Printed on Wed May 05 2021 9:44:38 PM

ফরিদপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
সারাদেশ
হত্যার
হত্যার
ফরিদপুরে স্ত্রীকে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে স্বামী। পরে স্বামী নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ৬ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চর কৃষ্ণনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মরদেহ দুইটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. ইমারত হোসেন জানান, কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার হাট্টা হরিপুর এলাকার ওফিরউদ্দিন মন্ডলের ছেলে বিপ্লব মন্ডল (২৫) দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কাচারদিয়া একটি ইট ভাটায় ট্রলি চালানোর কাজ করে আসছেন। এই এলাকায় থাকার কারনে ইটভাটার পার্শ্ববর্তী নূরুল ইসলামের মেয়ে লামিয়ার (২০) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিপ্লব মন্ডলের।

তিনি জানান, প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে বিপ্লব ও লামিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর লামিয়ার পিতা নূরুল ইসলাম নিজের বাড়ির পাশে চর কৃষ্ণনগর এলাকাতেই একটি জায়গা কিনে বাড়ি বানিয়ে দেন ওদের (বিপ্লব ও লামিয়া) থাকার জন্য। সেখানেই বসবাস করতেন বিপ্লব ও লামিয়া।

মো. ইমারত হোসেন জানান, গত সোমবার লামিয়াকে নিয়ে বিপ্লব শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে আসেন। বুধবার দুপুরে স্ত্রী লামিয়া তার মায়ের সঙ্গে অন্যের বাড়িতে চাল ভাঙাতে যান। কিছু সময় পর বিপ্লবকে খাবার দিতে লামিয়া বাড়িতে আসেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও লামিয়া তার মায়ের কাছে চাল ভাঙতে না যাওয়ায় মা শিউলি বেগম বাড়িতে এসে দেখেন লামিয়া অচেতন হয়ে ঘরের মধ্যে পড়ে রয়েছে। শিউলি বেগমের চিৎকারে পাশের বাড়ির লোকজন ছুটে এসে লামিয়াকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক লামিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, হাসপাতাল থেকে ফিরে সবাই বিপ্লবকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে, একপর্যায়ে বিপ্লবের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পায় বিপ্লব ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় স্ত্রীর ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে রয়েছে। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

লামিয়ার মা শিউলি বেগম বলেন, আমার মেয়েকে বিপ্লব শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। পরে বিপ্লব ওর বাড়িতে গিয়ে নিজেও আত্মহত্যা করেছে। কি হয়েছিল ওদের তা আমরা বুঝতে পারিনি। দুটি প্রাণ শেষ হয়ে গেলো। ওদের এখনও কোনো সন্তান হয়নি। এভাবে ওরা চলে গেলো।

লামিয়ার পিতা নূরুল ইসলাম বলেন, ওদের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিয়ে বিয়ে দিয়েছিলাম। থাকার জন্য আমার বাড়ির পাশেই একটি জমি কিনে ঘর করে দিয়েছিলাম। কি কারনে এমন করলো বুঝতে পারলাম না।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এস আই ফুরকান হোসেন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর কলহের জের ধরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্বামী বিপ্লব নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/31166
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ