Printed on Sat Jul 31 2021 5:46:26 AM

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: নিঝুম দ্বীপের ৬ হাজার হরিণের জীবন বিপন্ন

ফয়জুল ইসলাম জাহান, নোয়াখালী
সারাদেশ
৬ হাজার
৬ হাজার
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের মধ্যে উঁচু জায়গা না থাকায় ৬ হাজার হরিণের জীবন বিপন্নের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া খাদ্যাভাব ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের ভয় তো রয়েছেই। অনেক হরিণ জীবন বাঁচাতে লোকালয়ে ও অন্য চরে আশ্রয় নিচ্ছে।

নিঝুম দ্বীপ বন বিভাগ জাহাজমারা রেঞ্জ কর্মমকর্তা এস এম সাইফুর রহমান জানান, ২০০১ সালে নোয়াখালীর দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপ ও জাহাজমারা ইউনিয়নের ১০টি চর নিয়ে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। এর আয়তন ৪০ হাজার ৩৯০ বর্গ কিলোমিটার। নিঝুম দ্বীপের বনে ৪ হাজার হরিণের সুপেয় পানি পানের জন্য অনেক আগে ৪টি বড় পুকুর খনন করা হয়েছিল। বর্ষা মৌসুমে হরিণের দল এ সব পুকুর পাড়ের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতো।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন যাবত এই সব পুকুরের খনন না হওয়ায় পুকুর পাড় অনেকটা সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে পুকুর পাড়গুলো তলিয়ে যাওয়ায় আশ্রয় নেয়ার জন্য হরিণের দল বিভিন্ন চর ও লোকালয়ে ছুটছে। জরুরি ভিত্তিতে সুপেয় পানির পুকুরগুলো খনন করে চারপাশ উঁচু করলে আগামীতে বন্যার হাত থেকে হরিণ ও অন্যান্য বণ্য প্রাণী রক্ষা করা যেতে পারে।

হরিণের

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. দিনাজ উদ্দিন জানান, হরিণের আশ্রয়ের জন্য তেমন কোনো উঁচু জায়গা নেই। বেশির ভাগ হরিণ গাছের ডালের সাথে মুখ উপরে তুলে পানিতে আছে। বনের মধ্যে বন বিভাগ থেকে তৈরি কয়েকটি পুকুর ও পুকুরের পাড়ও সমতল ভূমিতে পরিণত হওয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারে বর্তমানে হরিণের আশ্রয় নেয়ার মতো কোন জায়গা নেই। নিঝুম দ্বীপের হরিণকে বাঁচাতে উঁচু জায়গা নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা খুব জরুরি।

নিঝুমদ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান মেহরাজ উদ্দিন জানান, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে কোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (বেড়িবাঁধ) নেই। যার ফলে নদীতে জোয়ার এলে মেঘনার কোল ঘেঁষা নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৬০ হাজার মানুষ জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সঙ্গে নিঝুমদ্বীপের হরিণ ও অন্যান্য প্রাণীও ভেসে যায়। এ সব হরিণ বাঁচাতে হলে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং হরিণের আবাসস্থলগুলোতে উঁচু মাটির কিল্লা তৈরি করা দরকার।

হরিণ

জোয়ারের পানিতে জাতীয় উদ্যান নিঝুম দ্বীপ তলিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বিপুল কৃষ্ণ দাস জানান, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের বিভিন্ন চরে প্রায় ৬ হাজার হরিণ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ৭-৮ ফুট উঁচু জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় হরিণের আবাসস্থল তলিয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় উদ্যানের উন্নয়নে এবং পরিবেশ বান্ধব পর্যটন প্রকল্প হাতে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও হরিণের সুপেয় পানির পুকুর খনন করা অত্যাবশ্যক। প্রকল্পগুলো নিঝুম দ্বীপের হরিণ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন: জলোচ্ছ্বাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে সোহম

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/45297
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ