Printed on Sun May 09 2021 8:25:41 AM

গরম বাতাসে কপাল পুড়েছে ৩ লাখ কৃষকের, ক্ষতি ৩৩৪ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
৩৩৪ কোটি
৩৩৪ কোটি
বোরো ধানসহ ছয়টি ফসলের জমির ওপর দিয়ে হঠাৎ বয়ে যাওয়া গরম বাতাসে (হিটশক) তিন লাখেরও বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৩৩৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ফসল পুড়েছে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

হিটশকের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আরো দেখা গেছে, ৩৬টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই হিটশকে ধানের পাশাপাশি ভুট্টা, সবজি, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী ও কলার ফলন নষ্ট হয়েছে।

অতিরিক্ত গরমে মানুষ যেমন হিটস্ট্রোক করে, তীব্র দাবদাহে ধানগাছও এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেটাকে হিটশক বা হিট ইনজুরি বলে।

গত ৪ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন জেলায় বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে এ হিটশকে। এটিকে কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন চ্যালেঞ্জ বলে দেখছেন ধান গবেষকরা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য আরও বলছে, সব ফসল মিলে টাকার অংকে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে ৩২৮ কোটি টাকার। এরপর প্রায় ৪ কোটি টাকার ভুট্টা নষ্ট হয়েছে। এতে ৩ লাখ ১০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, এটি যেহেতু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আউশে প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করবো। ইতোমধ্যে আমাদের তালিকাও তৈরি করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানের। এরপরই ভুট্টা। আর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকা এবং গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ।

এর আগে হিটশকের পরপরই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, পুরোপুরি ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করা না গেলেও হিটশকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ৪৮ হাজার হেক্টর জমি বোরো ধান আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আবাদের ক্ষতি হয়েছে। সে হিসাবে ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হতে পারে বলে প্রাথমিক আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর সারাদেশের মতো কালবৈশাখীর ঝড়ো বাতাস শুরু হয় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতেও। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বাতাস ছিল অতিরিক্ত গরম। দেশের অধিকাংশ এলাকায় এরপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি নামে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সেসব এলাকায় বৃষ্টি হয়নি। পরদিন ৫ এপ্রিল সকালে ক্ষেতে গিয়ে মাথায় হাত পড়ে কৃষকের। সূর্যের প্রখরতা যত বেড়েছে, ততই বোরো ধানের শীষ মরতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় একই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি কী ঘটেছে তা পরিষ্কার ছিলেন না কৃষকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এ ধরনের ঘটনা নতুন না হলেও সাধারণ মানুষের কাছে বেশি পরিচিত নয়। কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের এটি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ।

গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রকোনার তিনটি উপজেলা পরিদর্শন করেছেন ৬ এপ্রিল। এই দলে রয়েছেন ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নজমুল বারী, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশিক ইকবাল খান এবং উদ্ভিদ শরীরতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান।

নাজমুল বারী বলেন, ‘অতিরিক্ত তাপমাত্রা বাড়া অথবা কমা- দুই কারণে হিটশক বা হিট ইনজুরি হয়ে থাকে। ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে হিটশকের মাত্রা ধরা হয়। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে মার্চের শেষ দিক থেকে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ধানের ফ্লাওয়ারিং স্টেজে (ফলনের প্রাথমিক পর্যায়) এটা ক্ষতি খুব বেশি করে। এ সময়কে সবচেয়ে ভার্নারেবল অবস্থা ধরি আমরা। আর এ দফায় গরম বাতাস এমন সময় হয়েছে, যখন ওইসব এলাকায় ফ্লাওয়ারিং স্টেজ চলছিল। তাই ওইসব ধানের শীষ থেকে পানি বেরিয়ে গেছে। শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

নাজমুল বারী বলেন, কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের এটি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। এ ঘটনা আগেও হয়েছে। তবে এতো বিস্তর এলাকায় ক্ষতি হয়নি।

আরও পড়ুন: নীলফামারীতে বোরো বীজ নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/41915
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ