Printed on Tue Sep 21 2021 9:20:57 AM

‌‘রাগে’ স্ত্রীকে তালাক দেয়ায় সমাজ বিচ্ছিন্ন দস্পতি, সমাধান করলেন ইউএনও

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
সারাদেশ
দস্পতি
দস্পতি
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় মৌখিক তিন তালাকের জেরে সমাজপতিরা এক দম্পতিকে দুই মাস ধরে একঘরে বন্দী রেখেছে। ১২ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে মসজিদের ইমাম ও সমাজপতিদের নিয়ে বৈঠকে বিষয়টি সমাধান করেছেন উপজেলা নির্বাহীক কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান।

ঘটনাটি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের ছলিমনগর গ্রামে।

এর আগে গত ৯ আগস্ট ওই দম্পতি দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ১০ জন সমাজপতির নামে লিখিত অভিযোগ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রত্যয় হাসান বলেন, তালাকের যে প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে তাতে তালাক হয় না। এটি পুরোই ভুল বোঝাবুঝি। দম্পতিদের সঙ্গে ইমাম ও সমাজপতিদের মিাংসা করে দেয়া হয়েছে। আশা করি আগামীতে এই ঘটনাটি পুনরায় ঘটবে না।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছলিমনগর গ্রামের ওই দম্পতি প্রায় ৩৫ বছর ধরে সংসার করে আসছেন। তাদের চার সন্তান ও নাতি-নাতনী আছে। দরিদ্র ওই পরিবারের টানাটানির সংসার। দুই মাস আগে ঝগড়া-বিবাদের সময় স্ত্রীকে তিন তালাক দেন স্বামী।

বিষয়টি জানাজানি হলে ছলিমনগর জামে মসজিদের সভাপতি নাসিরউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর ইসলাম, সদস্য শাহজাহান আলী, ঈমান আলী, হাফেজ মোস্তফা কামাল, জুলহাস, গফুর আজাদ, সুরমান মেম্বার, আমির চাঁদ, আব্দুর রশিদ, দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন সমাজপতি বৈঠক করেন।

বৈঠকে সমাজপতিরা অন্য গ্রাম থেকে মুফতি আনোয়ার হোসাইন ও হাফেজ মোস্তফাকে আনেন। তারা ফতোয়া দেন, স্ত্রীকে হিল্লা বিয়ে দেয়ার পর আবার বিয়ে করে সংসার করতে পারবে। হিল্লা বিয়ে দেয়ার আগে সংসার এবং একসঙ্গে বসবাস করতে পারবেন না ওই দম্পতি।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে সমাজপতিদের সিদ্ধান্ত না মেনে খানসামা উপজেলার এক মাওলানার বাসায় গিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন এ দম্পতি। এতে সমাজপতিরা ক্ষুব্ধ হন। পরে ছলিমনগর জামে মসজিদের সব সদস্যকে ওই দম্পতি ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেন সমাজপতিরা। সেই সঙ্গে তাদের বাড়িতে সমাজের অন্যদের যাতায়াত, জিনিসপত্র আদান-প্রদান ও হাটবাজারে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। এ অবস্থায় গ্রামের দোকানিরা ওই দম্পতির পরিবারের সদস্যদের কাছে পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেন। সমাজপতিদের চাপে দুই মাস ধরে ঘরবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তারা।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসী, ইমাম ও সমাজপতিদের নিকট তালাক সম্পর্কে বিষদ আইনের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। ইউএনওর হস্তক্ষেপে এর খুল বোঝাবুঝির অবসান হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন, সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র, ইমাম ও সমাজপতিরা।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/50892
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ