ভুটান। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন ভুটান সরকার বাংলাদেশকে এই স্বীকৃতি দেয়। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই পিটিএ স্বাক্ষরের জন্য ৬ ডিসেম্বরকে চূড়ান্ত করেছে দুই দেশ।

আরও পড়ুন- ভুটানের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা সম্প্রসারণে হচ্ছে চুক্তি

ভুটান থেকে বাংলাদেশে আসবে যেসব পণ্য তার মধ্যে দুধ, মধু, ফুল, জেলি, সয়াবিন, খনিজ পানি, কচি ভুট্টা (সবজি হিসেবে খাওয়ার জন্য), সিমেন্ট, সাবান ও পার্টিকেল বোর্ড উল্লেখযোগ্য। অপরদিকে, একই সুবিধায় বাংলাদেশ থেকে ভুটানে যাবে যেসব পণ্য সেগুলোর মধ্যে বিভিন্ন প্রকার ফলের রস, গ্রিন টি, মিনারেল ওয়াটার, প্লাইউড, শীতবস্ত্র, বস্ত্র শিল্পের কাঁচামাল উল্লেখযোগ্য বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ভুটান বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সদস্য নয়। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধায় যে ১৮টি পণ্য ভুটানকে দিয়েছিল, তা ডব্লিউটিও’র মোস্ট ফেবারিট ন্যাশন (এমএফএন) নীতি অনুসারে সব দেশকে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু পিটিএ স্বাক্ষর হওয়ার পর সেই বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে আরও পণ্য দুই দেশের তালিকায় সংযুক্ত হবে বলেও জানিয়েছে সূত্র।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশ ও ভুটান উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়বে এবং বেশি লাভবান হবে। কারণ, ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় যুক্ত হবে বাংলাদেশ। ফলে উন্নত ও উন্নয়নশীল থেকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বর্তমানে পাওয়া বাণিজ্য সুবিধা বাংলাদেশ পাবে না। সেসব সুবিধা পেতে এফটিএ বা পিটিএ করার কোনও বিকল্প নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ হচ্ছে ভুটানের দ্বিতীয় রফতানি বাজার। ভারত প্রথম। এ কারণে বাংলাদেশ-ভুটান বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেয় ভুটান। এ কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ভুটান। একই কারণে বাংলাদেশও অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে বাংলাদেশ এক দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ভুটানে রফতানি করেছে।

এর বিপরীতে ভুটান থেকে আমদানি করা হয়েছে ২৪ দশমিক ০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য; যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৭ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/26484
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ