Printed on Thu Jun 30 2022 7:25:52 PM

তৈমুর আইভী লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশ
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে (নাসিক) জনগনের রায় কার পক্ষে ভোটারদের রায় যাবে তার নির্ণায়ক হতে পারে অনেকগুলো সমীকরণ। গোয়েন্দার একটি প্রতিবেদনে নারায়ণঞ্জে মেয়র পদে লড়াই করা প্রধান দুই প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৈমূর আলম খন্দকার কোন হিসাব-নিকাশে এগিয়ে ও পিছিয়ে আছেন তা উঠে আসে। নাসিকের ভোটে তাদের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। নারায়ণগঞ্জ সদরের ৮টি ওয়ার্ড ও সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডে তুলনামূলক কিছুটা এগিয়ে আইভী। আর বন্দরের ৯ ওয়ার্ডে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার আভাস মিলেছে।

প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে, নির্বাচনে হেফাজত ও জামায়াতের অধিকাংশ ভোট আইভীর বিপক্ষে যাবে। এ ছাড়া সেখানে জাতীয় পার্টির আনুমানিক ৩০ হাজার ভোট রয়েছে। এই ভোটের অধিকাংশ আইভীর বিপক্ষে যাবে। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটিতে আড়াই লাখের মতো নারী ভোটার রয়েছেন। অধিকাংশ নারী ভোটারের ভোট আইভীর নৌকার বাক্সে পড়তে পারে। এ ছাড়া ৫০ হাজারের মতো হিন্দু ভোটার রয়েছে। এর অধিকাংশ ভোটও আইভীর পক্ষে যাবে।

দেশে-বিদেশে নানা সময় ভোটের মাঠে চিত্র নিয়ে গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। কখনও ভোটের ফলের সঙ্গে প্রতিবেদনের তথ্য মিলে যায়। আবার কখনও ভিন্নও হয়। প্রতিবেদনের আভাসের সঙ্গে ভোটের মাঠের আসল চিত্রের পুরোপুরি অমিল হয় অনেক সময়। তবে যারা প্রতিবেদন তৈরি করেন তাদের দায়িত্ব হলো মাঠের চিত্র সংশ্নিষ্ট দপ্তরকে জানানো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আইভীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কাস্টিং ভোটের ৫২ শতাংশ তিনি পেতে পারেন।

প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়, ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বিশ্নেষণ করে গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিশ্নেষণ ও মূল্যায়নের পরিবর্তন হতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে আইভী ও তৈমূরের অবস্থান তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ১ নম্বর ওয়ার্ডে নৌকা এগিয়ে রয়েছে। ওই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের। দুই নম্বর ওয়ার্ডে হাতি মার্কার প্রার্থী এগিয়ে। সেখানকার বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি দলীয়। ৩ নম্বর ওয়ার্ডেও হাতি মার্কা এগিয়ে। সেখানকার বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের। এই ওয়ার্ড থেকে চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের সাজাপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদল নির্বাচন করছেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে আছে হাতি প্রতীক। ওই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের। এই ওয়ার্ডে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি নূর হোসেনের ভাই মনিরুজ্জামান নির্বাচন করছেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নৌকার প্রার্থী এগিয়ে আছেন। সেখানকার বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি দলীয়। ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও এগিয়ে নৌকার প্রার্থী। সেখানকার বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর মারা গেছেন। এ ছাড়া ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডেও প্রধান দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছেন হাতি প্রতীকের প্রার্থী। ওই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি দলীয়। তিনি এবার নির্বাচন করছেন না। ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডেও এগিয়ে হাতি। ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে আছে নৌকা। এর মধ্যে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে জাতীয় পার্টির কাউন্সিলর, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাসদের ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আইভীর নিজ বাড়ি। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের। ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে আছে হাতি। প্রতিবেদনে নাসিক নির্বাচনে বন্দর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে প্রত্যেকটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার কথা বলা হয়। বন্দরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের। ২০, ২১, ২২, ২৫, ২৬, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপির। ১৯ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাতীয় পার্টির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দর শিল্প এলাকা সেলিম ওসমানের সংসদীয় এলাকা। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ শামীম ওসমানের সংসদীয় আসন। এ এলাকায় সেটেলার ও ভাসমান ভোটার বেশি। এখানে শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সমর্থিত নেতাকর্মীরা আইভীর পক্ষে কাজ করেনি। এতে সেখানকার ভোটের একটি অংশ আইভীর বিপক্ষে যাবে। এ ছাড়া শামীম ওসমান এবারের নির্বাচনে তার সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচন করতে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এতে গত বছরের চেয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী বেশি। কাউন্সিলর প্রার্থীরা অনেকে 'লোক দেখানো' আইভীর পক্ষে কাজ করেছেন। এ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক ও হয়রানি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, তৈমূরের নিজ ভোট, আওয়ামী লীগের অভিমানী ভোট, জামায়াত ও হেফাজত তার পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া তৈমূর বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীকে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা চালিয়েছেন। তার পক্ষে ৩-৪ জনের ছোট ছোট গ্রুপ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়েছে। আইভীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে শোডাউন হলে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার প্রবণতা কম ছিল।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/63396
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ