Printed on Tue May 18 2021 2:39:08 AM

রোজা রেখে ভারতে করোনায় মৃতদের সৎকার করছে ২২ মুসলিম যুবক

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
বিশ্ব
সৎকার
সৎকার
ভারতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণ ছাড়িয়েছে সাড়ে তিন লাখ আর মৃত্যু তিন হাজারেরও বেশি। এ অবস্থায় দেশটিতে চরম মানবিক বিপর্যয় চলছে। শ্মশানে মৃতদেহের সারি। সৎকার করাও সম্ভব হচ্ছে না ঠিকমতো। এ পরিস্থিতিতেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদর্শন লখনউয়ের ২২ মুসলিম যুবক।

রমজান মাসে রোজা রেখেই করোনায় মৃতদের সৎকার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করছেন। তবে বিচার করছেন না মৃত হিন্দু না মুসলিম। মৃত যে ধর্মের, সেই ধর্মের রীতি মেনেই দাহকার্য বা কবরস্থ করছেন তারা। মানছেন করোনাবিধিও। রীতিমতো পিপিই কিট পরে তারা করোনায় মৃতদের দেহ সৎকার করছেন।

২২ জনের এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ৩৩ বছরের ইমদাদ ইমান। পেশায় ছোট ব্যবসায়ী এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার ইমদাদ থাকেন পুরনো লখনউয়ের মকবারা গোলগঞ্জ এলাকায়। এখনও পর্যন্ত তারা করোনায় মৃত মুসলিম সম্প্রদায়ের ২২ জনকে কবর দিয়েছেন। দাহ করেছেন সাত হিন্দু ধর্মাবলম্বীর মরদেহ। মূলত পরিবারের সদস্যরা সৎকার সম্পন্ন করার মতো পরিস্থিতিতে না থাকলে এগিয়ে আসছেন ইমদাদরা। পরিবারের সদস্যদের অনুমতি নিয়ে যথাযথভাবে সৎকার করছেন মৃতদেহের।

তবে এবারই প্রথম নয়, গত বছরও তারা এমন কাজ করেছেন।

ইমদাদ বলেন, গত ২১ এপ্রিল একটি ফোন আসে। ভারতনগরের সীতাপুরের বাসিন্দা এক মহিলার করোনায় মৃত্যুর কথা জানান, তারই এক প্রতিবেশী। মহিলা একাই থাকতেন। মৃত্যুর পর তিন দিন বাড়িতেই পড়ে ছিল দেহ। প্রতিবেশীরা সাহস পাচ্ছিলেন না। আমরা গিয়ে ওই মহিলার শেষকৃত্য সম্পন্ন করি।

তিনি আরও জানান, তারপর থেকেই প্রায় প্রতিদিনই নানা জায়গা থেকে ফোন পাচ্ছেন ইমদাদরা। দিন দুয়েক আগে, তাদের এক সদস্য ৪০০ কিলোমিটার দূরের প্রয়াগরাজ গিয়ে এক হিন্দু ব্যক্তির দাহকাজ সম্পন্ন করেছেন।

ইমদাদ বলেন, আমাদের এক সদস্য সিরাজের বন্ধুর মৃত্যু হয় করোনায়। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা ভাইরাসের ভয় পাচ্ছিলেন। সিরাজ প্রয়াগরাজ গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওই বন্ধুর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।

ইমদাদরা অবশ্য কোনও সরকারি সাহায্য পাচ্ছেন না। তারা সাহায্য চান না। নিজেদের ইচ্ছায় এবং উদ্যোগেই এই কাজ করছেন। তবে, তাদের এই কাজ ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। বহু প্রশংসা পাচ্ছেন তারা। আসছে নানা সাহায্যের প্রস্তাবও। ইমদাদ অবশ্য মনে করেন না, তারা বিশেষ কিছু করছেন। তার বক্তব্য, “সংকটের সময় পাশে না দাঁড়াতে পারলে, কীসের মানুষ? পাশাপাশি থাকার মানে কী?”

আরও পড়ুন: সৎকারের জন্য এক অ্যাম্বুলেন্সেই ২২ মরদেহ!

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/43126
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ